গল্প- পূর্ণিমা -ন ক ২০০২



 

গল্প- আত্ম সমর্পন


 

গল্প- গানের ডায়রি -আজকের কাগজ, ০৭ এপ্রিল ২০০৪





 

ক... করে ওঠে কাক

ক... করে ওঠে কাক


মো. রহমত উল্লাহ্‌


আলো ঝলমল বিকাল বেলা। গ্রামের পথে হাঁটছে তিনজন। রাকিব, সাকিব ও লুহাম। খেলতে যাবে সবুজ পাহাড় মাঠে। গুড়ুম করে আওয়াজ হয় বিদ্যুতের তারে। চোখে লাগে আগুনের ঝিলিক। ঝপ করে নিচে পড়ে একটি কাক। কা কা, কা কা! ডেকে উঠে কয়েকটি কাক। কা কা করে আসতে থাকে আরও। ডাকতে থাকে কর্কষ গলায়। বাড়তে থাকে কা কা, কা কা! আসতে থাকে আরো কাক। কা, কা, কা! বাড়তে থাকে ডাকাডাকি। বাড়তে থাকে ছুটাছুটি। যেনো কাকদের প্রতিবাদী মিছিল। ভয়ে দৌড়ে পালায় রাকিব ও সাকিব। তবে পালায় না লুহাম। সে ছুটে যায় সেই কাকের কাছে। দেখে, মাটিতে পড়ে আছে কাক। অপলক তাকিয়ে থাকে কাকের দিকে। ভাবে, কী করা যায়?


কাকের কাছে বসে লুহাম। হাতে তুলে নেয় কাকটিকে। কঠিন হয়ে আছে কাকের শরীর। নড়াচড়া করে না মোটেও। কালো চোখ যেন পাথর। কুঁকড়ে আছে পায়ের আঙুল। বাঁকা হয়ে আছে ছাই রং ঘাঁড়। হা হয়ে আছে দুটি ঠোঁট। লাল দেখা যায় মুখের ভিতর। পাখা ও লেজ হয়ে আছে এলোমেলো । যেনো, ছেঁড়া ছাতার কালো কাপড়। মনেহয়, আর বেঁচে নেই কাক! কারণ বুঝতে পারে লুহাম। বিদ্যুৎ শকেই এমন হয়েছে কাকের। ভাবে, কী করা যায়? কী করা যায় এখন?


একটা দৃশ্য মনে পড়ে লুহামের। একদিন সে খেলা দেখছিল টিভিতে। চলছিল তার প্রিয় ফুটবল খেলা। আহত হয়েছিল এক খেলোয়াড়। মাঠে পড়েছিল এই কাকের মতই। একজন এসে চাপল তাঁর বুক। বাঁকা ও সোজা করল হাত-পা। বার বার করল এপাশ ওপাশ। শেষে বেঁচে গেল সেই খেলোয়াড়। মনে মনে কথা বলে লুহাম। হ্যাঁ, এখন তাই করব আমি।


কাকের বুকে হালকা চাপ দেয় লুহাম। চাপ দেয় সারা শরীরে । বাঁকা, সোজা করে পা। টানে ঠোঁট ও পাখা। হালকা চাপড় দেয় কাকের পীঠে। এসব করতে থাকে বার বার। একসময় ক… করে ওঠে কাক। নড়ে ওঠে কাকের চোখ। কিছুটা টান করে পা। সামান্য নাড়ায় পাখা। খুশিতে মন ভরে ওঠে লুহামের।  মুখে ফুটে ওঠে হাঁসির রেখা। বুকে জাগে আশার আলো।


এবার অন্যদিক খেয়াল করে লুহাম। দেখে, সাথে নেই রাকিব ও সাকিব। উড়াউড়ি করছে কাকের দল। কর্কষ গলায় করছে কা কা। ছুটছে মাথার সামান্য উপর দিয়ে। উড়ছে গায়ের খুব কাছ দিয়ে। যেনো এখনই ঠোঁকর দিবে মাথায়! খামছি দিবে গায়ে! তবুও ভয় পায় না লুহাম। রাগ করে না কাকদের উপর। ভাবে, কাকেরা অনেক ভাল। একের বিপদে এগিয়ে এসেছে সবাই।<


[শিশুদের উপযোগী এই গল্পটিতে ৪ বর্ণের অধিক কোন শব্দ নেই, ৬ শব্দের অধিক কোন বাক্য নেই, কোন শব্দে যুক্ত বর্ণ নেই।]


মো. রহমত উল্লাহ্

অধ্যক্ষ, কিশলয় বালিকাবিদ্যালয়ওকলেজ

তাজমহল রোড, মোহাম্মদপুর, ঢাকা


+8801711147570

[১৪ জানুয়ারি ২০১৯, মোহাম্মদপুর, ঢাকা]

শিশুপাঠ্য গল্প- 'মিলেমিশে থাকব সবাই' -ফুলকি- জানুয়ারি ২০১৭

শিশুপাঠ্য গল্প- 'মিলেমিশে থাকব সবাই' -ফুলকি- জানুয়ারি ২০১৭
_IMG_000000_000000

About Time Period and Front, Behind
মিলেমিশে থাকবো সবাই
মো. রহমত উল্লাহ্,
>কুমির, জিরাফ, ময়ূর। তিনজনে মিলে একসাথে। আসে শিয়ালের বাসায়। বার বার ডাকে শিয়ালকে। শিয়াল ভাই। শিয়াল ভাই। শিয়াল ভাই। বেরিয়ে আসে শিয়াল। ইয়া বড় লেজ। দাঁড়ায় সবার সামনে। বলে, কী ব্যাপার? তোমরা এসেছো কেনো?
তিনজনে কথা বলে একসাথে। তুমি ঘুমের সময় হু হুয়া করো। আমরা ঘুমাতে পারিনা। রাত ১০ টায় হু হুয়া করো। ১২ টায় হু হুয়া করো। ভোর ৫ টায় হু হুয়া করো। ঘুমের খুব অসুবিধা হয়। এসব ডাকাডাকি থামাও। নইলে সিংহ রাজাকে বলবো। শিয়াল ভাবে। তাদের অভিযোগ সঠিক। কী করা যায়।

শিয়াল এগিয়ে আসে তাদের কাছে। তাকায় জিরাফের দিকে। কথা বলে নরম করে। জানতে চায় কাছে গিয়ে। তুমি কখন ডাকো, জিরাফ ভাই? জিরাফ বলে, আমি ডাকি না। দিনেও ডাকি না। রাতেও ডাকি না। কখনো ডাকি না।

এবার কুমিরের দিকে তাকায় শিয়াল। বলে, তুমি কখন ডাকো, কুমির ভাই? কুমির বলে, আমি পানিতে থাকি। তোমাদের মতো ডাকাডাকি করিনা। কারো ঘুমের অসুবিধা করিনা।
এবার ময়ূরের দিকে তাকায় শিয়াল। বলে, তুমি কখন ডাক, ময়ূর ভাই? ময়ূর বলে, আমি ভোরে ডাকি। সকালে দুপুরে বিকালে ডাকি। ঘুমের সময় ডাকিনা। ঘুমের সময় ঘুমাই।

শিয়াল ভাবে। তাদের কথা সঠিক। কী করা যায় এখন। কী করা যায়। তাকায় সবার দিকে। বলে, সবাই আমার সাথে এসো। লাইন ধরে হাঁটে সবাই। শিয়াল সবার সামনে। সবাই শিয়ালের পিছনে।

শিয়াল আসে হাতির বাসায়। কাছে গিয়ে জানতে চায়। তুমি কখন ডাকো, হাতি ভাই? হাতি বলে, সঠিক সময় নেই। সকালে ডাকি। দুপুরে ডাকি। বিকালে ডাকি। রাতেও ডাকি মাঝে মাঝে। শিয়াল বলে, ঠিক আছে। তুমিও এসো আমাদের সাথে।

ডান দিকে হাঁটা দেয় শিয়াল। তাকায় সবার দিকে। বলে, সবাই আমার সাথে এসো। লাইন ধরে হাঁটে সবাই। শিয়াল সবার সামনে। সবাই শিয়ালের পিছনে।

এবার শিয়াল আসে ছাগলের বাসায়। কাছে গিয়ে জানতে চায়। তুমি কখন ডাকো, ছাগল ভাই? ছাগল বলে, আমার কোনো ঠিক নেই। সকাল, দুপুর, বিকাল, রাত বিরাত। যখন তখন ডাকি। শিয়াল বলে, ঠিক আছে। তুমিও এসো আমাদের সাথে।
বাম দিকে হাঁটা দেয় শিয়াল। তাকায় সবার দিকে। বলে, সবাই আমার সাথে এসো। লাইন ধরে হাঁটে সবাই। শিয়াল সবার সামনে। সবাই শিয়ালের পিছনে।

এবার শিয়াল আসে মহিসের বাসায়। কাছে গিয়ে জানতে চায়। তুমি কখন ডাকো, মহিস ভাই? মহিস বলে, আমার কোন ঠিক নেই। সকালে দুপুরে বিকালে। যখন মন চায় ডাকি। রাতে ঘুমাই। ঘুমের সময় ডাকিনা। শিয়াল বলে, ঠিক আছে। তুমিও এসো আমাদের সাথে।

আবার ডান দিকে হাঁটা দেয় শিয়াল। তাকায় সবার দিকে। বলে, সবাই আমার সাথে এসো। লাইন ধরে হাঁটে সবাই। শিয়াল সবার সামনে। সবাই শিয়ালের পিছনে।

এবার শিয়াল আসে কোকিলের বাসায়। কাছে গিয়ে জানতে চায়। তুমি কখন ডাকো, কোকিল ভাই? কোকিল বলে, আমি গানের পাখি। সব সময় গান গাই। সকাল, দুপুর, বিকাল, রাত বিরাত। রাত ১০ টায়, ১২ টায়। ভোর ৫ টায়। রাতেই বেশি গান গাই। শিয়াল বলে, ঠিক আছে। তুমিও এসো আমাদের সাথে।

নিজের বাসার দিকে হাঁটা দেয় শিয়াল। তাকায় সবার দিকে। বলে, সবাই আমার সাথে এসো। লাইন ধরে হাঁটে সবাই। শিয়াল সবার সামনে। সবাই শিয়ালের পিছনে। হাতির পিঠে ময়ূর, কোকিল।

শিয়াল ফিরে আসে বাসার কাছে। তাকায় সবার দিকে। বলে, এবার শুনলেতো। একেক জন একেক সময় ডাকে। আমি দিনে ঘুমাই, রাতে ডাকি। জিরাফ বলে, রাতে ঘুমাওনা কেনো? শিয়াল বলে, কী করবো বলো। রাতে খাবার খোঁজতে হয়। দিনে বাইরে আসতে পারিনা। মানুষেরা আমাদের মারে। তাই রাতে বেরোই। একেক জন যাই একেক দিকে। খাবার খোঁজি। খাবার পেলেই ডাকি। সবাইকে ডাকি। তারাও ডাকে। যা পাই, মিলেমিশে খাই।
সবাই ভাবে, শিয়ালেরা অনেক ভালো। সবার দিকে তাকায় ময়ূর। বলে, বিবাদ বাদ দাও ভাই। চলো, সবাই মিলেমিশে থাকি। সবাই বলে, তবে তাই হোক।<
[ছোটদের জন্য লেখা যুক্তবর্ণ বিহীন এই গল্পটির কোন বাক্যে ছয়টির বেশি শব্দ নেই।]
মো. রহমত উল্লাহ্‌ : অধ্যক্ষ- কিশলয় বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা। ২৮ মার্চ ২০১৬