বীর

(যায়যায়দিন- ২১ এপ্রিল ২০১৭ এবং নরসিংদীর কথা- ২৯ এপ্রিল ২০০৩)
(গণপাঠ্য ছড়া)
বীর বাঙালির ঐতিহ্য
মো. রহমত উল্লাহ্
১
পান্তাভাত আর মরিচপোড়া
গামছা-ডুমা পোশাক পরা
ঐতিহ্য কে বলেছে?
এমনতরো খাওয়া-পরা
দিনে রাতে খেটে মরা
সখ করে কেউ করেছে?
বেত্রাঘাতে শুয়ে পড়ে
জমিদারের শুলে চরে
বাপ দাদারা মরেছে!
ঘটাকরে এসব করায়
অক্ষমতা তুলে ধরায়
গৌরবের কী রয়েছে?
আমাদের সব কেড়ে নিয়ে
জরির জামা গায়ে দিয়ে
পোলাও সরাব গিলতো যারা;
কেড়ে নিয়ে মুখের ভাষা
কবর দিয়ে মনের আশা
অট্টহাসি হাসত যারা;
টের পেয়েছে ঠিকই তারা
কেমন জাতি বাঙালিরা!
২
জীবন দিয়ে শত্রু তাড়াও
অত্যাচারি রুখে দাঁড়াও
ধরে রাখো সম্প্রীতি
কায়েম করো ন্যায়নীতি
মান্য কর গুরু জনে
মন খুলে দাও আপ্যায়নে
মাছে-ভাতে এদেশ ভর
শুভ্র শালীন পোশাক পর
দেশি পিঠা চিড়া মুড়ি
খেয়ে কর বাহাদুরী
বাংলা সুরে ধর গান
সজীব করো দেহ-প্রাণ
এসব আসল ঐতিহ্য।
শুভশিক্ষা গ্রহণ কর
পূর্ণদমে কর্ম কর
বাড়াও জাতির সৌন্দর্য্য।//
মেলায় যাই রে
‘দেশের সকল সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি শ্রেণি ও অবস্থা ভেদে ২শ টাকা থেকে ৩শ টাকা ধার্য করে অনলাইনের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে নিয়ে যোগ্য সকল বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তথা শিক্ষক-কর্মচারীর চাকুরি জাতীয়করণ করে দেওয়া সম্ভব।
এখন দেশের মানুষের আয় বেড়েছে। এই পরিমান টাকা পরিশোধ করা প্রায় সকল শিক্ষার্থীর পক্ষেই সম্ভব। যারা আসলেই হত দরিদ্র তাদের ফ্রি / হাফ-ফ্রি দেওয়া যেতে পারে। যে ছাত্রছাত্রী শহরে থেকে খেয়ে পরে সরকারি স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পারে সে মাসে ২০ টাকার বেশি টিউশন ফি দিতে পারে না এটি নাটক ছাড়া আর কী?
যে শিক্ষক করযোগ্য আয় করেন (বেতন ও অন্যান খাতে) সে বেসরকারি বলে সরকারকে আয়কর দিতে পারে না, এমনকি রিটার্নও জমা দিতে পারে না, এটিও নাটক ছাড়া আর কী?
বর্তমানে হাতেগুনা কয়েকজন শিক্ষার্থী ছাড়া সবাইতো লেখাপড়া করছে বেসরকারি স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে। তারাতো ভর্তিই হচ্ছে অনেক টাকা দিয়ে, আর মাসে মাসে হাজার হাজার টাকা দিচ্ছে টিউশন ফি। তাছাড়াও পরিশোধ করছে আরো শত রকম ফি! এতে কি শিক্ষা বাণিজ্য হচ্ছে না? এতে কি অসার্বজনিন হচ্ছে না আমাদের শিক্ষা?
তাহলে সারাদেশের যোগ্য শিক্ষকদের চাকরি জাতীয়করণ করে আরো অধিক যোগ্যদেরকে শিক্ষকতায় আগ্রহী করে জাতীয়ভাবে শিক্ষার মান বাড়ানোর জন্য সকল শিক্ষার্থীর টিউশন ফি যুক্তিযুক্ত পর্যায়ে বাড়িয়ে শ্রেণি ও অবস্থা ভেদে একই মাত্রায় ধার্য করা হলে শিক্ষা গেলো, শিক্ষা গেলো, বলে হায় হায় করার বা সমালোচনা করার অথবা আন্দোলন করার কোন উচিত কারণ থাকবে কি?
বাস্তবে অধিকাংশ মানুষ এখন শিক্ষা ও চিকিতসা খাতে টাকা ব্যয় করতে সক্ষম এবং অকৃপন। গ্রামের ছেলেমেয়েরাও এখন দৈনিক ২০-৩০ টাকা খরচ করে চিপস / এনার্জি ডিংস জাতীয় খাবার খেয়ে; কিছু ব্যতীক্রম ব্যতীত। ছাই দিয়ে এখন আর দাঁত মাঝে না কেউ। মোবাইল ফোন এখন ভিক্ষুকসহ সবার হাতে হাতে। গ্রামেও তৈরি হয়েছে প্রাইভেট কেজি স্কুল। সেখানেও অভাব হয় না শিক্ষার্থীর। শহরের ছেলেমেয়েদের মতো গ্রামের অনেকেই ইদানিং যেতে চায় না সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
এমতাবস্থায় আবারো বলছি, দেশের বর্তমান আর্থিক অবস্থা অনুসারে সকল শিক্ষার্থীর নিকট থেকে একটি যুক্তিযুক্ত টিউশন ফি নিয়ে এবং সকল শিক্ষকের নিকট থেকে আয়কর রিটার্ন নিয়ে সরকারের আয় বৃদ্ধি করে সকল যোগ্য ও প্রয়োজনীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করার মাধ্যমে সারা দেশে একই মানের শিক্ষা নিশ্চিত করা এখন আর মোটেও কঠিন কাজ নয়।
মো. রহমত উল্লাহ্: শিক্ষাবিদ এবং অধ্যক্ষ- কিশলয় বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজ, ঢাকা।

“আগামী ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষ শুরু হচ্ছে। এদিন সারাদেশে চলবে বর্ষবরণ উৎসব। তবে এবার অন্যান্যবারের চেয়ে ভিন্নমাত্রায় বর্ষবরণ আয়োজন করা হচ্ছে। মঙ্গল শোভাযাত্রা বিশ্বঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ায় চলতি বছর বর্ষবরণের আয়োজনে এ শোভাযাত্রা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের আতওতাধীন সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে মঙ্গল শোভাযাত্রাসহ নববর্ষ পালন করতে হবে।”
এইরূপ আদেশের পর দেশের বেসরকারি শিক্ষকগণ ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন অথবা পড়বেন এটাই যুক্তিযুক্ত। কেননা, দৈনন্দিন শিক্ষাকার্যক্রম ঠিকরেখে দিনের পর দিন অতিরিক্ত সময় ও শ্রম দিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে, রিহার্সাল করিয়ে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করবেন এবং ১লা বৈশাখে প্রতিষ্ঠান খোলা রেখে অনুষ্ঠান সফল করবেন দেশের প্রায় ৯৫ ভাগ বেসরকারি শিক্ষকগণ কিন্তু ভাতা পাবেন না। আর এই ১লা বৈশাখের ভাতা পেয়ে, ভালো ভালো খেয়ে, সরকারি ছুটি পেয়ে, সাজানো ঘরে বসে, অধিকাংশ ভিনদেশি টিভি চ্যানেল দেখবেন সরকারি চাকুরেরা!
যারা মিটিং করে আমাদের নেতিয়ে পড়া বাঙালিত্ব জাগ্রত করার জন্য ১লা বৈশাখ উদযাপনে এই নতুনমাত্রা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত অথবা আদেশ দিয়েছেন, তারা তো অতি উচ্চ পর্যায়ের সরকারি লোক। তারা বললে অনেক কিছুই হয়। অথচ, তাদের বিবেকে কি একবারও একথা জাগ্রত হওয়া উচিৎ ছিলো না যে, যাদের উপর এই জাতিকে জাগ্রত করার গুরু দায়িত্ব দিচ্ছি তারা কারা, তারা কী পায়, কী খায়, কোথায় থাকে? তাদের কি একবারও ভেবে দেখা উচিৎ ছিলো না, যাদের উপর দায়িত্ব দিচ্ছি একযোগে এদেশের সকল শিক্ষার্থী দিয়ে নতুন মাত্রায় ১লা বৈশাখ উদযাপন করানোর জন্য তারা সবাই কি আমাদের মত এই দিবসের ভাতা পায় কি না? তিনারা সবই জানেন। কিন্তু তিনারা বেসরকারিদের কাজের সময় দরকারি আর বেতনভাতার সময় বেসরকারি ভাবেন। শিক্ষক কাজও করবেন, বঞ্চিতও থাকবেন, তাতো কোন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় ন্যায়বিচার হতে পারে না।
এমতাবস্থায় আসন্ন ১লা বৈশাখের আগে বৈশাখী ভাতা দেওয়া না হলে বেসরকারি শিক্ষক সমাজ যদি এই সরকারি আদেশ অনুসারে অতিরিক্ত সময় ও শ্রম দিয়ে আসন্ন ১লা বৈশাখের আয়োজন সফল করতে অনিহা দেখায় তাহলে কি খুব বেশি অপরাধ হবে?
মো. রহমত উল্লাহ্: শিক্ষাবিদ এবং অধ্যক্ষ,কিশলয় বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজ, ঢাকা।
- See more at: http://www.dainikshiksha.com/%e0%a6%ac%e0%a7%88%e0%a6%b6%e0%a6%be%e0%a6%96%e0%a7%80-%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a7%9f%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%a8-%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a7%87/79614/#sthash.L07v7F1V.dpuf