বিবেক জাগ্রত গণপাঠ্য ছড়া- 'ভেজাল'

বিবেক জাগ্রত গণপাঠ্য ছড়া- 'ভেজাল'

(বিবেক জাগ্রত গণপাঠ্য ছড়া)


ভেজাল
মো. রহমত উল্লাহ্‌


নূনে ভেজাল তেলে ভেজাল
ভেজাল মাছে মাংসে
দুধে ভেজাল গুড়ে ভেজাল
মিষ্টি মধু পাংসে!
ফলে ভেজাল জলে ভেজাল
ভেজাল সকল খাদ্যে
ভেজাল বিহীন খাবার খাবে
নেই কারো তা সাধ্যে!


হাওয়া ভেজাল দাওয়া ভেজাল
ভেজাল সকল ক্ষেত্রে
ভেজাল নেতা দেয় যে ধুলা
সাধারণের নেত্রে!


কথায় ভেজাল কাজে ভেজাল
ভেজাল নাচে গানে
ইতিহাসের খাতায় ভেজাল
ভেজাল খবর কানে!


ভেজাল সুরত ভেজাল পোশাক
ভেজাল প্রেমিক প্রেমিকা
ভেজাল কান্না ভেজাল হাসি
ভেজাল বন্ধুর ভূমিকা!


শ্রদ্ধা ভেজাল স্নেহ ভেজাল
ভেজাল ভালোবাসা
ভেজাল দিয়েই করে সবাই
আসল পাওয়ার আশা!


: ভয়াবহ ভেজাল থেকে
মুক্ত হবো কীভাবে?


: মানুষ গুলু আসল হলেই
ভেজাল বিহীন সব হবে।


বিবেক জাগ্রত গণপাঠ্য ছড়া- 'প্রশ্ন ফাঁস' -নরসিংদীর কথা- ০৯ ডিসেম্বর ২০০৩

বিবেক জাগ্রত গণপাঠ্য ছড়া- 'প্রশ্ন ফাঁস' -নরসিংদীর কথা- ০৯ ডিসেম্বর ২০০৩

IMG_20180425_132048_2(বিবেক জাগ্রত গণপাঠ্য ছড়া)


প্রশ্ন ফাঁস
মো. রহমত উল্লাহ্‌


ভর্তি-নিয়োগ-একাডেমিক
সব পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস
অসৎ লোকের পোয়া বারো
সৎ-মেধাবীর গলায় ফাঁস!


অযোগ্য আর অসতেরা
পাচ্ছে সনদ, ক্ষমতা
কর্মে-কথায় নেইযে তাদের
দক্ষতা ও সততা!


এসব দিয়ে হয় না কোন
দেশ ও জাতির উন্নয়ন
এরা কেবল হতে পারে
দুর্নীতিতে চেম্পিয়ন!


: কিসের নেশায় করছি হজম
প্রশ্ন ফাঁসের খাস খবর
আমরা সবাই খোঁড়ছি না কি
দেশ ও জাতির শেষ কবর??


[সংশোধিত- ২০১৭]

কিশলয়ে বিজয়দিবস উদযাপন

কিশলয়ে বিজয়দিবস উদযাপন
কিশলয় বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজে বিজয় দিবস উদযাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক | দৈনিক শিক্ষা ডটকম। ডিসেম্বর ১৭, ২০১৭ | স্কুল
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে অবস্থিত কিশলয় বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজে স্বাধীনতার ৪৬ বছর পূর্তিতে আনন্দ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে মহান বিজয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষে প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচ, কবিতা আবৃতি, রচনা লিখন ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
শনিবার (১৬ ডিসেম্বর) সকাল অ্যাসেমব্লি ও জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচ। এতে কলেজ শাখার প্রতিনিধিত্বকারী সবুজ দলের ক্যাপ্টেন আফরোজা আক্তার (একাদশ- বিজ্ঞান) এবং স্কুল শাখার প্রতিনিধিত্বকারী লাল দলের ক্যাপ্টেন সুৃমাইয়া শিমু (দশম- বাণিজ্য) । খেলায় ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হয় সানজিদা আক্তার (সপ্তম- মেঘনা)। অন্যদিকে সকল শ্রেণীর শিশু-কিশোরদের শাখা ভিত্তিক চিত্রাংকন ও নির্বাচিত শিরোনামে রচনা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

সকাল সাড়ে দশটায় প্রতিষ্ঠানের ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা বিষয়ক শিক্ষক মো. মিজানুর রহমানের কুরআন তেলাওয়াতের পর শিক্ষক-শিক্ষার্থীদ ও অভিভাবকদের অংশগ্রহণে আমাদের বিরচিত মুক্তিযোদ্ধ ও স্বাধীনতার বীরত্ব গাঁথা নিয়ে গুরূত্বপূর্ণ আলোচনা করেন গভার্নিং বডির সম্মানিত সদস্য মো. আলমগীর হোসেন।
সভাপতির বক্তব্যে প্রতিষ্ঠান প্রধান বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও কলামিস্ট, সুরকার ও গীতিকার অধ্যক্ষ মো. রহমত উল্লাহ্‌ বলেন, “বিজয় দিবসের তাৎপর্য যদি বুকে মধ্যে ধারন করা না যায় তাহলে বিজয় দিবস পালনের কোন অর্থ থাকেনা। দেশ স্বাধীনের পরে বিভিন্ন চক্রান্তের কারণে সেই চেতনা সঠিকভাবে ধারণ করতে আমরা অনেকেই ব্যর্থ হয়েছি বলেই আমাদের চুড়ান্ত বিজয় এখনো অর্জিত হয় নি। অথর্নৈতিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, সামাজিক মুক্তি অর্জিত হয়নি। কারণ বিভিন্ন সময় আমরা বাধা গ্রস্ত হয়েছি, পিছপা হয়েছি, চেতনাহীন রয়েছি, যড়যন্ত্রে শিকার হয়েছি। আমরা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে পরিপূর্ণতা ও সম্বৃদ্ধি লাভ করতে পারিনি। সাংস্কৃতিকভাবেও এখনো আমাদের উপর অনেক আগ্রাসন ছলছে। আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য আমরা ধরে রাখতে পারিনি, চর্চা করতে পারিন, সম্বৃদ্ধ করতে পারিনি, বিকশিত করতে পারিনি, উজ্জল করতে পারিনি, শাণিত করতে পারিনি, অন্যদের কাছে আমাদের সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য তুলে ধরতে পারিনি বলেই অন্যদের সাংস্কৃতি আজ আমাদের উপর ঝেকে বসেছে। এখন গানের মাধ্যমে আফসোস করে আমরা বলি- একতারা বাজাইও না, দোতারা বাজাইও না। একতারা বাজাইলে মনে পড়ে যায় একদিন বাঙালী ছিলাম রে। তার মানে সাংস্কৃতিতে আজ আমরা অনেকাংশে অবাঙালি হয়ে গেছি।

তিনি আরও বলেন, এখন অনুকূল পরিবেশ হয়েছে, এখন আমাদের সচেতন হবার সময়। এখন সঠিক ইতিহাস জানার সুযোগ হয়েছে। এখন আমাদের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা শত্রুদের আমরা চিনতে পারছি। তাদের বিচার করতে পারছি। ডিজিটাল দেশের অবাধ তথ্যপ্রবাহের সুযোগে তাদের স্বরূপ উন্মুচিত হচ্ছে। এখন আমাদের সক্রিয় হবার সময়। সবগুলো মানুষ একটু একটু করে নিষ্কৃয় হলে পুরো জাতি নিষ্কৃয় হয়ে যায়। আবার সবগুলো মানুষ একটু একটু করে সক্রিয় হলে পুরো জাতি সক্রিয় হয়ে যায়। তাই আমাদের শিক্ষার্থীরা সচেতন হবে, আমাদের শিক্ষার্থীরা সক্রিয় হবে, পুরো জাতিকে পথ দেখাবে, আলোকিত করবে, ৭১ এর স্বাধীনতার পূনর্তা আনবে।”
আলোচনা শেষে বিভিন্ন ইভেন্টে বিজয়ীদের শিক্ষার্থীদের মাঝে অধ্যক্ষের সাথে পুরস্কার বিতরণ করেন কলেজ শাখার ইনচার্জ আফরোজা বেগম, বিদ্যালয় দিবা শাখার সহকারী প্রধান শিক্ষক জনাব মোঃ আইয়ুব আলী, প্রভাতি শাখার সহকারী প্রধান শিক্ষক জনাব রিতা মমতাজ, কলেজ শাখার শিক্ষক প্রতিনিধি জনাব বিমান কুমার চক্রবর্ত্তী, গভার্নিং বডির সম্মানিত সদস্য জনাব মুজিবুল হক ও অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ।

http://m.dainikshiksha.com/%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E0%A6%B2%E0%A7%9F-%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%BE-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A7%9F%E0%A7%87-%E0%A6%AC/130643/?fdx_switcher=true

শিশুতোষ গল্প- 'টুনটুনির ছানা'

শিশুতোষ গল্প- 'টুনটুনির ছানা'

টুনটুনির ছানা


মো. রহমত উল্লাহ্‌


বাড়ির উঠানে বেগুন গাছ। উঠানে খেলা করে মুনা। খেয়াল করে টুনটুনির আনাগুনা। দু’টি টুনটুনি। ফুড়ুত ফুড়ুত আসে। বেগুন গাছে বসে। লুকায় পাতার নিচে। চুপচাপ থাকে। আবার ফুড়ুত ফুড়ুত যায়। গাছের কাছে যায় মুনা। দেখে, টুনটুনির বাসা। অনেক খুশি হয় সে।


কয়েকদিন পর। বাসা দেখতে আসে মুনা। ফুড়ুত ফুড়ুত। উড়ে যায় টুনটুনি। মুনা উঁকি দেয় বাসায়। দেখে, সাদা দু’টি ডিম। ওয়াও! আরো খুশি হয় সে।


আরো কয়েকদিন পর। ডিম দেখতে আসে মুনা। ফুড়ুত ফুড়ুত। উড়ে যায় টুনটুনি। মুনা উঁকি দেয় বাসায়। দেখে, ফুটফুটে দু’টি ছানা। আলুর মতোগোল গোল। লালচে গায়ের রং।  দেখা যায় নাপা। ইঁদুরের মতো হা করে। চিঁউ চিঁউ করে।ওয়াও! আরো খুশি হয় সে। মনেমনে বলে, বড় হোক। তারপর নিবো।  খাঁচায় রাখবো।  খাবার দিবো। পানি দিবো। লালন করবো।


কিছুদিন পর। ছানাদের দেখতে আসে মুনা। ফুড়ুত ফুড়ুত। উড়ে যায় টুনটুনি। মুনা উঁকি দেয় বাসায়। দেখে, বড় হয়নি ছানারা। কিছুটা লুম হয়েছে গায়ে। তালের শুকনা বিচির মতো। কিছুটা বাদামি হয়েছে রং। নাড়ানাড়ি করে পাখা। হা করে বার বার। ডাকে চিঁউ চিঁউ করে। ওয়াও, ওয়াও! খুব ভালো লাগে মুনার। কথা বলেনিজে নিজে। আরো বড় হোক। তারপর নিবো।


আরো কিছু দিন পর। ছানাদের দেখতে আসে মুনা। ফুড়ুত ফুড়ুত। উড়ে যায় টুনটুনি। মুনা উঁকি দেয় বাসায়। দেখে, ছানাদের।  কিছুটা বড় হয়েছে ছানারা। বড় হয়েছে গায়ের লুম। খড়ের মতোহয়েছে রং। কিছুটা বড় হয়েছে পালক। ওয়াও, ওয়াও!  আরো ভালো লাগে মুনার। কথা বলেএকা একা। আর একটুবড় হোক। তারপরই নিয়ে নিবো। রাখবো ভাইয়ার খাঁচাটায়।  খালিইতো পড়ে আছে সেটি।  চমক লাগাবো ভাইয়াকে।


দু'একদিন পর। ছানাদেরনিতে আসে মুনা। উড়ে না টুনটুনি। করেনা ফুড়ুত ফুড়ুত। মুনা উঁকি দেয় বাসায়। না, ছানারা নেই।আফসোস করে।  ইস, চলে গেছে। সেদিন নিয়ে নিতাম যদি। মন খারাপ হয় মুনার। অনেক দিনের সখ। পাখি লালন করবে। রাখবে খঁচায়। খাবার দিবে। পানি দিবে। কাছে থেকে দেখবে। কীভাবে খায়। কীভাবে ডাকে। কীভাবে খেলা করে। তা আর হলো না। ভাবে, কী করা যায় এখন।জাগে অনেক রাত।


পরদিন সকাল। উঠানে বসে আছে মুনা। দূরে রেখেছে পাখির খাঁচাটা। খুলে রেখেছে খাঁচার দুয়ার। ভিতরে দিয়েছে পাখিদের খাবার। তাকিয়ে আছে খাঁচার দিকে। আসে কি না পাখি। ঢুকে কি না খাঁচায়। দেখে, একটি পাখি এসেছে। খুব খুশি হয় মুনা। খাঁচার পাশে বসে পাখিটা। তাকায় খাঁচার দিকে। খাবার দেখে। খাঁচায় ঢুকে না। উড়ে যায় দূরে। মন খারাপ হয় মুনার।


তার পরদিন সকাল। উঠানে বসে আছে মুনা। গত দিনের মতো। দূরে রেখেছে পাখির খাঁচা। খুলে রেখেছে খাঁচার দুয়ার। ভিতরে দিয়েছে পাখিদের খাবার। আসেপাশেও দিয়েছে কিছু। তাকিয়ে আছে খাঁচার দিকে। আসে কি না পাখি। ঢুকে কি না খাঁচায়। দেখে, দু’টি পাখি এসেছে। বসেছে খাঁচার পাশে। খেয়ে চলেছে খাবার। খুব খুশি হয় মুনা। পাখিরা ডাকাডাকি করে। আরো পাখি আসে। খাবার খায়। নাচানাচি করে। আরো খুশি হয় মুনা। খেলা করে পাখিরা। তবে খাঁচায় ঢুকে না। উড়ে যায় খাবার শেষে।


এভাবেই চলে কিছুদিন। আসে অনেক পাখি। খুশি হয় মুনা। ভাব হয় পাখিদের সাথে। সে কাছে যায় পাখিদের। উড়ে যায়না পাখিরা। ভয় পায়না তাকে। আপন হয় তারা। অনেক ভালো লাগে মুনার। ভালোলাগে পাখিদের উড়া উড়ি।


বেশ কয়েকদিন পর। টুনটুনি আসে বেগুন গাছে। খেয়াল করে মুনা। ভাবে অনেক কিছু। টুনটুনি আবার ডিম দিবে। আবার ছানা হবে। ছানারা বড় হবে। আকাশে উড়ে যাবে।  ছানাদের ধরবে নামুনা। আটক করবে না খাঁচায়।<


[সংশোধিত- ডিসেম্বর ২০১৭]


(শিশুদের জন্য লেখা যুক্তবর্ণ বিহীন এই গল্পটির কোন বাক্যে ৪টির অধিক শব্দ নেই।)

শিশুতোষ গল্প- শহিদমিনার

শিশুতোষ গল্প- শহিদমিনার

শহিদমিনার

মো. রহমত উল্লাহ্

ফুল জোগাড় করছে তিনজনে। বাড়ির পাশেই শিমুল গাছ। গাছের নিচে অনেক ফুল। তবে এগুলো তাজা নয়। তাজা ফুল চাই। শহিদমিনারে যাবে কাল। খুব ভোরে। ফুল দিবে। কী করা যায়। অনেক বড় শিমুলগাছ। সব ফুল আগডালে। গাছেই উঠা যায়না। আগডালে যাওয়াতো দূরের কথা। কী করা যায়? এগিয়ে যায় বাঁশবাগানের দিকে।



বিশাল বাঁশবাগান।পাখিদের কলরব। এখানে কয়েকটা পলাশগাছ। বেশি বড় হয়নি এখনো। তবে ফুল দিয়েছে অনেক। লাল টকটকে ফুল। আগুনের মতো ঝলঝল করে। মন ভরে উঠে। তবে হাতের নাগালে নয়। সামান্য উপরে। একটা চিকন ডাল। এতে অনেক ফুল। নাগাল পাওয়া যায় না। কী করা যায়?



নাসিফেরকাঁধে উঠে নায়িম। নাসিফ মোটা। নায়িম পাতলা। বয়সে প্রায় সমান। সাত কি আট। সে তুলনায় ছোট মুনা। তবে সে চালাক বেশি। খুব হাসিখুশি। সে-ই বলেছে, কাঁধে উঠো। নাসিফের কাঁধে নায়িম। নায়িমের নাগালে পলাশ ফুল। ছিড়ে আর ছিড়ে। দেয় মুনার হাতে। সবাই খুব খুশি। নেমে আসে নায়িম। অনেক ফুল। ভাগাভাগি করে তিনজনে। তবে আরো ফুল চাই। অন্য ফুল। কী করা যায়? কী করা যায়? মুনা বলে, বাড়ি চলো। এখনই রাত হবে।



বাড়ি ফিরছে তিনজন। পথের পাশে রানিদের বাড়ি। তাদের কলপাড়ে ফুলগাছ। জবাফুল। অনেক ফুটেছে। লাল হয়ে আছে গাছ। নুয়ে আছে মাটির কাছাকাছি। দৌড়ে যায় মুনা। ছিঁড়ে নেয় জবাফুল। অনেক গুলো নেয়। ভাগাভাগি করে। হাঁটা দেয় বাড়ির দিকে। কথা হয় আবার। দেখা হবে কাল ভোরে।



পরদিন সকাল। একশে ফেবরুয়ারি। শহিদদিবস। বটতলায় মিলে তিনজনে।  হাতে হাতে ফুল। তাড়াতাড়ি হাঁটে। দেরি হয়ে গেছে। সবার আগে মুনা। আসে খালের পাড়ে। ওপারে কলেজ। কলেজের মাঠে শহিদমিনার। যেতে হবে সেখানে। এপারে নেই তেমন কিছু। মাত্র কয়েকটা বাড়ি। খালের উপরে বাঁশের সাঁকু। খুঁটির উপরে একটামাত্র বাঁশ। এতেই যাওয়া আসা। বড়রা একা একা পারে। ছোটরা একা একা পারেনা। যেতে হয় বড়দের সাথে। হাত ধরে ধরে।



পথের দিকে তাকায় তিনজনে। আসেন কিনা বড়রা কেউ। নাহ, কেউ আসে না। চলে গেছে সবাই। পার হওয়া যাবে না সাঁকু। যাওয়া যাবে না ওপারে। ফুল দেওয়া হবে না শহিদমিনারে। কী করা যায়? কী করা যায় এখন? মুখ খুলে মুনা। চলো আমাদের বাড়ি যাই। দেখি, কী করা যায়। হাঁটে মুনাদের বাড়ির দিকে।



মুনাদের বাড়ির উঠান। খুঁটি গাড়ে তিনজনে মিলে। তিনটি খুঁটি পাশাপাশি। মাঝে বড় একটি। দুইপাশে ছোট দুইটি। মায়ের ওড়না আনে মুনা। কালো ওড়না। ছড়িয়ে দেয় খুঁটির উপর। মনে হয় শহিদমিনার। এতেই ফুল দেয় তিনজনে। দাঁড়িয়ে থাকে চুপচাপ। মুখ খুলে নায়িম। এমন হবে না আগামী বছর। আগেই বানাবো শহিদমিনার। মাঠের বটতলায়। বানাবো আরো ভালো করে। ফুল দিবো সেখানেই। নাসিফ বলে, তাই হবে। সেখানেই ফুল দিবো প্রতিবার। মুনা বলে, তাই হবে। সবাইকে নিবো আমাদের সাথে।<


[সংশোধিত- নভেম্বর ২০১৭]


 (শিশুদের জন্য লেখা এই গল্পের কোন বাক্যে ৪ টির বেশি শব্দ নেই এবং কোন শব্দে যুক্তবর্ণ নেই।)

শিশুতোষ গল্প- 'পাখি তাড়ানো'

শিশুতোষ গল্প- 'পাখি তাড়ানো'

পাখি তাড়ানো


মো. রহমত উল্লাহ্


পাখি তাড়ায় পনির। কয়েকদিন ধরে এটি তার কাজ। সকাল, দুপুর, বিকেল। পাখি আসে ঝাঁকে ঝাঁকে। ছোট ছোট পাখি। খেয়ে যায় ধান। পাকাধান যেন সোনার দানা। জমির আইলে পনির। হাততালি দেয় জোরে। উড়ে যায় কাছের পাখিরা। গিয়ে বসে আরেক পাশে। শুরু করে ধান খাওয়া। পনির যায় সেখানে। হাততালি দেয় আবার। উড়ে যায় সেখানের পাখি। বসে গিয়ে আরেক পাশে। শুরু করে ধান খাওয়া। পনির যায় সেই পাশে। হাততালি দেয়। হিস... করে। পাখিরা যায় আগের পাশে। এভাবেই চলে তার কাজ। খুব রাগ ধরে। ইস, ভালো লাগে না। কবে যে কাটা হবে ধান। আর কত ছোটাছুটি। আর কত হাততালি।



পরদিন। আইলে দাঁড়ায় পনির। বাঁশি বাজায়। পুর, পুর, পুর...। উড়ে যায় পাশের পাখিরা। বসে গিয়ে আরেক পাশে। সেই পাশে যায় পনির। বাঁশি বাজায় আবার। আগের পাশে যায় পাখি। এভাবেই চলে। পনিরের পাখি তাড়ানো। আর পাখিদের ধান খাওয়া। কী করবে, ভাবে পনির। ভাবে আর পাখি তাড়ায়। লেগে যায় পানি পিপাসা। পনিরের বয়স আট বছর। গায়ের রং ফরসা। সুঠাম দেহ। কালো চুল। ডাগর চোখ। বড় কান। সবল হাত। উঁচু বুক। মজবুত পা। 



পরদিন। গুলতি নিয়ে আসে পনির। চুপচাপ বসে থাকে আইলে। উড়ে আসে পাখির দল। খাওয়া শুরু করে ধান। পনির তাক করে গুলতি। ছোট ছোট অনেক পাখি। লাগবে কোনোটার গায়ে। জোরে টানে রাবার। ছুড়ে মারবেল গুলি। উড়ে যায় পাখির দল।  খেতের ভিতর যায় পনির। দেখে ছটফট করছে চড়ুই। পনির হাতে নেয় সেটি। অনুতাপ লাগে। চড়ুই তার খুব প্রিয়। বাসা বাঁধে ঘরের চালায়। তাদের ঘরেও আছে বাসা। জানালায় বসে। উঠানে নামে। খাবার খায়। খেলা করে দুটি চড়ুই। মাতিয়ে রাখে বাড়ি। খুব ভাল লাগে পনিরের। আহত চড়ুই নিয়ে যায় বাড়িতে। খুব মায়া লাগে তার। তাকিয়ে থাকে। সেবা করে। পানি দেয় মুখে। খাবার দেয়। সময় নেয়। আবার পানি দেয়। খাবার দেয়। সারিয়ে তুলে। ভালো লাগে। উড়িয়ে দেয় আকাশে। ভাবে, পাখিদের আঘাত করবে না আর।



পরদিন। পনির আসে পাখি তাড়াতে। তাকে দেখেই ভয় পায় পাখি। উড়ে যায় দূরে। যেন পাখিদের মনে পড়ে গতদিন। আবাক হয় সে। বিপদের কথা ভুলে না পাখিরা। তাইতো। হুম। একটা কাজ করা যাক তাহলে। নতুন কৌশল আসে মাথায়। শুরু করে কাজ। যেই ভাবনা সেই কাজ। দু’টি লাঠি আনে। একটি দড়ি আনে। একটি লাঠি গাড়ে ধানখেতে। গাড়ে খাড়া করে। সেটিতে বাঁধে আরেকটি লাঠি। ভূমির সমান করে। লাঠিতে পরায় নিজের জামা। ঝুলিয়ে দেয় গুলতিটা। হয়ে যায় কাকতাড়োয়া। যেন দাঁড়িয়ে আছে পনির। দু’হাত ছড়িয়ে। খেতের মাঝ খানে। পনিরের মতো কাকতাড়োয়া।



পনির ফিরে আসে আইলে। বসে থাকে ঘাপটি মেরে। সে এখন খলি গায়ে। পাখিরা আসে। দেখতে পায় না তাকে। দেখে কাকতাড়োয়া। খেতের মাঝ খানে। দেখে পনিরের জামা। ভাবে এটিই পনির। ভয় পায়। গুলতির গুলির ভয়। চলে যায় তাড়াতাড়ি। আরো পাখি আসে। দেখে কাকতাড়োয়া। ভাবে এটিই পনির। ভয় পায়। উড়ে যায় দূরে। নামে না ধানখেতে। ভয়ে চলে যায় সব পাখি। খায় না পাকা ধান। সফল হয়েছে পনিরের কৌশল। সহজ হয়েছে পাখি তাড়ানো। নিজেকে বিজয়ী ভাবে পনির। বাড়িতে ফিরে যায় ভাবনাহীন।<


[সংশোধিত- নভেম্বর ২০১৭]


(শিশুদের জন্য লেখা এও গল্পটির কোন শব্দে যুক্তবর্ণ নেই এবং কোন বাক্যে ৪ টির বেশি শব্দ নেই।]

শিশুতোষ গল্প- মেলার ঘুড়ি

শিশুতোষ গল্প- মেলার ঘুড়ি

মেলার ঘুড়ি

মো. রহমত উল্লাহ্

বকুলদের বাড়ির কাছেই ফাঁকা মাঠ। মাঠের বটতলায় বসে বৈশাখী মেলা। পাশের নদীতে হয় নৌকা বাইচ। মেলায় আসেন অনেক মানুষ। ছোট, বড়, ছেলে, মেয়ে সবাই। খুব আনন্দ হয় এখানে।


আজ  পহেলা বৈশাখ। মেলায় এসেছে বকুল। সাথে আছেন বাবা ও ভাইয়া। বকুল অনেককিছু কিনবে আজ। যা চাইবে তাই কিনে দিবেন বাবা। কেননা, শ্রেণিতে প্রথম হয়েছে সে। এমনই কথা ছিলো বাবার সাথে।


প্রথমেই নাগরদোলায় চড়ে বসলো তিনজন। কেঁও কেঁও শব্দ করে ঘুরতে লাগলো নাগরদোলা। ভয়ে কাঁপছে বকুল। সবার উপরে উঠে গেলো তারা। বাঃ, কী সুন্দর মেলার দৃশ্য!


নিমিষেই কেটে গেলো বকুলের ভয়।


এর পর এলো নদীর তীরে। নদীতে চলছে নৌকা বাইচ। ছুটে আসছে দীর্ঘ-চিকন নৌকা। হেইও হেইও করছে মাঝির দল। ছফাত ছফাত করে পানিতে পড়ছে বৈঠা। জোরছে বাজছে ঢোল-বাঁশি, পড়ছে হাততালি। নেচে গেয়ে ফুরতি করছে সবাই! ছুটছে অনেক নৌকা। দেখাযাক, কার আগে কে যায়।


মাথায় ময়ূর বানানো নৌকাটি হয়েছে প্রথম। বাবা বললেন, এটির নাম ‘ময়ূরপংখি’ নৌকা।গ


তার পর সারকাস দেখতে এলো বকুল। নিমিষেই দেখা হয়ে গেলো অনেক জায়গা। সুন্দরবন, সোনার গাঁ, পাহাড়পুর, ময়নামতি...। আরো দেখলো- লালবাগ কেল্লা, যাদুঘর, চিড়িয়াখানা...।


বকুল বললো-  ‘খুব সুন্দর, তুমিও দেখো ভাইয়া’। বড়দের মতো ভাব দেখালো ভাইয়া। বললো- ‘আমি এসব দেখেছি অনেক’।


বাঁশির দোকানে এলো এর পর। একটা বাঁশি হাতে নিলো ভাইয়া। পোঁ করলো বকুলের কানের কাছে। ভাইয়ার পেটে ঘুষি দিলো বকুল। নিজের ও ভাইয়ার জন্য কিনলো অনেক কিছু। বাঁশের বাঁশি, পাতার বাঁশি, বেলুন বাঁশি, শামুক বাঁশি।


এবার মাটির জিনিসের দোকানে এলো বকুল। কিনলো নানান রকম পুতুল। হা করা বাঘ, পাল তোলা নৌকা, পাখা মেলা দোয়েল...।


ভাগাভাগি করে নিলো ভাইয়ার সাথে।


পাশেই কাঠের জিনিসের দোকান। কত রকম খেলনা যে আছে এই দোকানে! পশু, পাখি, ঢেঁকি, পিঁড়ি, পালকি, লাটিম, বেলনা... । অনেক খেলনা কিনলো ভাইয়া।


বকুলকে দিলো গরুগাড়ি। বাবাকে দিলো শহিদমিনার।


তার পর কিনতে এলো বাঁশ-বেতের জিনিস। মায়ের জন্য কিনলো অনেক জিনিস। ঝুড়ি, পুড়া, ডালা, কুলা, খাড়ি, পাখা, চালনি...।


মাটির ও কাঠের খেলনা গুলো ঝুড়িতে রাখলো বকুল।


এর পর এলো শুকনা খাবারের দোকানে। কিনলো অনেক শুকনা খাবার। চিড়া, মুড়ি, মুড়কি, মোয়া, মনডা, খাজা, গজা, মুড়ালি...।


বাবা বললেন: ‘খুব ভালো খাবার এসব। নিজেরাও খাওয়া যাবে, মেহমানকেও দেওয়া যাবে’।


একটা মনডার অর্ধেক বকুলের মুখে পুরে দিলো ভাইয়া।


ঘুড়ির দোকানে এলো সব শেষে। আকাশে উড়ছে নানা রকম ঘুড়ি। মাছ-ঘুড়ি, পাখি-ঘুড়ি, প্রজাপতি-ঘুড়ি...। সুতাভর্তি লাটাই আর প্রজাপতি-ঘুড়ি কিনলো ভাইয়া।


ফেরিওয়ালার নিকট থেকে চারটি বেলুন কিনলো বকুল।


এবার বাড়িতে ফিরছে তারা। ফিরার পথে ফসলের ফাঁকা মাঠ। ঘুড়ি উড়াতে চাইলো ভাইয়া। অনুমতি দিলেন বাবা।


ঘুড়ি উড়াতে লাগলো ভাইয়া। সূতা ছাড়ছে তো ছাড়ছে। আকাসে অনেক দখিনা বাতাস। অনেক উপরে ভাইয়ার ঘুড়ি। অনেক হাসি ভাইয়ার মুখে।


হঠাৎ ছিড়ে গেলো সুতা!


ঘুড়ির পিছনে ছুটছে ভাইয়া। সাথে ছুটছেন বাবা। ভাইয়া..., বাবা... বলে চিৎকার করছে বকুল। খুব জোরছে ছুটছে ভাইয়া। পড়ছে, উঠছে আবার ছুটছে!


অবশেষে নিচে নেমে এলো ঘুড়ি। মাটিতে পড়ার আগেই লাফিয়ে ধরলো ভাইয়া। ফিরে এলো জয়ের খুশিতে নেচে নেচে। হাতে করে নিয়ে এলো ঘুড়ি। হাঁপাতে হাঁপাতে এলেন বাবা। বললেন, ‘বসো, এবার জিরিয়ে নিই’। তাকালেন ভাইয়ার দিকে। দেখলেন, ছুলে গেছে ভাইয়ার হাঁটু আর কনুই! রাগ করলেন ভাইয়ার সাথে। এখন ভাইয়া অনূভব করলো সেই আঘাতের ব্যথা! চোখ মুছলো বার বার।


বকুল বললো, ‘কী দরকার ছিলো এতো ছুটার? আরেকটি ঘুড়ি কিনলেই হতো।’


ভাইয়া বললো, ‘সেটি কি আর এটি হতো?’


বাড়িতে এসে, মাকে সবকিছু খুলে বললো বকুল। মা জড়িয়ে ধরে আদর করলেন ভাইয়াকে। আবার হাসি ফুটে উঠলো ভাইয়ার মুখে। ঘুড়ি ফিরে পাওয়ার সেই হাসি! //


[সংশোধিত- নভেম্বর ২০১৭]


(শিশুদের জন্য লেখা এই গল্পটির কোন শব্দে যুক্তবর্ণ নেই এবং কোন বাক্যে ৭ টির বেশি শব্দ নেই।)