পৈতৃক সম্পত্তিতে মুসলিম নারীর অধিকার ও ভোগদখল। বাংলা ট্রিবিউন, ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২১

পৈতৃক সম্পত্তিতে মুসলিম নারীর অধিকার ও ভোগদখল। বাংলা ট্রিবিউন, ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২১

 

পৈতৃক সম্পত্তিতে মুসলিম নারীর অধিকার ও ভোগদখল 

মো. রহমত উল্লাহ্মো. রহমত উল্লাহ্ধর্মীয় এবং রাষ্ট্রীয় বিধান থাকা সত্ত্বেও পৈতৃক সম্পত্তিতে মুসলিম নারীর অধিকার অধিকাংশ ক্ষেত্রে  অনর্জিতই থেকে যায় আমাদের দেশে। এর নানাবিধ কারণের মধ্যে সচেতনতার অভাবই প্রধান। ইসলাম ধর্ম মতে পিতামাতার অবর্তমানে তাদের স্থাবর-অস্থাবর সব সম্পত্তিতে মেয়ের অধিকার হিসাব করেই দেওয়া আছে। যদিও এটি ভাইয়ের প্রাপ্যাংশের তুলনায় অর্ধেক। অবশ্য পিতামাতা ইচ্ছে করলে তাঁদের সম্পত্তি ছেলেমেয়েকে সমান হারেও ভাগ করে দিতে পারেন। এতে ইসলাম ধর্মে কঠিন নিষেধ নেই। নতুন কোনও আইনেরও প্রয়োজন নেই। পরিমাণ যাই হোক মূল প্রশ্ন হচ্ছে, এই অধিকারটুকু আমাদের মুসলিম নারীরা অর্জন ও ভোগদখল করতে পারছেন কিনা? যদি কেউ পেরে থাকেন তো মোটের তুলনায় এটি খুবই নগণ্য।

আমাদের সমাজে এমন একটি ভ্রান্ত ধারণা প্রচলিত যে, ‘বাপের বাড়ির সম্পত্তির অংশ মেয়েরা নিয়ে নিলে স্বামীর সংসারে অনটন নেমে আসে এবং ভাইদের সাথে বোনদের সম্পর্কের কোনও সেতুবন্ধন থাকে না। বোনেরা ভাইদের বাড়িতে এবং ছেলেমেয়েরা মামার বাড়িতে যাবার বা আপ্যায়ন পাবার যোগ্যতা হারায়।’

আসল কথা হচ্ছে, মেয়েদের স্থায়ীভাবে ঠকানোর এটি একটি চতুর কৌশল ছাড়া আর কিছুই না। ভাইয়েরা পৈতৃক সম্পত্তি ভাগাভাগি (বোনদের অংশসহ) করে ভোগ-দখল করলে যদি অভিশপ্ত না হয়, সম্পর্ক অবনতি না হয়, পরস্পরের বংশধরদের আপ্যায়ন পাওয়ার অধিকার থাকে, পরস্পরের সুখে-দুঃখে এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা থাকে, তো বোনদের অপরাধ কোথায়? বোনের প্রাপ্য সম্পত্তি ভাই ভোগদখল করবে সারা জীবন, ফুফুর সম্পত্তি ভাইপো ভোগদখল করবে জোর করে; তাতে অপরাধ হবে না– অথচ পিতামাতার সম্পত্তির বৈধ প্রাপ্যাংশ কন্যা ভোগদখল করলেই ‘অভিশপ্ত’ হবে– এটা কোন নীতি-ধর্মের কথা?

ইসলাম ধর্মে ও আমাদের রাষ্ট্রীয় আইনে অন্যের প্রাপ্য সম্পত্তি ভোগদখল করার কোনও বৈধতা নেই। বরং কাউকে অধিকার থেকে বঞ্চিত করা পাপ, অপরাধ। নারী তো ভাইয়ের সম্পত্তি পায় না, পিতামাতার সম্পত্তি পায়। এতে ভাইয়ের রাগ করার, ‘অভিশাপ’ দেওয়ার বৈধতা ও যৌক্তিকতা কোথায়? ভাইকে প্রাপ্যাংশ দিতে কষ্ট না থাকলে, বোনকে দিতে এত কষ্ট কেন?

অবাক ব্যাপার, যে বাবা মেয়েকে বেশি আদর দেখায়, পুত্র-পুত্রবধূ রেখেও মেয়ের সেবা-যত্ন প্রত্যাশা করে মৃত্যু শয্যায়; সে বাবাই তার সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি অনেক সময় কূটকৌশলে ছেলের দখলে দিয়ে মরে যায়। এমন অনেকেই আছেন, ধর্মীয় সকল নিয়ম-কানুন মেনে চলেন কিন্তু নিজের মেয়ে সন্তানদের বঞ্চিত করে ভালো মানুষ সাজেন!

মেয়েদের বঞ্চিত করে ছেলেদের নামে মূল্যবান জমি-বাড়ি দলিল করে দখল দিয়ে যান এমন নীতি-আদর্শহীন বাবার সংখ্যাও আমাদের সমাজে কম নয়। যে ভাইয়ের জন্য সবার আগে নির্দ্বিধায় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ এমনকি প্রাণও দিতে পারে বোন; সেই ভাই-ই বোনের প্রাপ্যাংশ না দেওয়ার জন্য বা কম দেওয়ার জন্যে আঁটে নানান কূটকৌশল। কেউ কেউ বছরে দু-একটা দাওয়াত ও কাপড়চোপড় দিয়েই সারতে চায় বোনের প্রাপ্য সম্পত্তি না দেওয়ার দায়। কোনও অধিকার সচেতন বোন তার প্রাপ্যাংশের দাবিতে সোচ্চার হলে, বিচারপ্রার্থী হলে, আদালতের আশ্রয় নিলে, ভাই ধর্মীয় পোশাক পরে ভালো মানুষ সেজে হাজির হয় বিচারকের সামনে। কোনও অসতর্ক, অসুস্থতা বা বিপদের সময় বাবার, মায়ের, বোনের স্বাক্ষর/টিপসই নিয়ে বোনকে অধিকার বঞ্চিত করে বা করার চেষ্টা করে, এমন ভাইয়ের সংখ্যাও অনেক। এমন ভাইকেও বলা হয় আপন ভাই!

সাধারণত ধনী পরিবারের কন্যার সঙ্গে ধনী পরিবারের পুত্রেরই বিয়ে। এটা আমাদের সমাজে বেশি হয়। সেসব বিয়েতে বিয়ের দেনমোহরও ধার্য হয় তুলনামূলক বেশি। অথচ ধনী পিতার সম্পত্তির প্রাপ্যাংশ যদি ওই মেয়ে ও তার সন্তানেরা না-ই পায়, তো তাকে অধিক মূল্যায়নের ভিত্তি কোথায়?

যুগ যুগ ধরে পুত্রসন্তানের ভোগদখলে দিয়ে রাখে সব সম্পত্তি। সেই মেয়ে কখনও সম্পত্তির অধিকার চাইতে গেলে বলা হয়, তোমাকে লালন-পালন করা হয়েছে, লেখাপড়া করানো হয়েছে, বিয়ে দেওয়া হয়েছে, আবার সম্পত্তি দেবো কেন!

কী অদ্ভুত কথা! যে ছেলেকে হয়তো মেয়ের চেয়ে ভালোভাবে লালন-পালন করা হয়েছে, অধিক লেখাপড়া করানো হয়েছে, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে, অধিক ব্যয় করে বিয়েশাদি করানো হয়েছে; সেই ছেলের ভোগদখলেই থাকবে সব সম্পত্তি!

বাস্তবে আমাদের অনেক মুসলিম নারী স্বামীর সম্পত্তিতে নিজের নাম লেখানোর ও ভোগ-দখল করার জন্য যতটুকু সংগ্রাম ও অশান্তি করে, পৈতৃক সম্পত্তিতে নিজের নাম জন্মসূত্রে লেখা থাকলেও সেটি ভোগদখল করার জন্য ততটুকু সংগ্রাম করে না। বিভিন্ন যৌক্তিক, অযৌক্তিক ও ভ্রান্ত ধারণার কারণে পৈতৃক সম্পত্তি গ্রহণ ও ভোগদখল না করে উদারতা দেখালেও, নিঃশর্তে দলিল করে ভাইকে দিয়ে দেয় এমন নারীর সংখ্যা নেই বললেই চলে। অর্থাৎ নারীরা তার রক্তের অধিকার পৈতৃক সম্পত্তির দাবি সত্যিকার অর্থে মন থেকে ত্যাগ করতে পারে না, করে না কোনোদিনই। দাবি অব্যাহত রেখেই মৃত্যুবরণ করে। এই দাবির দাবিদার হয় তার সন্তানেরা। দাবি আদায় করতে গেলেই হয় বিবাদ।

কোনও নারী যদি মনে করে তার পিতামাতার নিকট থেকে প্রাপ্যাংশ ভাইকে বা ভাইয়ের সন্তানদের দিয়ে দেবেন, তো এটি মনে রাখা উচিত যে তার এই প্রাপ্য সম্পত্তির ওপর নিজের সন্তানের অধিকার ও দাবিই অগ্রগণ্য। নিজের সন্তানকে বঞ্চিত করে ভাই, ভাইয়ের সন্তানকে সম্পত্তি দেওয়া অনুচিত। ভাইয়ের অভাবের কারণে দিতে হলেও নিজের স্বামী-সন্তানের মতামত নেওয়া প্রয়োজন।

পৈতৃক সম্পত্তিতে নারীর অধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত হলে যাদের অবৈধ স্বার্থ ক্ষুণ্ন হবে, তাদের গা জ্বালা হওয়া স্বাভাবিক। এর বিপক্ষে তারা যতই যুক্তি খোঁজুক, ফন্দি আঁটুক, পৈতৃক সম্পত্তির (স্থাবর-অস্থাবর) ওপর নারীর এই জন্মগত অধিকার অর্জন ও ভোগ করার জন্য মনের জোর নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে নারীকেই। নিজের ও নিজের কন্যাসন্তানের ন্যায্য পাওনা বুঝে নিতে ও দিতে হবে যেকোনও মূল্যে।

লেখক: অধ্যক্ষ, কিশলয় বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজ, ঢাকা।

Email- rahamot21@gmail.com

প্রবন্ধ - দান ও দানগ্রহীতার সম্মান। খোলা কাগজ, ০৭ মে ২০২১

পত্রিকার লিংক

দান ও দানগ্রহীতার সম্মান

খোলা কাগজ, ০৭ মে ২০২১

মো. রহমত উল্লাহ্


ইসলাম ধর্মের অন্যতম শিক্ষা হচ্ছে গরিব মানুষের প্রতি সদয় হওয়া, অসহায় মানুষকে সহায়তা দেওয়া, অনাহারী মানুষকে খাবার দেওয়া। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত হয়েছে- রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘দানকারী আল্লাহর নিকটতম, বেহেশতের নিকটতম এবং মানুষের নিকটতম হয়ে থাকে। আর দূরে থাকে জাহান্নাম থেকে।' পবিত্র রমজান মাসে এই দানের সোয়াব ৭০ গুণ বৃদ্ধি করা হয়। পবিত্র কোরআন শরিফ নাজিলের এই রমজান মাসেই নবিজি সর্বাধিক দান-সদকা করতেন। তাই আমাদেরও উচিত নবিজিকে অনুসরণ করা।


সমাজের গরিব-দুঃখী অনাহারী মানুষের কষ্ট অনুভব করার জন্যই ফরজ করা হয়েছে রোজা। রোজার সময় আমরা সবাই অনুভব করতে পারি অনাহারে থাকার যন্ত্রণা! এই যন্ত্রণা অনুভব করেই আমাদের সহানুভূতিশীল হয়ে উঠতে হবে অনাহারী মানুষের প্রতি। বাড়িয়ে দিতে হবে সাহায্যের হাত। রোজার শিক্ষা হচ্ছে- নিজে ভোগ-বিলাস, লোভ-লালসা, হিংসা-বিদ্বেষ থেকে বিরত থাকা এবং অন্যের কল্যাণে তথা সাহায্য-সহযোগিতায় নিবেদিত থাকা। 


পবিত্র রমযানের এই শিক্ষা নিয়ে সচ্ছলরা প্রতিজ্ঞা করব যে, আমরা নিজেরা এগিয়ে যাব গরিব দুঃখী মানুষকে সহায়তা করার জন্য। আমরা নিজেরাই খোঁজ নিয়ে জানবো আমাদের পাড়া-প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজনদের মধ্যে কারা অভাবগ্রস্ত আছেন। প্রকৃত অভাবিদের প্রতি আমরা আমাদের সাধ্যমত চুপি চুপি এগিয়ে দেবো সাহায্যের হাত। আমাদের অধীনস্থ শ্রমিক-কর্মচারী বা কাজের লোকদের প্রতিও আমরা সহানুভূতিশীল হব। তাদের আর্থিক অবস্থা জেনে প্রয়োজনে সাধ্যমত সহায়তা করব। সর্বক্ষেত্রেই বজায় রাখব সর্বাধিক গোপনীয়তা ও সাহায্য গ্রহীতার সম্মান।


এই করোনা মহামারীর কারণে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন অনেক মানুষ। একসময়ের অনেক সচ্ছল মানুষও এখন অসচ্ছল। সম্মানবোধের কারণে তারা হাত বাড়াতে পাচ্ছেন না সবার কাছে। আমাদের পরিচিত এমন কেউ থেকে থাকলে তাকে একান্ত গোপনে সাহায্য করবো এবং সচ্ছলদের বলবো তাকে সাহায্য করার জন্য। সম্ভব হলে পরিচিত ধনীদের কাছ থেকে সাহায্য সংগ্রহ করে পরিচিত গরিবদের পৌঁছে দিব। 


রাস্তাঘাটে ও হাটবাজারে অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর অনেক বেশি সংখ্যক ভিক্ষুক দেখা যাচ্ছে। মহামারি করোনার কারণে অনেক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ায় ভিক্ষুকের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা বারবার আমাদের সামনে হাত বাড়িয়ে দাঁড়িয়ে থাকছে। আমাদের সাধ্যমত তাদেরকে সামান্য সাহায্য দিব। কাউকে সাহায্য দিতে না পারলেও তাকে অপমান করবো না, তার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করব না। মানুষের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করাও মাহে রমজানের শিক্ষা। 


কাউকে আর্থিক সাহায্য দিয়ে তার নিকট থেকে বিনিময়ে কোন কিছু প্রত্যাশা করবো না। এমনকি সাহায্য গ্রহীতা আমার প্রতি অতিরিক্ত সম্মান প্রদর্শন করুক, নমনীয়তা প্রদর্শন করুক, এমন চিন্তাও করবো না। আমাদের দান-সাহায্যের বিনিময় আল্লাহর নিকট থেকেই প্রত্যাশা করব। আমরা সব সময় মনে রাখবো, গরিব মানুষকে সাহায্য-সহযোগিতা করা মানে তাকে খুশি করা নয়, মহান আল্লাহকে খুশি করা। এই রোজার মাসে দান-সাহায্য করলে আল্লাহতালা অতি খুশি হন, অধিক পুরষ্কার প্রদান করেন। একজন রোজাদারকে সামান্য ইফতার করালেই একটি সহি রোজার সোয়াব দান করেন। তাই এই রমজান মাসে, এই করোনাকালে আমরা সর্বাধিক দান-সাহায্য করবো ইনশাআল্লাহ।


মো. রহমত উল্লাহ্

সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক এবং অধ্যক্ষ -কিশলয় বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা।

Email- rahamot21@gmail.com


http://ekholakagoj.com/epaper/m/187601/6094181d17d29




গণপাঠ্য ছড়া - রোজা এলেই...। দৈনিক আমাদের সময়, ১৭ এপ্রিল ২০২১

 গণপাঠ্য ছড়া

দৈনিক আমাদের সময়

১৭ এপ্রিল ২০২১


রোজা এলেই...

মো. রহমত উল্লাহ্

  

রোজা এলেই রাতারাতি

নিত্যপণ্যের দাম বাড়ে 

অসাধু সব ব্যবসায়ীদের 

অস্বাভাবিক কাম বাড়ে।

অল্প দিনেই হয় যে ধনী 

চতুর্দিকে নাম বাড়ে! 


রোজা এলেই দাম বাড়ে তাই 

দরিদ্রতার ধাপ বাড়ে 

খাদ্যপণ্য যায় না কেনা 

ক্ষুধার জ্বালার তাপ বাড়ে। 

বাড়তে থাকে বাকির খাতা   

পাওনাদারের চাপ বাড়ে!


: রোজা তো নয় সাধারণের 

রক্ত চোষার ছদ্ম নাম।

রোজা এলেই বাড়বে কেন 

নিত্যপণ্যের বাজার দাম?

--------------------------------



উপ-সম্পাদকীয়- 'ধনীর দায় গরিবের হক জাকাত' -প্রিয়.কম- ২১ জুলাই ২০১৪

উপ-সম্পাদকীয়- 'ধনীর দায় গরিবের হক জাকাত' -প্রিয়.কম- ২১ জুলাই ২০১৪
ধনীর দায় গরিবের হক জাকাত

মো. রহমত উল্লাহ্‌
Submitted by priyo.islam on Mon, 21/07/2014 - 12:12pm

আল্লাহ তায়ালা যাকে সম্পদ দিয়েছেন, তার ওপর জাকাত ফরজ করেছেন। যে ব্যক্তি মালদার হওয়া সত্ত্বেও জাকাত পরিশোধ করে না, পরকালে তাকে কঠোর শাস্তি ভোগ করতে হবে। হাদিস অনুযায়ী- যার কাছে রুপা বা স্বর্ণ আছে, অথচ সে জাকাত দেয়নি, কিয়ামতের দিন ওই রুপা বা স্বর্ণকে তামার পাতে পরিণত করে দোজখের আগুনে দগ্ধ করে বুকে-পিঠে, পাঁজরে-কপালে ছ্যাঁকা দেওয়া হবে। অন্য হাদিসে আছে- যে ব্যক্তিকে আল্লাহ তায়ালা ধনসম্পদ দিয়েছেন কিন্তু সে জাকাত দেয়নি, কিয়ামতের দিন ওই ধনসম্পদ বিষাক্ত সাপ হয়ে তাকে গলায় পেঁচিয়ে ধরবে এবং দুই গালে দংশন করবে। ইসলাম ধর্মের এই বিধানটি সমাজের দরিদ্র শ্রেণীকে ধনীর সম্পদের অংশীদার করেছে। ধনী ও দরিদ্রের আর্থিক ব্যবধান কমাতে সহায়তা করে এই জাকাত ব্যবস্থা। আমরা অনেকেই জাকাতের মাসয়ালা সঠিকভাবে জানি না কিংবা জানতে চাই না। জাকাত না দেওয়ার বা কম দেওয়ার জন্য ফাঁকফোকর খুঁজতে গেলেই বিষয়টি জটিল। নিয়ত সহিহ থাকলে বুঝতে এবং মানতে কোনো জটিলতা নেই। বিশেষভাবে মনে রাখতে হবে, মাসয়ালা-মাসায়েলের ফাঁকফোকর খুঁজে-বেছে জাকাত পরিশোধ করতে গিয়ে বিন্দুমাত্র কম পরিশোধিত হলে অসীম পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে। তাই সহজ-সরল হিসাবে কিছু বেশি অর্থ পরিশোধ করাই সর্বোত্তম। এতে শতভাগ জাকাত প্রদান নিশ্চিত হবে এবং অতিরিক্ত অর্থ প্রদানের জন্য আল্লাহ তায়ালা অতিরিক্ত নেকি দান করবেন। অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা মানুষের অন্তর বোঝেন।
ইসলাম ধর্মের অনুসারী ধনী ব্যক্তির জন্য শতকরা আড়াই টাকা হারে জাকাত প্রদানের বিধান করা হয়েছে। অর্থাৎ মালদারের প্রতি ১০০ টাকার মধ্যে আড়াই টাকা গরিবের। এটি ধনীর দায় এবং গরিবের হক। প্রশ্ন হচ্ছে, কী পরিমাণ ধনসম্পদের অধিকারী হলে জাকাত ফরজ হবে? যে ব্যক্তি সাড়ে ৫২ তোলা রুপা বা সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণের কিংবা তৎমূল্যের টাকা বা ধনসম্পদের মালিক হয় এবং তার কাছে ওই পরিমাণ টাকা বা ধনসম্পদ পূর্ণ এক বছরকাল স্থায়ী থাকে, সেই ব্যক্তির ওপর জাকাত ফরজ হয়। এর চেয়ে কম হলে জাকাত ফরজ হয় না। তবে বেশি হলে অবশ্যই ফরজ হবে। জাকাতযোগ্য এই ধনসম্পদের পরিমাণকে নিসাব বলা হয় এবং যে ব্যক্তি (প্রাপ্তবয়স্ক-অপ্রাপ্ত বয়স্ক, নারী-পুরুষ) জাকাতযোগ্য ধনসম্পদের মালিক হয়, তাকে মালিকে নিসাব বা সাহেবে নিসাব বলা হয়। আমাদের সমাজের অনেকেই মনে করেন, যেহেতু আমার কাছে সাড়ে ৫২ তোলা রুপা বা সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ নেই, সেহেতু (অন্য ধনসম্পদ যতই থাকুক) আমাকে জাকাত দিতে হবে না। আসলে এটা সঠিক নয়। এ ক্ষেত্রে রুপা বা স্বর্ণ থাকা বা না থাকা কোনো বিষয় নয়। রুপা বা স্বর্ণের পরিবর্তে জাকাতযোগ্য অন্য ধনসম্পদ থাকলেও জাকাত প্রদান ফরজ হবে। রুপা বা স্বর্ণ হচ্ছে নিসাবের পরিমাণ নির্ধারণের একটি মাধ্যম মাত্র। এক বিন্দু রুপা বা স্বর্ণ না থাকলেও ওই ব্যক্তির জন্য জাকাত প্রদান ফরজ হবে, যার মালিকানায় নিসাব পরিমাণ কিংবা তার চেয়ে বেশি পরিমাণ জাকাতযোগ্য সম্পদ জাকাতবর্ষ-এর শুরুতে ও শেষে থাকে। এ ক্ষেত্রে সঠিকভাবে মালিকে নিসাব এবং জাকাত প্রদেয় সময় চিহ্নিত করার জন্য তিনটি প্রধান বিষয় বিশেষভাবে বিবেচ্য। প্রথমত, নিসাবের পরিমাণ নির্ধারণের মাধ্যম হিসেবে রুপার মূল্য ধরা হবে, নাকি স্বর্ণের মূল্য ধরা হবে? দ্বিতীয়ত, নিসাবের পরিমাণ হিসাব করার সময় কোন কোন সম্পত্তি যোগ-বিয়োগ করতে হবে? তৃতীয়ত, কিভাবে জাকাতবর্ষ গণনা করা হবে?
১. নিসাবের পরিমাণ নির্ধারণের মাধ্যম হিসেবে রুপার মূল্য ধরাই অধিক যুক্তিযুক্ত। কারণ সাড়ে ৫২ তোলা রুপার বর্তমান মূল্য সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণের চেয়ে অনেক বেশি। তাই মাধ্যম হিসেবে রুপার মূল্য ধরা হলে জাকাত প্রদানকারীর সংখ্যা ও জাকাতের পরিমাণ অনেক বৃদ্ধি পায় এবং গরিব মানুষ অধিক লাভবান হয়। ফলে আল্লাহ পাক যে উদ্দেশ্যে জাকাত ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছেন, তা অধিক কার্যকর হয়। আল্লাহ তায়ালা বান্দাদের ওপর অধিক খুশি হন। লক্ষণীয়, এই হাদিসে বারবারই আগে রুপা শব্দটি এবং পরে স্বর্ণ শব্দটি উল্লেখ করা হয়েছে। তথাপি কেউ যদি সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণের মূল্যকেই নিসাবের পরিমাপ নির্ধারণের মানদণ্ড ধরে জাকাত দেওয়া বা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে জোর আপত্তির সুযোগ নেই। যেকোনো একটিকে মানদণ্ড ধরে জাকাত প্রদান করা যাবে।
২. নিসাব পরিমাণ সম্পত্তি (জাকাতযোগ্য সম্পত্তি) হিসাব করার সময় যা কিছুর মূল্য যোগ এবং বিয়োগ হবে, তা হচ্ছে-
(ক) যোগ করতে হবে : নিজের মালিকানায় থাকা সব নগদ টাকা-পয়সা, লগি্নকৃত/বিনিয়োগকৃত টাকা-পয়সা এবং এর ওপর প্রাপ্ত লাভ, রুপা ও স্বর্ণের (ব্যবহৃত/অব্যবহৃত) বাজারমূল্য, ব্যবসায়িক পণ্য (অর্থাৎ বিক্রি করে লাভ করার নিয়তে ক্রয়কৃত সব ধরনের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি), ভাড়ায় খাটানো স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি থেকে প্রাপ্ত ভাড়ার টাকা, আদায় হওয়ার সম্ভাবনা আছে এমন পাওনাদি ইত্যাদি।
(খ) যোগ করতে হবে না : নিজেদের ব্যবহৃত বা ব্যবহারের নিয়তে ক্রয়কৃত সব ধরনের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি (রুপা ও সোনা ব্যতীত), ভাড়ায় খাটানো সব ধরনের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি, বাবা-মা ও স্বামী-সন্তানের মালিকানায় থাকা সম্পত্তি (কারণ প্রত্যেকের হিসাব পৃথক হবে), আদায় হওয়ার সম্ভাবনা নেই এমন পাওনাদি ইত্যাদি।
(গ) বিয়োগ করতে হবে : সব ধরনের দায়দেনা।
৩. জাকাতবর্ষ হিসাব করার সময় বছরের শুরু এবং শেষ দেখতে হবে। ধরা যাক, কাদির মোল্লার মালিকানায় জানুয়ারি মাসের প্রথম দিন নিসাব পরিমাণ ধনসম্পদ ছিল এবং তিনি ওই ধনসম্পদের জাকাত দিয়েছিলেন। তারপর যেকোনো কারণেই হোক, কয়েক মাস তার ধনসম্পদ নিসাব পরিমাণের চেয়ে অনেক কমে গিয়েছিল। কিন্তু আল্লাহর রহমতে ডিসেম্বর মাসের শেষ দিনে আবার নিসাব পরিমাণ ধনসম্পদ তাঁর মালিকানায় এসেছে। এমতাবস্থায় ওই মালের ওপর শতকরা আড়াই টাকা হারে জাকাত পরিশোধ করতে হবে। ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর- এই ১২ মাসই হবে তাঁর জাকাতবর্ষ। জাকাত শুধু গরিব ব্যক্তির হক। আল্লাহ তায়ালা আমাদের তাওফিক দিন, আমরা যেন যথাযথভাবে জাকাত পরিশোধ করতে পারি, আমাদের নিয়ত যেন সহিহ্ থাকে, হৃদয় যেন গরিবদের পক্ষে থাকে।
মো. রহমত উল্লাহ
লেখক: অধ্যক্ষ, কিশলয় বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজ

প্রবন্ধ- কেমন হবে ঈদের জামা। ইত্তেফাক- ২১ জুলাই ২০১৪


দৈনিক ইত্তেফাক
২১ জুলাই ২০১৪
কেমন হবে ঈদের জামা
মো. রহমত উল্লাহ্
ঈদ শব্দের অর্থ আনন্দ! বিশ্বের সকল মুসলমানদের সবচেয়ে বড় আনন্দ উত্সব হচ্ছে ঈদ! এই ঈদের আনন্দ বৃদ্ধির জন্যই চাই নতুন জামা। ছোট-বড়, ছেলে-মেয়ে, নারী-পুরুষ, শিশু-বৃদ্ধ, ধনী-গরীব, সবারই চাই দু’একটি নতুন জামা। নতুন জামা না হলে যেনো ঈদই হয় না। তো কেমন হবে ঈদের নতুন জামা? সাদা, লাল, নীল, সবুজ, হলুদ, কমলা, বেগুনি, আকাশী, নাকি সব রঙের? ছোট নাকি বড়? হাফ-ফুল নাকি থ্রিকোয়ার্টার? সালোয়ার-কামিজ নাকি প্যান্ট-শার্ট? পায়জামা-পাঞ্জাবি নাকি শাড়ি-লুঙ্গি? ফতুয়া নাকি গেঞ্জি? কাতুয়া নাকি লেহেঙ্গা? দেশি নাকি বিদেশি? টাইটফিট নাকি লুজফিট? মশারি মতো পাতলা নাকি চটের মতো মোটা? নায়ক-নায়িকার মতো নাকি ধর্মীয় আদলে? শালীন নাকি অশালীন? শোভন নাকি অশোভন? যেমন ইচ্ছে তেমন, নাকি যেমন নিয়ম তেমন? নিয়ম মেনে ইচ্ছে, নাকি ইচ্ছে মেনে অনিয়ম? নিয়ম কিসের? ঈদের নিয়ম। কিসের ঈদ? মুসলমানদের ঈদ। ইসলাম ধর্মের ঈদ। ইসলাম ধর্মের নিয়মইতো ঈদের নিয়ম। মুসলমানদের পোশাকইতো মুসলমানদের ঈদের জামা। মুসলমানদের পোশাক কী? শালীন পোশাক। পবিত্র পোশাক। শালীন, পরিষ্কার, পরিচ্ছন্ন ও পবিত্র পোশাক বৃদ্ধি করে নিজের মনের পবিত্রতা। অন্যের মনে জায়গায় শ্রদ্ধাবোধ। অশালীন পোশাক নিজের ও অন্যের মনে জাগাতে পারে অশুভ চিন্তা। রঙিন পোশাকে রাঙিয়ে তুলে মন। শুভ ভাবনা জাগায় শোভন পোশাক।

জামা-কাপড়ের নাম যা-ই হোক, দেশি হোক আর বিদেশি হোক, বেশি দামি হোক আর কম দামি হোক, সাদা হোক আর রঙিন হোক, সিম্পল হোক আর ফ্যাসনেবল হোক, জাতীয় হোক আর বিজাতীয় হোক, মুসলমানদের ঈদের পোশাক অবশ্যই হতে হবে ইসলাম ধর্মের দৃষ্টিতে শালীন। কেননা ঈদ কেবল ইসলাম ধর্মের অনুসারীদের একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান। ঈদ অর্থ আনন্দ হলেও, লাগামহীন নয় এই আনন্দ। সামাজিক, পারিবারিক ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান যেমন ঐ সমাজ, পরিবার ও রাষ্ট্রের বিধিবিধান দ্বারা নিয়ন্ত্রিত; তেমনি সকল ধর্মীয় অনুষ্ঠানও ঐ ধর্মের বিধিবিধান দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। অন্যান্য উত্সবের চেয়ে এর মাহাত্ম্য মুসলমানদের জন্য অনেক বেশি। সমাজের সকল মুসলমান একসাথে ঈদ উদযাপন করলেও এটি কেবল সামাজিক অনুষ্ঠান নয়; এটি মূলত ইসলাম ধর্মের একটি বিধান পালন বা ইবাদত।

মহান আল্লাহ্তায়ালার নির্ধারিত বিধান অনুসারে ঈদ উদযাপন যেমন পুণ্য কর্ম; তেমনি সেই বিধান অমান্য করে যথেচ্ছ পোশাক পরে ঈদের নামে লাগামহীন আনন্দ-উত্সব মুসলমানদের জন্য পাপ কর্ম। আল্লাহ্তায়ালা আমাদেরকে এই পাপ কর্ম থেকে হেফাজত করুন। যেনো কোন হুজুগে আমরা ভুলে না যাই, কেমন হবে আমাদের ঈদের জামা। যেনো নিজেরা পরতে পারি সত্যিকার ঈদের আসল জামা এবং উপহার দিতে পারি অন্যকেও।

লেখক: অধ্যক্ষ,(কিশলয় বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজ, ঢাকা, Email: rahamot21@gmail.com



প্রবন্ধ- কেমন হবে ঈদের পোশাক। আলোকিত বাংলাদেশ- ০৮ আগস্ট ২০১৩

আলোকিত বাংলাদেশ
০৮ আগস্ট ২০১৩
কেমন হবে ঈদের পোশাক 
মো. রহমত উল্লাহ্
ঈদ শব্দের অর্থ আনন্দ! বিশ্বের সকল মুসলমানদের সবচেয়ে বড় আনন্দ উত্সব হচ্ছে ঈদ! এই ঈদের আনন্দ বৃদ্ধির জন্যই চাই নতুন জামা। ছোট-বড়, ছেলে-মেয়ে, নারী-পুরুষ, শিশু-বৃদ্ধ, ধনী-গরীব, সবারই চাই দু'একটি নতুন জামা। নতুন জামা না হলে যেনো ঈদই হয় না। তো কেমন হবে ঈদের নতুন জামা? সাদা, লাল, নীল, সবুজ, হলুদ, কমলা, বেগুনি, আকাশী, নাকি সব রঙের? ছোট নাকি বড়? হাফ-ফুল নাকি থ্রিকোয়ার্টার? সালোয়ার-কামিজ নাকি প্যান্ট-শার্ট? পায়জামা-পাঞ্জাবি নাকি শাড়ি-লুঙ্গি? ফতুয়া নাকি গেঞ্জি? কাতুয়া নাকি লেহেঙ্গা? দেশি নাকি বিদেশি? টাইটফিট নাকি লুজফিট? মশারি মতো পাতলা নাকি চটের মতো মোটা? নায়ক-নায়িকার মতো নাকি ধর্মীয় আদলে? শালীন নাকি অশালীন? শোভন নাকি অশোভন? যেমন ইচ্ছে তেমন, নাকি যেমন নিয়ম তেমন? নিয়ম মেনে ইচ্ছে, নাকি ইচ্ছে মেনে অনিয়ম? নিয়ম কিসের? ঈদের নিয়ম। কিসের ঈদ? মুসলমানদের ঈদ। ইসলাম ধর্মের ঈদ। ইসলাম ধর্মের নিয়মইতো ঈদের নিয়ম। মুসলমানদের পোশাকইতো মুসলমানদের ঈদের জামা। মুসলমানদের পোশাক কী? শালীন পোশাক। পবিত্র পোশাক। শালীন, পরিষ্কার, পরিচ্ছন্ন ও পবিত্র পোশাক বৃদ্ধি করে নিজের মনের পবিত্রতা। অন্যের মনে জায়গায় শ্রদ্ধাবোধ। অশালীন পোশাক নিজের ও অন্যের মনে জাগাতে পারে অশুভ চিন্তা। রঙিন পোশাকে রাঙিয়ে তুলে মন। শুভ ভাবনা জাগায় শোভন পোশাক।

জামা-কাপড়ের নাম যা-ই হোক, দেশি হোক আর বিদেশি হোক, বেশি দামি হোক আর কম দামি হোক, সাদা হোক আর রঙিন হোক, সিম্পল হোক আর ফ্যাসনেবল হোক, জাতীয় হোক আর বিজাতীয় হোক, মুসলমানদের ঈদের পোশাক অবশ্যই হতে হবে ইসলাম ধর্মের দৃষ্টিতে শালীন। কেননা ঈদ কেবল ইসলাম ধর্মের অনুসারীদের একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান। ঈদ অর্থ আনন্দ হলেও, লাগামহীন নয় এই আনন্দ। সামাজিক, পারিবারিক ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান যেমন ঐ সমাজ, পরিবার ও রাষ্ট্রের বিধিবিধান দ্বারা নিয়ন্ত্রিত; তেমনি সকল ধর্মীয় অনুষ্ঠানও ঐ ধর্মের বিধিবিধান দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। অন্যান্য উত্সবের চেয়ে এর মাহাত্ম্য মুসলমানদের জন্য অনেক বেশি। সমাজের সকল মুসলমান একসাথে ঈদ উদযাপন করলেও এটি কেবল সামাজিক অনুষ্ঠান নয়; এটি মূলত ইসলাম ধর্মের একটি বিধান পালন বা ইবাদত।

মহান আল্লাহ্তায়ালার নির্ধারিত বিধান অনুসারে ঈদ উদযাপন যেমন পুণ্য কর্ম; তেমনি সেই বিধান অমান্য করে যথেচ্ছ পোশাক পরে ঈদের নামে লাগামহীন আনন্দ-উত্সব মুসলমানদের জন্য পাপ কর্ম। আল্লাহ্তায়ালা আমাদেরকে এই পাপ কর্ম থেকে হেফাজত করুন। যেনো কোন হুজুগে আমরা ভুলে না যাই, কেমন হবে আমাদের ঈদের জামা। যেনো নিজেরা পরতে পারি সত্যিকার ঈদের আসল জামা এবং উপহার দিতে পারি অন্যকেও।

লেখক: অধ্যক্ষ,(কিশলয় বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজ, ঢাকা, Email: rahamot21@gmail.com



গজল- আল্লাহ, আল্লাহ, আল্লাহ

গজল- আল্লাহ, আল্লাহ, আল্লাহ
গজল- আল্লাহ, আল্লাহ, আল্লাহ

গীতিকার- মোহাম্মদ আলী

আল্লাহ নামের মধুর পেয়ালা যেজন পিয়াছে

পিপাসা শুধু তাহার বেড়েই চলেছে।

একাগ্র চিত্তে যারা এই নাম জপেছে।

ক্ষুধা তৃষনা তাদের ছেড়ে চলে গিয়েছে।

এই নামের গুনে আকাশ পথে উঠতে পারে

দেশ হতে দেশান্তরে ছুটতে পারে।

এই নামে পাপিয়া ডাকে কুহু কুহু

এই নাম আওলিয়া জপে আল্লাহু আল্লাহু

এই নাম সুধার পেয়ালা যেজন পিয়াছে।

ইহকালে এই নামের পাগল হইবে যে জন,

পরকালে পাইবে সে বেহেস্ত রতন।

গজল- প্রভু দয়াময়

গজল- প্রভু দয়াময়
গজল- প্রভু দয়াময়

গীতিকার- মোহাম্মদ আলী

এই দেহের মালিক প্রভু দয়াময়

প্রভু, তুমি যদি দয়া কর আমার কিসের ভয়?

মাটির মানুষ বানাইয়া

শয়তানরে দিলা পাশে দাঁড় করাইয়া।

স্রোতের উলটা গুন টানিতে

আমায় তুমি আদেশ দিলা। ঐ

চলার পথে আবর্জনা, দাম আর কচুরিপানা;

চলতেতো আর পারি নাকো বড় কষ্ট হয়। প্রভু দয়াময়। ঐ

রহমান, রহিম নাম নিয়া

দিলাম নৌকা ছাড়িয়া

কী করবে শয়তান দাড় টানিয়া?

আমার প্রভু যদি কান্ডারি হয়। ঐ

নৌকা আমার পারে যাবে এই ভরসা হয়

নবীর নামের দুরদ যদি আমার দিলে রয়। ঐ