দেশের গান, সবুজ পাতার ভীড়ে কেন যে পলাশ হলো লাল

 


দেশের গান


সবুজ পাতার ভীড়ে কেনোযে পলাশ হলো লাল

শিমুলের ফুলে কেনো লাগলো এ রঙ-

তুমি জানো কি

হে নবীন তুমি জানো কি? ।।


মায়ের মুখের সুরে তোমায় ডাকি

সেইনা সুরে ডাকে হাজার পাখি।

আমাদের কন্ঠে কীকরে এলো এই গান

তুমি জানো কি?

হে নবীন তুমি জানো কি? ।।


ভাইয়ের ভাষায় বলি 'ভালবাসি'

এমাটির ফুলে ফলে ভাইয়ের হাসি।

আমাদের সূর্যে কে দিলো এতো লাল প্রাণ

তুমি জানো কি?

হে নবীন তুমি জানো কি? ।।


গীতিকার- মো. রহমত উল্লাহ্‌

(গানটি গাইতে পারেন শিল্পী বন্ধুরা।)

আমাদের ভাষা প্রেম ও বিসর্গ বর্ণের অপব্যবহার। দৈনিক ইত্তেফাক



আমাদের ভাষাপ্রেম ও 'বিসর্গ' বর্ণের অপব্যবহার

দৈনিক ইত্তেফাক, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২১


মো. রহমত উল্লাহ্


পৃথিবীতে একমাত্র আমরাই জীবন দিয়ে রক্ষা করেছি আমাদের রাষ্ট্রভাষা, বাংলা ভাষা। আমাদের 'শহিদদিবস' তথা একুশে ফেব্রুয়ারি আজ ১৯৩টি দেশে পালিত হয় ইউনেস্কো স্বীকৃত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে। অথচ ভাষার আন্দোলনে আজও কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় অর্জিত হয়নি আমাদের সফলতা। 


সঠিক চর্চা ও পরিচর্যার মাধ্যমে মাতৃভাষার উৎকর্ষ সাধনে আমরা অনেকেই এখনো অনেক বেশি উদাসীন। এমনকি অক্ষরের প্রয়োগ, শব্দের বানান, শব্দ গঠন, শব্দ সংক্ষেপণ, শব্দের প্রয়োগ, বাক্য গঠন, যতিচিহ্নের ব্যবহার ইত্যাদি সাধারণ বিষয়েও আমরা প্রায় সবাই এত বেশি ভুল লিখি যা স্বল্প পরিসরে আলোচনা সম্ভব নয়। 


এই নিবন্ধে আমাদের বাংলা ভাষার একটি বর্ণ 'বিসর্গ' (ঃ) এর ব্যাপক অপব্যবহারের আংশিক চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করছি। ভাষার গতিবৃদ্ধির জন্য শব্দসংক্ষেপ অপরিহার্য। তাই শব্দ সংক্ষেপ করার জন্যও প্রত্যেক ভাষারই থাকা চাই সর্বজনবিদিত সুনির্দিষ্ট নিয়ম। আমাদের বাংলা ভাষায়ও আছে তেমন কিছু নিয়মকানুন। কিন্তু সে নিয়ম অনুসরণ করছি না, প্রয়োগ করছি না আমরা অনেকেই।


কিছু উদাহরণ দেওয়া যাক। ‘ডাঃ মোঃ মোঃ হোসেন, এমঃ বিঃ বিঃ এসঃ’। এক্ষেত্রে বিসর্গ (ঃ) গুলোর অপব্যবহার করা হয়েছে যতিচিহ্ন (শব্দ সংক্ষেপণ চিহ্ন) হিসেবে। অর্থাৎ ‘ডাক্তার মোহাম্মদ মোক্তার’, ‘ব্যাচেলর অফ মেডিক্যাল সাইন্স’ কথাগুলোকে সংক্ষিপ্ত করার ব্যর্থ চেষ্টা করা হয়েছে বিসর্গ দিয়ে।


আবার ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয় স্মারক নম্বর’ কথাগুলোকে অনেক সময় সংক্ষেপে লেখা হয় ‘শিঃ মঃ স্মাঃ নং’ এভাবে। গভঃ দিয়ে গভর্নমেন্ট, প্রাঃ দিয়ে প্রাইভেট, লিঃ দিয়ে লিমিটেড, হঃ দিয়ে হযরত, ছঃ দিয়ে ‘ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া ছাল্লাম’, রাঃ দিয়ে ‘রাদিয়াল্লা হু আন হু’ ইত্যাদি লেখা হয়ে থাকে প্রায়শই। এভাবে বিসর্গ (ঃ) দিয়ে শব্দ সংক্ষেপ করা সঠিক নয়।


বিসর্গ (ঃ) কে যতিচিহ্ন হিসেবে ব্যবহার করা যায় না। যতিচিহ্নের কোনো উচ্চারণ ধ্বনি নেই। বিসর্গ যতিচিহ্ন নয়। বিসর্গ একটি ব্যঞ্জনবর্ণ। বিসর্গের (ঃ) আছে উচ্চারণ ধ্বনি। আছে সঠিক ব্যবহারের নিয়মকানুন। অথচ আমরা অনেকেই না জেনে, না বুঝে এই বিসর্গ (ঃ) ধ্বনিকে ব্যবহার করছি যতিচিহ্ন হিসেবে। এতে চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে বাংলা ভাষার শুদ্ধতা এবং বিলুপ্ত হচ্ছে বিসর্গ (ঃ) বর্ণের উচ্চারণ ধ্বনি ও অস্তিত্ব।


এইরূপ অপব্যবহূত বিসর্গ (ঃ) এর উচ্চারণ করতে গেলেও অর্থ দাঁড়াচ্ছে অন্যরকম। যেমন, ‘হাইমচর হামদর্দ হাসপাতাল’কে বিসর্গযোগে সংক্ষিপ্ত করতে গেলে হবে ‘হাঃ হাঃ হাঃ’। উচ্চারণ হবে ‘হাহ্ হাহ্ হাহ্’। অর্থ দাঁড়াবে উচ্চৈঃস্বরে হাসির শব্দ।


শব্দ সংক্ষেপ করার জন্য ব্যবহার করতে হবে যতিচিহ্ন। একমাত্র দাঁড়ি (। ) ব্যতীত সকল যতিচিহ্নই আমরা পেয়েছি বা নিয়েছি ইংরেজি ভাষা থেকে। তাই ব্যবহারও হচ্ছে ইংরেজি ভাষার রীতি অনুসারেই। সেমতে শব্দ সংক্ষেপ করার জন্য ব্যবহৃত হবে ডট (.)। বাংলায় আমরা এর নাম দিয়েছি এক বিন্দু (.) বা শব্দ সংক্ষেপণ চিহ্ন। যেমন: ডা. মো. সা. জা. ফয়েজ, এম. বি. বি. এস.। শি. ম. স্মা., এস. এস. সি., এম. এসসি., বি. এড., বি. জি. বি. ইত্যাদি।


শুধু শব্দ সংক্ষিপ্ত করার জন্যই যে বিসর্গ (ঃ) বর্ণের অপব্যবহার হচ্ছে তা নয়, বিশ্লেষণ করার জন্যও অহরহ অপব্যবহূত হচ্ছে বিসর্গ (ঃ) নামক বর্ণ ও ধ্বনি। ‘যেমন- / যেমন:’ কে বিসর্গ দিয়ে লেখা হচ্ছে ‘যেমনঃ’। ‘নাম- / নাম:’ কে লেখা হচ্ছে ‘নামঃ’। ‘গ্রাম- / গ্রাম:’ কে লেখা হচ্ছে ‘গ্রামঃ’। ‘পোস্ট- / পোস্ট:’ কে লেখা হচ্ছে ‘পোস্টঃ’। বিসর্গের মতো এমন অনেক ধ্বনি, বর্ণ এবং যতিচিহ্ন প্রয়োগ আমাদের খামখেয়ালির জন্য বাংলা ভাষা আজ ক্ষত-বিক্ষত ও দুঃখভারাক্রান্ত।


অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও বাস্তব যে, বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নামফলক, চিঠিপত্র, টেলিভিশন এমনকি অনেক প্রকাশিত বই এবং পত্রপত্রিকায় এমনি ভুলভাবে বিসর্গের অহরহ অপপ্রয়োগ দীর্ঘদিন দেখতে দেখতে এখন নতুন প্রজন্মসহ আমরা অনেকেই মনে করি তা-ই সঠিক। এমনকি আমাদের অধিকাংশ শিক্ষিত মানুষের নামের সংক্ষিপ্তরূপ আমাদের শিক্ষা সনদে লেখা হয়েছে ও হচ্ছে (ঃ) বিসর্গ দিয়ে। যেমন: মো., মোসা., মি. এসবকে লেখা হচ্ছে মোঃ, মোসাঃ, মিঃ, ইত্যাদি। আজীবন এই ভুল বয়ে বেড়াচ্ছি আমরা!


অথচ জন্মনিবন্ধন কর্তৃপক্ষ, জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদান কর্তৃপক্ষ, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বোর্ড এবং সকল স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ সনদ লেখার সময় একটু সচেতন হলেই অনেকটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব এই চলমান/ প্রচলিত ভুল। নিজের শুদ্ধ সনদ দেখেই আমাদের সন্তানেরা শিখতে পারবে শব্দ সংক্ষেপণ চিহ্নের সঠিক ব্যবহার এবং পরিহার করতে পারবে (ঃ) বিসর্গের অপব্যবহার। 


তদুপরি যথাশীঘ্র সম্ভব বাংলা একাডেমিসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন সকল প্রতিষ্ঠান এবং প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াসমূহ ঐকমত্যে এসে একই নিয়ম অনুসরণ অত্যাবশ্যক। এক্ষেত্রে শিক্ষকদেরও নিতে হবে অগ্রণী ভূমিকা। প্রমাণ করতে হবে, আমাদের ভাষাপ্রেম কতটা গভীর। মনে রাখতে হবে, সামান্য অবহেলায় ভাষার ভেতরে কোনো ভুল বিস্তৃত হয়ে পড়লে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ভাষা; যা কাটিয়ে ওঠা হয়ে পড়ে অত্যন্ত কঠিন ও সময়সাপেক্ষ। 


মো. রহমত উল্লাহ্ : সাহিত্যিক, শিক্ষাবিদ এবং অধ্যক্ষ- কিশলয় বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা।

Email- rahamot21@gmail.com

অপসংস্কৃতি বিস্তার রোধে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। ভোরের কাগজ


পত্রিকার লিংক

অপসংস্কৃতি বিস্তার রোধে কয়েকটি পদক্ষেপ নেয়া জরুরি



মো. রহমত উল্লাহ্ 

ভোরের কাগজ, বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৬


বাংলা ভাষার ওপর ভিত্তি করেই আমরা বাঙালি। এর মাধ্যমেই আমরা পেয়েছি আমাদের আত্মপরিচয়, নিজস্ব সাহিত্য, মরমী সুর, চালচলন, পোশাক আশাক, প্রতিবাদের ভাষা, প্রতিরোধের শক্তি-সাহস আর আমাদের এই স্বাধীন বাংলাদেশ। আমাদের বাংলা ভাষা রক্ষার জন্য যারা অন্দোলন করেছেন, সংগ্রাম করেছেন, আত্মত্যাগ করেছেন তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা।


দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আমরা আজ ভুলতে বসেছি আমাদের ভাষার সঠিক ব্যবহার। তাই হারাতে বসেছি আমাদের অতীত ঐতিহ্য। ইচ্ছে করে, ন্যাকামি করে, আধুনিকতা করে বিকৃত করছি মায়ের ভাষার উচ্চারণ। পরিধান করছি ভিন দেশিদের পোশাক। চুল কাটছি উদ্ভট করে। বিদেশি গান গাইছি ও শুনছি আঁকাবাঁকা হয়ে। বাংলা গানের কথায় জুড়ে চিচ্ছি ইংরেজি গানের সুর। এসব বিকৃত আধুনিকতাকে প্রশ্রয় দিচ্ছেন একশ্রেণির ন্যায়নীতিহীন অভিভাবক এবং এসব প্রচার করছে কিছু ন্যায়নীতিহীন রেডিও-টেলিভিশন আর ওপেন কনসার্ট।


মহান ভাষা দিবসসহ সব জাতীয় দিবসের আগের রাতে রাজধানীসহ বড়-ছোট অনেক শহরে, কিছু কিছু উপশহরে, এমনকি কোনো কোনো মফস্বল এলাকায় ওপেন বাজানো হচ্ছে বিকট শব্দে বিদেশি বাদ্যযন্ত্র, আর সেই সঙ্গে মাদকদ্রব্য খেয়ে-খায়িয়ে, উলঙ্গ নেচে-নাচিয়ে, গাওয়া হচ্ছে যৌন উদ্দীপক ইংরেজি ও হিন্দি গান। হারাম করে দেয়া হচ্ছে এলাকাবাসীর সারারাতের ঘুম। এরচেয়ে বেশি করা হচ্ছে গায়ে হলুদে, বিয়েতে, জন্মদিনে, মুসলমানিতে, ঈদে, পূজায়, বড়দিনে, ইংরেজি নববর্ষে, এমনকি বাংলা নববর্ষেও। অথচ এসবের প্রতিবাদ করার শক্তি সাহস, মনমানসিকতা যেন আজ আর অবশিষ্ট নেই কারোর মাঝেই। মনে হচ্ছে, যেখানে সেখানে, যখন তখন তাদের এসব অশান্তি করার অধিকার আছে কিন্তু আমাদের নিজের ঘরে শান্তিতে ইবাদত করার, লেখাপড়া করার, ঘুমিয়ে থাকার কোনো অধিকার নেই। (বর্তমান পৃথিবীর কোনো সভ্য দেশেই অন্যের অসুবিধা হয় এমন স্থানে ও সময়ে বিশেষ করে রাত ১০টার পরে লাউড স্পিকার চালানো যায় না।) অথচ নিজের দল ভারী করার আশায় এসবে সমর্থন ও অর্থ দিচ্ছে তথাকথিত নেতারা আর প্রত্যক্ষ অংশ নিচ্ছে তাদের কর্মীরা। দেখেও না দেখার ভান করছে পুলিশ এবং সিভিল প্রশাসন। কিন্তু কেন?


অন্যদিকে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন উপলক্ষে করা হচ্ছে চরম অশালীন বিদেশি নাচ-গানের আয়োজন। ব্যয় করা হচ্ছে অভিভাবকদের কাছ থেকে আদায় করা অর্থ। আর শিক্ষার্থীদের দেয়া হচ্ছে অপসংস্কৃতি অনুশীলন ও বাঙালি সংস্কৃতি পরিহারের কুশিক্ষা। অনেক ক্ষেত্রে নিজেদের ইচ্ছার বিরুদ্ধেও শিক্ষকরা বাধ্য হচ্ছেন এমন আয়োজন করতে। এসব যেন খেয়ালই করছে না আমাদের শিক্ষা মন্ত্রণালয়। অথচ দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিদেশি নাচ-গান বাদ্য-বাজনা নিষিদ্ধ করার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি আদেশই যথেষ্ট। কিন্তু এতদিনেও তা হচ্ছে না কেন?


এত গেল বাইরের কথা। কী হচ্ছে ঘরে ঘরে? কী দেখা হচ্ছে টিভিতে? সারা বছর চলছে হিন্দি সিরিয়াল। অধিকাংশ বাসা-বাড়ির টিভির রিমোট বড়দের হাতে বিশেষ করে গৃহকর্ত্রীর হাতে থাকে বিধায় ছোটরাও দেখতে বাধ্য হচ্ছে বড়দের ক‚টচালে ভরা হিন্দি সিরিয়াল। তাই তারা বেড়ে উঠতে বাধ্য হচ্ছে বিকৃত রুচি ও মানসিকতা নিয়ে। এই সিরিয়াল পাগলরা এমনই পাগল যে, শহীদ দিবসে, স্বাধীনতা দিবসে, বিজয় দিবসে, ঈদের দিনে, পূজার দিনে, পহেলা বৈশাখে, এমনকি শোকের দিনেও দেখেন না বাংলাদেশের অনুষ্ঠান। ফলে ছোটরাও দেখতে পারে না আমাদের বাংলা অনুষ্ঠান। শুনতে পারে না আমাদের গুণীজনদের কথা। জানতে পারে না আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য। সেদিনও তাদের মাথায় ঠেলে দেয়া হচ্ছে ভিনদেশি সংস্কৃতি।


আশির দশকে এমন একটা সময় ছিল, যখন এসব হিন্দি চ্যানেল আমাদের টিভিতে দেখা যেত না। আমাদের এত টিভি চ্যানেলও ছিল না। তখন সবাই বিটিভির অনুষ্ঠানই দেখতে বাধ্য ছিল। আর তখন ছিল আমাদের ইতিহাস বিকৃত ও ঐতিহ্য ধ্বংস করার যুগ। চির বিজয়ী বীর বাঙালি জাতিকে বিভক্ত করে ভীতু বাংলাদেশি বানানোর যুগ। তখন সঠিক ইতিহাস প্রচার করা হতো না আমাদের টিভিতে। তাই বাধ্য হয়ে আমরা ভুলটাই দেখতাম ও শিখতাম। বিভ্রান্ত হতাম। বিভক্ত হতাম। সেই সময়ের বিভ্রান্ত যুবক-যুবতী ও ছেলেমেয়েরাই এখনকার বেশির ভাগ দাদা-দাদি, নানা-নানি, মা-বাবা, চাচা-মামা, ফুফু-খালা, শিক্ষক-শিক্ষিকা। তাদের হাতেই এখন টিভির রিমোট। তারাই পছন্দ করে না বাংলাদেশের অনুষ্ঠান। তারাই পাগল হিন্দি সিরিয়াল দেখার জন্য।


অথচ এখন যখন আমাদের অনেক টিভি চ্যানেল। এখন যখন আমাদের অধিকাংশ টিভিতে আমাদের সঠিক ইতিহাস ও ঐতিহ্য কম-বেশি প্রচারিত হচ্ছে; তখন আমাদের ওপর জেঁকে বসেছে বিদেশি চ্যানেল। অর্থাৎ আমাদের ছেলেমেয়েরা আগে শিখেছে ভুল ইতিহাস আর এখন শিখছে ভিন্ন কালচার।


এমতাবস্থায় দাবি উঠেছে, কয়েকটি বিদেশি চ্যানেল বন্ধ করার। মতামত রয়েছে এই দাবির পক্ষে বিপক্ষে। সেটি হলে ভালো। না হলে, কমপক্ষে আমাদের শহীদ দিবসে, স্বাধীনতা দিবসে, বিজয় দিবসে, শোক দিবসে, পহেলা বৈশাখে বন্ধ রাখা হোক সব বিদেশি চ্যানেল এবং বিদেশি নাচ-গান ও বাদ্য-বাজনার ওপেন কনসার্ট। যাতে অন্তত এই একটা দিন আমাদের সন্তানরা দেখতে পারে আমাদের চেহারা, শুনতে পারে আমাদের কথা, জানতে পারে আমাদের অতীত, জাগ্রত করতে পারে জাতীয় চেতনা, বর্ধিত করতে পারে দেশপ্রেম, তৈরি করতে পারে সুরুচি, রচনা করতে পারে সঠিক ভবিষ্যৎ।


মো. রহমত উল্লাহ : অধ্যক্ষ, কিশলয় বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা।

http://www.bhorerkagoj.net/print-edition/2016/02/25/77216.php 

শিক্ষক ও শিক্ষার্থী পরস্পর পূজনীয়। দৈনিক বাংলা





পত্রিকার লিংক

শিক্ষক ও শিক্ষার্থী পরস্পর পূজনীয়

মো. রহমত উল্লাহ্ 

দৈনিক বাংলা, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

>শিক্ষকতা কোনো সাধারণ পেশা নয়, একটি ব্রত। শিক্ষকতা একটি মহৎ ও পুণ্যকর্ম। সঠিক শিক্ষকতার মাধ্যমে শিক্ষক নিজেও হয়ে উঠবেন উত্তম মানুষ। শিক্ষক যেমন শিক্ষার্থীর পূজনীয়, তেমনি শিক্ষার্থীও শিক্ষকের পূজনীয়। বিশেষ করে নিষ্পাপ শিশুশিক্ষার্থী অধিক পূজনীয়। কেননা শিক্ষার্থীদের নিয়েই শিক্ষকের জীবন আবর্তিত। যার শিক্ষার্থী নেই তিনি শিক্ষক নন। সঠিক শিক্ষাদান পুণ্যকর্ম বলেই শিক্ষার্থীরা শিক্ষকের পূজনীয়। কেননা শিক্ষার্থী ছাড়া শিক্ষকের এই পুণ্যকর্ম করার সুযোগ নেই। সৃষ্টির সেরা জীব মানুষের সন্তানকে আসল মানুষ বানানোর মহান দায়িত্ব শিক্ষকের। অকৃপণভাবে এই মহান দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে সহজেই সৃষ্টিকর্তার অশেষ কৃপা লাভ করবেন একজন ভালো শিক্ষক। যিনি শিক্ষকতায় নিয়োজিত তিনি শিক্ষার্থীর সেবা করার মাধ্যমে আজীবন করতে পারেন মহান সৃষ্টিকর্তার সেবা। যখন একজন শিক্ষক তার শিক্ষার্থীদের পূজনীয় মনে করবেন তখন তিনিও হয়ে উঠবেন শিক্ষার্থীর তথা সমাজের সব মানুষের পূজনীয়।


শিক্ষার্থীরাই হবে একজন ভালো শিক্ষকের সবচেয়ে প্রিয় পাত্র। কেবল ভালো শিক্ষার্থী নয়, সব শিক্ষার্থীর প্রতিই শিক্ষকের থাকতে হবে অগাধ ভালোবাসা। ভালোবাসা দিয়েই শিক্ষক কাছে টেনে নেবেন শিক্ষার্থীদের। লালন করবেন অতি সযত্নে। শিক্ষার্থীর জান্তে ও অজান্তে তার মধ্যে শিক্ষক প্রোথিত করবেন নিজের সব ভালো দিক। শিক্ষার্থীর কল্যাণ কামনায় মনে-প্রাণে, কাজে-কর্মে, ঘুমে-জাগরণে শিক্ষক হবেন সবচেয়ে বেশি নিবিষ্ট। সব শুভ কাজে শিক্ষার্থীর সফলতাকে নিজের সফলতা মনে করে সবচেয়ে বেশি আনন্দিত হবেন শিক্ষক। আবার কোনো একটি শুভ কাজে শিক্ষার্থীর ব্যর্থতাকে নিজের ব্যর্থতা ভেবে সবচেয়ে বেশি মর্মাহত হবেন শিক্ষক। নিজের শিক্ষার্থী ব্যর্থ হলে, সঠিক শিক্ষা দিতে পারেননি মনে করে নিজেকে অপরাধী ভাববেন শিক্ষক। এমনিভাবে শিক্ষার্থীর সবচেয়ে আপন ও কাছের মানুষ হয়ে উঠবেন একজন ভালো শিক্ষক। তিনি শিক্ষার্থীর ভয়ের পাত্র না হয়ে হবেন পরম শ্রদ্ধার পাত্র। এমন শিক্ষকের সব আদেশ-নিষেধ সানন্দে শিরোধার্য করে সঠিক মানুষ হয়ে উঠবে শিক্ষার্থী। সফল হবে শিক্ষকের শিক্ষকতা। একজন ভালো শিক্ষক আজীবন লালন করবেন জানার এবং জানানোর ঐকান্তিক ইচ্ছা। শিক্ষককে জ্ঞানার্জনে হতে হবে নিরলস। অত্যন্ত সমৃদ্ধ হতে হবে নির্ধারিত বিষয়ভিত্তিক জ্ঞানে। শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি অত্যন্ত ভালোভাবে জানা থাকতে হবে শিক্ষার সংজ্ঞা, শিক্ষার উদ্দেশ্য ও শিক্ষাদানের আধুনিক বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি।


এছাড়া জানতে হবে ধর্ম, সমাজ, রাষ্ট্র ও মনোবিজ্ঞান এবং ক্রমপরিবর্তনশীল বিশ্বের পরিবর্তিত জ্ঞান, তত্ত্ব ও তথ্য। আধুনিক বিশ্বের জ্ঞান-বিজ্ঞানে শিক্ষককে থাকতে হবে সমৃদ্ধ। জানতে হবে আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহার, সুফল-কুফল এবং সে আলোকে শিক্ষার্থীকে দিতে হবে সঠিক দিকনির্দেশনা। শিক্ষা লাভে শিক্ষককে সদা সর্বদা থাকতে হবে সক্রিয়। হতে হবে বই ও প্রকৃতির একনিষ্ঠ পাঠক এবং সেভাবেই গড়ে তুলতে হবে শিক্ষার্থীদের। শিক্ষক নিজে হবেন সবচেয়ে বড় শিক্ষার্থী। যিনি নিজে শিক্ষার্থী নন, তিনি অন্যের শিক্ষক হবেন কী করে? শিক্ষাদান শিক্ষকের একান্ত কর্তব্য। আর শিক্ষাগ্রহণ শিক্ষকের গুরুদায়িত্ব। শিক্ষাদানের পূর্বশর্তই শিক্ষা গ্রহণ। প্রতিনিয়ত শিক্ষাদান কার্যের পূর্বপ্রস্তুতি হচ্ছে প্রতিনিয়ত শিক্ষা গ্রহণ। অবশ্যই থাকতে হবে বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ। যে শিক্ষক ভাববেন, আমি কেবল পড়াব, পড়ব না; সে শিক্ষক কখনো ভালো শিক্ষক হবেন না। শিক্ষক নিজের মধ্যে শিক্ষার সঠিক চর্চা করেই সঠিক পরিচর্যা করবেন শিক্ষার্থীর। ভালো শিক্ষক নিজের মধ্যে জ্ঞানের চর্চা করবেন প্রতিদিন, প্রতিক্ষণ, আজীবন। নিরলসভাবে অর্জন ও বিতরণ করবেন নতুন নতুন জ্ঞান। শিক্ষার্থী ও সমাজের সব মানুষকে করবেন জ্ঞানে-গুণে সমৃদ্ধ। আলোকিত করবেন দেশ ও জাতি।


একজন ভালো শিক্ষক হবেন নিবেদিতপ্রাণ মানুষ। তার থাকবে নিজেকে উজাড় করে দেয়ার মতো মন-মানসিকতা। ভোগের চেয়ে ত্যাগের ইচ্ছাই থাকবে বেশি। তিনি কী পেলেন, তার চেয়ে বেশি ভাববেন কী দিলেন এবং কী দিতে পারলেন না। ভোগের চেয়ে ত্যাগেই বেশি আনন্দিত হবেন তিনি। বস্তু প্রাপ্তির নয়, জ্ঞান প্রাপ্তি ও প্রদানের সংগ্রামে অবতীর্ণ থাকবেন শিক্ষক। কেবল বস্তুগত প্রপ্তির আশায় যিনি শিক্ষক হবেন ও শিক্ষকতা করবেন তিনি কখনো প্রকৃত শিক্ষক হয়ে উঠবেন না। কেননা, প্রকৃত শিক্ষাদানের অন্তর্নিহিত অনাবিল আনন্দ ও শিক্ষাদানের অফুরান পুণ্য থেকে তিনি বঞ্চিতই থেকে যাবেন। শিক্ষকতার প্রকৃত পরিতৃপ্তি লাভের অতল সাগরে কোনোদিন যাওয়া হবে না তার। শিক্ষার্থীর জন্য যিনি নিবেদিতপ্রাণ তিনিই পরম শ্রদ্ধেয়। তাকেই শ্রদ্ধাভরে আজীবন মনে রাখে শিক্ষার্থী।


শিক্ষক নিজে হবেন অত্যন্ত সৎ ও ন্যায়পরায়ণ এবং তেমনি সৎ ও ন্যায়পরায়ণ করে গড়ে তুলবেন তার শিক্ষার্থীদের। কখনো কোনো মিথ্যার আশ্রয় নেবেন না শিক্ষক। প্রতিবাদ করবেন অন্যায়ের। ঘৃণা করবেন অন্যায়কে। সচেষ্ট থাকবেন ন্যায় প্রতিষ্ঠায়। সততার বলেই বলীয়ান থাকবেন শিক্ষক। কখনই শঠতার আশ্রয় নেবেন না কর্মে ও কথায়। ফাঁকি দেবেন না কাজে। নিজের মধ্যে লালন করবেন ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ। লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে থেকে চিন্তা করবেন শিক্ষার্থী ও সমাজের সব মানুষের কল্যাণ। নিজের শিক্ষার্থীদের বানাবেন সৎ ও ন্যায়পরায়ণ মানুষ।


দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবোধে পরিপূর্ণ হবেন শিক্ষক। ভালোভাবে জানবেন দেশ-জাতির ইতিহাস ও ঐতিহ্য। নিজের মধ্যে গভীরভাবে লালন ও শিক্ষার্থীর মধ্যে সচেতনভাবে সঞ্চালন করবেন দেশপ্রেম ও জাতীয় চেতনা। দেশপ্রেমে ও জাতীয়তাবোধে উজ্জীবিত করবেন শিক্ষার্থীদের। গড়ে তুলবেন দেশের কল্যাণে জীবন বাজি রাখার মতো নাগরিক। অত্যন্ত সযতেœ লালন করবেন জাতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য। পোশাকে-আশাকে, চলনে-বলনে, আচার-অনুষ্ঠানে ফুটিয়ে তুলবেন জাতীয় ঐতিহ্যের আলোকিত দিকগুলো। তিনি হবেন শালীন ও উত্তম ব্যবহারের অধিকারী অনুসরণীয়-অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব। নিজের সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করে প্রতিরোধ করবেন ভিনদেশী সংস্কৃতি। শিক্ষার্থীদের মধ্যে তুলে ধরবেন নিজস্ব সংস্কৃতির সব ভালো দিক। তখন শিক্ষকের মতোই শিক্ষার্থীরা হয়ে উঠবে আদর্শ সংস্কৃতিবান ব্যক্তিত্ব।


অত্যন্ত দূরদৃষ্টিসম্পন্ন হবেন শিক্ষক। তিনি হবেন সৃষ্টিশীল, সৃজনশীল ও বাস্তববাদী। তার আয়ত্তে থাকবে শিক্ষাদানের মনস্তাত্তি¡ক জ্ঞান ও আধুনিক কলাকৌশল। একজন ভালো শিক্ষক হবেন শিক্ষার্থীর মন-মানসিকতা, যোগ্যতা-অযোগ্যতা, আগ্রহ-অনাগ্রহ বোঝার অপরিসীম ক্ষমতার অধিকারী। নিজের প্রতিটি শিক্ষার্থীকে সবদিক থেকে প্রতিনিয়ত মূল্যায়ন করবেন শিক্ষক। সেই মূল্যায়নের আলোকেই দেখাবেন শিক্ষার্থীর সামনে এগিয়ে যাওয়ার সঠিক পথ। দেখিয়ে দেবেন কোন পথে গেলে অধিক সফল হবে শিক্ষার্থীর জীবন। শিক্ষার্থীর সামর্থ্য অনুসারে বাতলে দেবেন পথ ও সে পথে চলার নিয়মকানুন। ধন্যবাদ দিয়ে, পুরস্কার দিয়ে, উৎসাহ দিয়ে, উদ্দীপনা দিয়ে প্রতিদিন বাড়িয়ে দেবেন শিক্ষার্থীদের সৎ সাহস ও কর্মোদ্যম। ঘটিয়ে দেবেন কর্মদক্ষতা, বিবেকের জাগরণ, নৈতিক শক্তির উন্মেষ, আত্মার বিকাশ ও অন্তর্দৃষ্টির উন্মোচন। দেখাবেন সঠিক স্বপ্ন, শেখাবেন উত্তম স্বপ্ন দেখা। সেই স্বপ্ন ঘুমিয়ে দেখার অলীক স্বপ্ন নয়, জেগে দেখার বাস্তব স্বপ্ন। শিক্ষার্থীর উন্নত জীবন রচনা করার শুভ স্বপ্ন। যা বাস্তবায়নের জন্য ঐকান্তিক হয়ে উঠবে শিক্ষার্থী। তার কাক্সিক্ষত শুভ স্বপ্ন বাস্তবায়নের মাধ্যমে হয়ে উঠবে সফল ও সুখী-সমৃদ্ধ মানুষ। তখনই তার শিক্ষক হয়ে উঠবেন সফল শিক্ষক।


প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের পাশাপাশি শিক্ষকের থাকতে হবে প্রাকৃতিক শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা। প্রকৃতির একনিষ্ঠ ছাত্র হবেন শিক্ষক। থাকতে হবে প্রতিনিয়ত প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান আহরণ ও বিতরণের ঐকান্তিক ইচ্ছা। নিজে শিখবেন এবং নিজের শিক্ষার্থীদের শিখাবেন প্রকৃতির পাঠ। সেই সঙ্গে শিখিয়ে দেবেন প্রকৃতির পাঠ রপ্ত করার কৌশল। শিক্ষার্থী যেন প্রকৃতিকে বানাতে পারে তার জীবনের নিত্য শিক্ষক। নিজে নিজেই শিখে নিতে পারে প্রকৃতির সঠিক শিক্ষা। প্রাতিষ্ঠানিক বা আনুষ্ঠানিক শিক্ষার নির্ধারিত সিলেবাস থাকলেও অনানুষ্ঠানিক শিক্ষার সিলেবাস অনেক ব্যাপক। সেই ব্যাপকতার ভেতর থেকে প্রতিনিয়ত ভালো-মন্দ চিনে ভালোকে গ্রহণ ও মন্দকে বর্জন করার শিক্ষা নেবেন ও দেবেন শিক্ষক।<


মো. রহমত উল্লাহ্ : শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক 


https://epaper.dainikbangla.com.bd/home/displaypage/news_2024-02-16_5_15_b 






শাস্তি দেওয়া সহজ, শিক্ষা দেওয়া কঠিন

 


পত্রিকার লিংক


শাস্তি দেওয়া সহজ, শিক্ষা দেওয়া কঠিন

দৈনিক বাংলা, ১০ জানুয়ারি ২০২৪

মো. রহমত উল্লাহ্

আমাদের দেশের অনেক স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার কতিপয় শিক্ষক এখনো শিক্ষার্থীদের শাস্তি দেওয়াকেই শিক্ষা দেওয়ার সবচেয়ে কার্যকর উপায় বলে মনে করেন। কেননা, তারা সহজে শাস্তি দিয়ে শিক্ষা নিশ্চিত করতে চান। বাস্তবে শাস্তি দেওয়া যত সহজ শিক্ষা দেওয়া তত সহজ নয়! শাস্তি দেওয়ার জন্য তেমন সময়, শ্রম, মেধা, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রয়োজন পড়ে না। কিন্তু সঠিক শিক্ষা দেওয়ার প্রয়োজনীয় পরিচর্যার জন্য অনেক সময়, শ্রম, মেধা, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রয়োগ করতে হয়। অর্থাৎ প্রকৃত শিক্ষা দেওয়ার জন্য অনেক অনেক যোগ্যতা ও দক্ষতার প্রয়োজন হয়। যিনি শিক্ষার্থীদের শাস্তি না দিয়ে সঠিক শিক্ষা প্রদানে তথা আচরণের অনুকূল স্থায়ী পরিবর্তন সাধনে সক্ষম তিনি অবশ্যই উত্তম শিক্ষক। শিক্ষার্থীদের শাস্তি দিয়ে বা ভয় দেখিয়ে নয়; বরং অনুকরণীয় অনুসরণীয় আদর্শ ব্যক্তিত্ব দিয়ে, সত্যিকারের আদর দিয়ে, উৎসাহ-উদ্দীপনা দিয়ে, বিবেক জাগ্রত করে, মানব ও দেশ প্রেমে উদ্ভূদ্ধ করে, বাস্তবতাপূর্ণ উচ্চাশা দিয়ে, সোনালি ভবিষ্যতের স্বপ্ন বুনতে দিয়ে, আর সবার মত সেও পারে এমন সৎসাহস দিয়ে, ভয়ভীতি হীন আনন্দঘন পরিবেশ দিয়েই সুনিশ্চিত করা যায় মেধানুযায়ী সুশিক্ষা। 


পরীক্ষায় এ+ গ্রেড এবং কর্ম জীবনে অধিক আর্থিক সুবিধা হাত করা মানেই যে এ+ মানুষ হওয়া নয়; তা আমরা অনেকেই বুঝিনা, বুঝতে চাইনা বলেই নিষ্ঠুরভাবে চালাই ‘মানব সন্তান’দের পিটিয়ে মানুষ করার প্রতিযোগিতা। ফলে শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য মানবিক গুণাবলি জাগ্রত করার পরিবর্তে আমরা প্রতিনিয়ত শারিরীক ও মানসিক নির্যাতন করে করে চিরতরে হটিয়ে দিই অনেকের ভিতরের অধিকাংশ জন্মগত মানবিক গুণাবলী। সাধিত হয় না তাদের আচরণের স্থায়ী অনুকূল পরিবর্তন। অর্জিত হয় না কাঙ্খিত সফট স্কিল। ফলে লেখাপড়া শিখেও তারা হয়ে উঠে আরো বেশি লোভি, নিষ্ঠুর ও আত্মকেন্দ্রিক। স্বপ্রনোদিত হয়ে এগিয়ে আসে না অপরের কল্যাণে। পরিবার, রাষ্ট্র ও সমাজে বৃদ্ধি পায় অনাচার এবং অস্থিতিশীলতা। 


মনে রাখতে হবে, বর্তমান শিক্ষার্থীরা আগের মত নয়। এখন তারা অনেক তথ্য সমৃদ্ধ, আবেগপ্রবণ, অধিকার সচেতন ও আত্মমর্যাদা বোধ সম্পন্ন। আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির কল্যাণে বিশ্বময় বিস্তৃত তাদের দৃষ্টি। বিশ্বজুড়ে তাদের পাঠশালা। অনেক রকম তাদের শিক্ষার ক্ষেত্র। অনেক রকম তাদের শিক্ষক। অনেক বেশি তাদের ইনফরমাল এডুকেশন। অনেক বেশি এখন শিক্ষার্থীর সংখ্যা। আগের দিনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতো না সবাই। হাতেগোনা যারা ভর্তি হতো তারাও টিকে থাকতো না লেখাপড়ায়। শিক্ষকদের মার খেয়ে প্রত্যক্ষ প্রতিবাদ না করলেও অধিকাংশরাই নিরব প্রতিবাদ করে, নিজেকে অযোগ্য মনে করে, পালিয়ে যেতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে। তাদের আর কোনদিন ফিরে আসা হতো না শিক্ষায়! চিহ্নিত হতোনা তাদের মেধার ক্ষেত্র। অর্জিত হতো না সঠিক যোগ্যতা ও দক্ষতা। শেষমেষ লেখাপড়া থেকে বঞ্চিত থেকে যেতো বেশিরভাগ ছেলেমেয়ে। যারা টিকে থাকতো তারা জন্মগতভাবে অত্যন্ত মেধাবী ও ব্যক্তিগত বা পারিবারিকভাবে নম্র-ভদ্র এবং শিক্ষা লাভে বদ্ধপরিকর হাতেগোনা কয়েকজন। তখনকার প্রায় শতভাগ অভিভাবক ও শিক্ষক মনে করতেন যে, কঠিন শাস্তি দিয়েই শিক্ষা দিতে হয়। অভিভাবক শিক্ষককে বলেই দিতেন, তার সন্তানকে বকাবকি ও মারধর করে মানুষ করার জন্য। যিনি শিক্ষার্থীদের বেশি পেটাতেন তাকেই ভালো শিক্ষক মনে করা হতো! তখন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়ের সংখ্যাই ছিল কম। সেভাবে ভাবলে আর চলবে না এখন। পাল্টাতে হবে নিয়ন্ত্রণ কৌশল। শক্তি খাটিয়ে নয়, বুদ্ধি খাটিয়ে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে বর্তমান ছেলেমেয়েদের। শতভাগে উন্নীত করতে হবে শিক্ষার হার। সবাইকেই ধরে রাখতে হবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। যোগ্যতাভিত্তিক শিক্ষাক্রমের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে শিক্ষার্থীদের সঠিক জ্ঞান, দক্ষতা, দৃষ্টিভঙ্গি ও মূল্যবোধ। যেনো তারা হয়ে উঠতে পারে বিশ্বমানের নাগরিক। সেই অসাধ্য সাধন করার জন্য শিক্ষকদের হতে হবে সর্বাধিক যোগ্য ও দক্ষ। তাই বদলাতে হবে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ও জীবনমান।  

লেখক: অধ্যক্ষ, শিক্ষাবিদ ও শিশুসাহিত্যিক


পত্রিকার লিংক:

https://epaper.dainikbangla.com.bd/home/displaypage/news_2024-01-10_5_14_b

প্রসঙ্গ: ভালো কলেজ, মন্দ কলেজ

 পত্রিকার লিংক


প্রসঙ্গ: ভালো কলেজ, মন্দ কলেজ

দৈনিক বাংলা, ০১ জানুয়ারি ২০২৪

মো. রহমত উল্লাহ্

>বাছাই করা ভালো শিক্ষার্থীদের কৃতিত্বে ‘ভালো কলেজ’ নামে খ্যাত শহরকেন্দ্রিক কিছু কলেজে রয়েছে হাজার হাজার শিক্ষার্থী। এখানে শিক্ষকের তুলনায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা আদর্শ অনুপাতের চেয়ে অনেক অনেক বেশি। তদুপরি তারাই অনুমতি পায় একাধিক শিফট ও শাখা খুলে আরো বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি করার। অপরদিকে, সারাদেশে বিদ্যমান হাজার হাজার কলেজ-মাদ্রাসায় রয়েছে কাম্য শিক্ষার্থীর তীব্র সংকট। প্রতি বৎসর উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে ফাঁকা থাকছে কমবেশি ১০ লাখ আসন। তদুপরি স্থাপিত হচ্ছে আরো নতুন নতুন কলেজ ও মাদ্রাসা। কাম্য শিক্ষার্থী পাচ্ছে না অনেক এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। 


৫০ থেকে ১০০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে বছরের পর বছর চলে আসছে এমন দু-চারটি করে কলেজ-মাদ্রাসা পাওয়া যাবে প্রায় প্রতিটি থানা/ উপজেলাতেই। শিক্ষকের তুলনায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা আদর্শ অনুপাতের চেয়ে অনেক কম হলেও সেসব কলেজের শিক্ষক, প্রশাসক, ভবন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বিবেচনায় আনা হলে সবই যে মন্দ, তা কিন্তু নয়। তথাপি সেসবকে বলা হচ্ছে ‘মন্দ কলেজ’। অর্থাৎ সেসব কলেজে পাশের হার কম তাই সেগুলো ভালো কলেজ নয়। ২০২৩ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায় অনেক সরকারি/ বেসরকারি কলেজের তুলনায় প্রাইভেট, মিশনারি ও বিশেষায়িত কলেজগুলো এগিয়ে। অতীতেও এমনটি লক্ষ্য করা গেছে। অথচ সরকারি কলেজে বিসিএস ক্যাডার শিক্ষক ছাড়াও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা তুলনামূলকভাবে বেশি। লক্ষণীয় যে, অসুস্থ প্রতিযোগিতার কারণে এখন শুধু ভালো শিক্ষক ও ভালো সুযোগ-সুবিধা নয়, বাছাই করা ভালো শিক্ষার্থী ভালো ফলাফলের তথাকথিত ‘ভালো কলেজে’র প্রধান উপাদান বা নিয়ামক। তাছাড়া কমিটির ও রাজনীতির অশুভ প্রভাব মুক্ত থাকাও একটি বিশেষ বিষয়। 


আলোচিত ভালো কলেজগুলোর আশেপাশে অবস্থিত কোচিং সেন্টার ও শিক্ষকদের প্রাইভেট পড়ানোর দিকে সামান্য নজর দিলে সহজেই বোঝা যায় সেসব কলেজে কেমন লেখাপড়া হয়। যাদের ছেলেমেয়ে সেসব কলেজে পড়ে, তারা কলেজের বেতন-ফি ও কোচিং-প্রাইভেট পড়ার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে হাড়ে হাড়ে টের পান ‘ভালো কলেজ’ কাকে বলে! আসলে ভালো কলেজ তো হবার কথা সেসব কলেজ যেখানে এসএসসিতে জিপিএ ২, ৩, ৪ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ভর্তি করে শুধুমাত্র ক্লাসে পড়িয়ে এইচএসসিতে জিপিএ ৩, ৪, ৫ প্রাপ্ত নরম যোগ্যতা সম্পন্ন শিক্ষার্থী বের করা হয় এবং তারা বেরিয়ে গিয়ে দেশ ও মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করে। যে সকল কলেজ শতকরা ১০০ ভাগ জিপিএ ৫ প্রাপ্ত (এসএসসিতে) শিক্ষার্থী ভর্তি করে শতকরা ৬০-৮০ ভাগ জিপিএ ৫ প্রাপ্ত (এইচএসসিতে) শিক্ষার্থী বের করে তারা কীভাবে ভালো কলেজ হয়? সব ভালো শিক্ষার্থী নিয়েও তো তারা সবার ভালো ফলাফল নিশ্চিত করতে পারেনি। তারা যদি এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে আনুপাতিক হারে এ, বি, সি, ডি প্রাপ্ত সব গ্রেডের শিক্ষার্থী ভর্তি করতো তাহলেই দেখা যেতো ভালো সুতা দিয়ে ভালো কাপড় বোনা সেসব কারিগরদের দক্ষতা কতটুকু! সেক্ষেত্রে অসুস্থ প্রতিযোগিতার ফলে মন্দ কলেজ নামে চিহ্নিত হয়ে যাওয়া কলেজেও ভর্তি হতো কিছু ভালো শিক্ষার্থী। সেসব কলেজ থেকেও পাওয়া যেত আরও ভালো ফলাফল। কিছুটা হলেও কমে আসতো ভালো-মন্দের ব্যবধান। শহরমুখী হতো না সবাই। হ্রাস পেতো ‘ভালো কলেজ’ নামে পরিচিত কলেজে ভর্তির অসুস্থ প্রতিযোগিতা। হ্রাস পেতো অনেকের শিক্ষা বাণিজ্যের অবাধ সুযোগ। দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানদের মনে এতোটা আঘাত হানতো না তথাকথিত ভালো কলেজে ভর্তি হতে না পারার অযৌক্তিক কষ্ট। সবদিক বিবেচনা করে সকল অসুস্থ প্রতিযোগিতা বন্ধ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে এলাকাভিত্তিক কাম্যসংখ্যক কলেজ মানসম্পন্ন করে তোলা কি সরকারের দায়িত্ব নয়? বাড়ির পাশে একটি ভালো কলেজ পাওয়া কি শিক্ষার্থীর অধিকার নয়?  


মো. রহমত উল্লাহ্ 

শিক্ষক ও শিক্ষা বিশ্লেষক


https://epaper.dainikbangla.com.bd/home/displaypage/news_2024-01-01_5_14_b

শিক্ষার্থীদের সহমর্মিতা অর্জন অত্যাবশ্যক



 পত্রিকার লিংক

 

 

শিক্ষার্থীদের সহমর্মিতা অর্জন অত্যাবশ্যক

মো. রহমত উল্লাহ্

শিক্ষাবিদ ও শিশুসাহিত্যিক

 দৈনিক ইত্তেফাক, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৩

মূল্যবোধের উল্লেখযোগ্য উপাদান হচ্ছে সহমর্মিতা। এটি জীবন দক্ষতা সমূহের অন্যতম দক্ষতা। জীবনের সর্বক্ষেত্রে সহমর্মিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সহমর্মিতা মনের গভীরে অবস্থিত একটি নিঃস্বার্থ মহামূল্যবান অনুভূতি। সহমর্মিতার দ্বারাই ব্যক্তিক, পারিবারিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় হয়। আন্তঃ ব্যক্তিক সম্পর্ক মজবুত হয়। অন্যের দুঃখ-ব্যথায় সমব্যথী হওয়া, সমানুভূতি অনুভব করা ও প্রকাশ করাই সহমর্মিতা। লক্ষণীয়, বিষয়টি সহানুভূতি নয়, সমানুভূতি বা সমান অনুভূতি। সহমর্মিতা সহানুভূতির চেয়ে গভীরে অবস্থিত। অর্থাত্ সহানুভূতি (Szmpathy) আর সহমর্মিতা (Empathু) এক নয়। কোন কোন সহানুভূতিতে করুনা বা স্বার্থ মিশ্রিত থাকতে পারে। কিন্তু সহমর্মিতা সর্বদাই ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত। মনের মনিকোঠায় প্রজ্জ্বলিত সহমর্মিতা এক অনিঃশেষ ত্যাগী প্রদীপ। এই প্রদীপের আলোয় উদ্ভাসিত হলেই স্বার্থহীন সহানুভূতি প্রকাশ করা যায়, প্রতিদানহীন সহায়তার বা সহযোগিতার হাত প্রসারিত করা যায়। মুখে মুখে সমবেদনা প্রকাশ করা সহমর্মিতা নয়; সহমর্মিতা হচ্ছে অন্তর দিয়ে সমবেদনা অনুভব করা এবং সে মত আচরণ করা। সহমর্মিতার দ্বারাই সহপাঠীদের সাথে সংগঠিত হয় উত্তম আচরণ ও গভীর বন্ধুত্ব। সহমর্মিতার গভীরতাই ভালোবাসার গভীরতা।

সহকর্মীদের সহমর্মিতার ফলেই তৈরি হয় আন্তরিকতাপূর্ণ কর্মপরিবেশ। সহমর্মিতার মাত্রা অনুসারেই নির্ধারিত হয় অসুস্থ, বঞ্চিত, নিপীড়িত, নির্যাতিত ও বয?োবৃদ্ধদের সঙ্গে অন্যদের আচরণ। পারিবারিক সহমর্মিতার অভাবেই শিশুরা হয়ে ওঠে অবাধ্য, বড়রা হয়ে ওঠে অসহিষ্ণু, বয়োবৃত্তদের ঠিকানা হয় বৃদ্ধাশ্রম।

সহমর্মিতাপূর্ণ সমাজ হচ্ছে নিঃস্বার্থ সহযোগিতাপূর্ণ সমাজ। সহমর্মী নাগরিক কল্যাণ রাষ্ট্রের অন্যতম উপাদান। সহমর্মী সদস্য পরিবার ও প্রতিষ্ঠানের শান্তি এবং অগ্রগতির অন্যতম নিয়ামক। ব্যক্তি, পরিবার, প্রতিষ্ঠান, সমাজ ও রাষ্ট্রের বৃহত্তর কল্যাণার্থে শিক্ষার্থীদের সহমর্মী করে গড়ে তোলা অত্যাবশ্যক। এক্ষেত্রে কিছু ব্যতিক্রম ব্যতীত পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকা প্রায় সমান্তরাল। আমাদের দেশে সার্বিকভাবে পারিবারিক তথা অভিভাবকদের শিক্ষা তুলনামূলক কম থাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তথা শিক্ষকগণের ভূমিকাই সর্বাধিক কাম্য। যার জন্য সর্বাগ্রে শিক্ষকদের হতে হবে সহমর্মী। অন্যান্য যোগ্যতার পাশাপাশি অবশ্যই সকল ধরনের ও স্তরের শিক্ষকের থাকতে হবে সহমর্মী আচরণ দিয়ে শিক্ষার্থীদের সহমর্মী করে গড়ে তোলার যোগ্যতা এবং আন্তরিকতা। তদুপরি সহমর্মিতাপূর্ণ হতে হবে শিক্ষার সার্বিক পরিবেশ। বিনিয়োগ বৃদ্ধি করতে হবে শিক্ষায়।

সহমর্মিতা শিক্ষার ও চর্চার মাধ্যমেই ধীরে ধীরে শিক্ষার্থীরা হয়ে উঠবে ভোগবাদীর পরিবর্তে অন্যের কল্যাণে নিবেদিত ত্যাগবাদী নাগরিক।