প্রবন্ধ- 'বিসর্গের দুঃখ' -ইত্তেফাক- ১১ নভেম্বর ২০১৭

প্রবন্ধ- 'বিসর্গের দুঃখ' -ইত্তেফাক- ১১ নভেম্বর ২০১৭
P_20171111_164819_1_1_1[দৈনিক ইত্তেফাক, ১১ নভেম্বর ২০১৭]
:ভাষাপ্রেম:
বিসর্গের দুঃখ
মো. রহমত উল্লাহ্

আমরা জীবন দিয়ে রক্ষা করেছি আমাদের মাতৃভাষা। আমাদের শহীদ দিবসেই আজ বিশ্বব্যাপী পালিত হয় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। অথচ সঠিক চর্চা ও পরিচর্যার মাধ্যমে মাতৃভাষার উত্কর্ষ সাধনে আমরা অনেকেই এখনো অনেক বেশি উদাসীন। এমনকি অক্ষরের প্রয়োগ, শব্দের বানান, শব্দ গঠন, শব্দ সংক্ষেপণ, শব্দের প্রয়োগ, বাক্য গঠন, যতিচিহ্নের ব্যবহার ইত্যাদি সাধারণ বিষয়েও আমরা প্রায় সবাই এত বেশি ভুল লিখি যা স্বল্প পরিসরে আলোচনা সম্ভব নয়। তাই এই নিবন্ধে কেবল বিসর্গের (ঃ) ব্যাপক অপব্যবহারের আংশিক চিত্র তুলে ধরা হলো।
ভাষার গতিবৃদ্ধির জন্য শব্দসংক্ষেপ অপরিহার্য। তাই শব্দ সংক্ষেপ করার জন্যও প্রত্যেক ভাষারই থাকা চাই সর্বজনবিদিত একটি সুনির্দিষ্ট নিয়ম। আমাদেরও আছে। কিন্তু সে নিয়ম অনুসরণ করছি না আমরা সবাই।
যেমন: ‘ডাঃ মোঃ সাঃ জাঃ ফয়েজ, এমঃ বিঃ বিঃ এসঃ’। এক্ষেত্রে বিসর্গ (ঃ) গুলোর অপব্যবহার করা হয়েছে যতিচিহ্ন (শব্দ সংক্ষেপণ চিহ্ন) হিসেবে। অর্থাত্ ‘ডাক্তার মোহাম্মদ সারোয়ার জাহান ফয়েজ’, ‘ব্যাচেলর অফ মেডিক্যাল সাইন্স’ কথাগুলোকে সংক্ষিপ্ত করার ব্যর্থ চেষ্টা করা হয়েছে বিসর্গ দিয়ে।
আবার ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয় স্মারক নম্বর’ কথাগুলোকে সংক্ষেপে লেখা হচ্ছে—‘শিঃ মঃ স্মাঃ নং’ এভাবে। গভঃ দিয়ে গভর্নমেন্ট, প্রাঃ দিয়ে প্রাইভেট, লিঃ দিয়ে লিমিটেড, হঃ দিয়ে হযরত, ছঃ দিয়ে ‘ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া ছাল্লাম’, রাঃ দিয়ে ‘রাদিয়াল্লা হু আন হু’ ইত্যাদি লেখা হয়ে থাকে। এভাবে বিসর্গ (ঃ) দিয়ে শব্দ সংক্ষেপ করা সঠিক নয়।
বিসর্গ (ঃ) কে যতিচিহ্ন হিসেবে ব্যবহার করা যায় না। যতিচিহ্নের কোনো উচ্চারণ ধ্বনি নেই। কেননা, কোনো যতিচিহ্নই বর্ণ নয়। বিসর্গ (ঃ) একটি বর্ণ। বিসর্গের (ঃ) আছে উচ্চারণ ধ্বনি। আছে সঠিক ব্যবহারের নিয়মকানুন। অথচ আমরা অনেকেই না জেনে, না বুঝে এই বিসর্গ (ঃ) ধ্বনিকে ব্যবহার করছি যতিচিহ্ন হিসেবে। এতে বিলুপ্ত হচ্ছে বিসর্গ (ঃ) এর উচ্চারণ ধ্বনি ও অস্তিত্ব। আবার এইরূপ অপব্যবহূত বিসর্গ (ঃ) এর উচ্চারণ করতে গেলেও অর্থ দাঁড়াচ্ছে অন্যরকম। যেমন— ‘হাইমচর হামদর্দ হাসপাতাল’কে বিসর্গযোগে সংক্ষিপ্ত করতে গেলে হবে ‘হাঃ হাঃ হাঃ’। উচ্চারণ হবে ‘হাহ্ হাহ্ হাহ্’। অর্থ দাঁড়াবে উচ্চৈঃস্বরে হাসির শব্দ।
শব্দ সংক্ষেপ করার জন্য ব্যবহার করতে হবে যতিচিহ্ন। একমাত্র দাঁড়ি (। ) ব্যতীত সকল যতিচিহ্নই আমরা পেয়েছি বা নিয়েছি ইংরেজি ভাষা থেকে। তাই ব্যবহারও হচ্ছে ইংরেজি ভাষার রীতি অনুসারেই। সেমতে শব্দ সংক্ষেপ করার জন্য ব্যবহূত হবে ডট (.)। বাংলায় আমরা এর নাম দিয়েছি এক বিন্দু (.) বা শব্দ সংক্ষেপণ চিহ্ন। যেমন: ডা. মো. সা. জা. ফয়েজ, এম. বি. বি. এস.। শি. ম.স্মা., এস. এস. সি., এম. এসসি., বি. এড., বি. ডি. আর. ইত্যাদি।
শুধু শব্দ সংক্ষিপ্ত করার জন্যই যে বিসর্গের (ঃ) অপব্যবহার হচ্ছে তা নয়, বিশ্লেষণ করার জন্যও অহরহ অপব্যবহূত হচ্ছে বিসর্গ (ঃ) নামক ধ্বনি। ‘যেমন—/ যেমন:’-কে বিসর্গ দিয়ে লেখা হচ্ছে ‘যেমনঃ’। ‘নাম—/ নাম:’-কে লেখা হচ্ছে ‘নামঃ’। ‘গ্রাম—/ গ্রাম:’-কে লেখা হচ্ছে ‘গ্রামঃ’। ‘পোস্ট—/ পোস্ট:’-কে লেখা হচ্ছে ‘পোস্টঃ’। বিসর্গের মতো এমন অনেক ধ্বনি, বর্ণ এবং যতিচিহ্ন প্রয়োগ আমাদের খামখেয়ালির জন্য বাংলা ভাষা আজ ক্ষত-বিক্ষত ও দুঃখভারাক্রান্ত।
অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও বাস্তব যে, বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নামফলক, চিঠিপত্র, টেলিভিশন এমনকি অনেক প্রকাশিত বই-পত্রপত্রিকায় এমনি ভুলভাবে বিসর্গের অহরহ প্রয়োগ দীর্ঘদিন দেখতে দেখতে এখন নতুন প্রজন্মসহ আমরা অনেকেই মনে করি তা-ই সঠিক। এমনকি আমাদের অধিকাংশ শিক্ষিত মানুষের নামের সংক্ষিপ্তরূপ আমাদের শিক্ষা সনদে লেখা হয়েছেও হচ্ছে (ঃ) বিসর্গ দিয়ে। যেমন—মো., মোসা., মি. এসবকে লেখা হচ্ছে মোঃ, মোসাঃ, মিঃ, ইত্যাদি। আজীবন এই ভুল বয়ে বেড়াচ্ছি সবাই।
অথচ শিক্ষা বোর্ড এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ একটু সচেতন হলেই বন্ধ করা যায় এই চলমান / প্রচলিত ভুল। তা করা হলে নিজের সনদ দেখেই আমাদের সন্তানেরা শিখতে পারবে শব্দ সংক্ষেপণ চিহ্নের ব্যবহার এবং পরিহার করতে পারবে (ঃ) বিসর্গের অপব্যবহার। এ ব্যাপারে যথাশীঘ্র সম্ভব বাংলা একাডেমিসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন সকল প্রতিষ্ঠান ও প্রিন্ট মিডিয়াসমূহ ঐকমত্যে এসে একই নিয়ম অনুসরণ অত্যাবশ্যক। মনে রাখতে হবে সামান্য অবহেলায় ভাষার ভেতরে কোনো ভুল বিস্তৃত হয়ে পড়লে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ভাষা; যা কাটিয়ে ওঠা হয়ে পড়ে অত্যন্ত কঠিন ও সময়সাপেক্ষ।
n লেখক :অধ্যক্ষ, কিশলয় বালিকা
বিদ্যালয় ও কলেজ, ঢাকা
ই-মেইল :rahamot21@gmail.com

http://www.ittefaq.com.bd/print-edition/sub-editorial/2017/11/11/235588.html

আধুনিক গান- 'আলোর আড়ালে থাকে আঁধার...'

আধুনিক গান- 'আলোর আড়ালে থাকে আঁধার...'

<আধুনিক গান>


আলোর আড়ালে থাকে


আঁধার কালো


আঁধারের আড়ালেই


থাকে আলো।।


দিনের পরে আসে রাত


রাতের পরে আসে রাত।


দুখ আছে তাই সুখ


লাগে ভালো।।


ভাটার পরে আসে টান


টানের পরেই আসে বান।


বিরহ আছে তাই


মিলন ভালো।।


গীতিকার- মো. রহমত উল্লাহ্‌


+8801711147570


(কথা ও সুর: ফেব্রুয়ারি ২০১৭, মোহাম্মদপুর, ঢাকা।)

গান- বারো মাসে বারো বার সাজে

গান- বারো মাসে বারো বার সাজে

<দেশের গান>


বারো মাসে বারো বার


সাজে বাংলাদেশ


রূপে-গুণে ভরে মন


দেখি অনিমেষ।।


বৈশাখে ঝড় হয়, জৈষ্ঠ্যে ফল


আষাঢ়ে রিমঝিম, শ্রাবনে ঢল।


গ্রীষ্ম শেষে বনান্তে


বর্ষা নামে বেশ।।


ভাদ্রে তাল পাকে, আশ্বিনে পান


কার্তিকে টিপ টিপ, অগ্রাণে ধান।


শরত শেষে হেমন্তে


শিশির ভেজা কেশ।।


পৌষে পাতা ঝরে, মাঘে কাঁপে ধরা


ফাল্গুনে ফুটে ফুল, চৈত্রে খরা।


শীতের শেষে বসন্তে


নতুন লাগে দেশ।।


[রচনা: জুন ২০০৪, পলাশ, নরসিংদী।নিজের সুর: ফেব্রুয়ারি ২০১৭, মোহাম্মদপুর, ঢাকা ]

গান- ও ভোলা মন জেগে ওঠো

গান- ও ভোলা মন জেগে ওঠো

<ধর্মীয় গান>


ও ভোলা মন জেগে ওঠো


দিন গেলে আর দিন পাবিনা।


মনরে আমার তুমি


ঘুমিয়ে থেকোনা।।


খোদার নামে নামাজ পড়


নবির নামে দুরূদ পড়।


মনে মনে শপথ করো


করবেনা গুনাহ্।।


নিজের ঈমান পাকা করো


সত্য পথে বৈঠা ধরো।


খুলে দিলে বুকের পাল


আর কি ভাবনা।।


[রচনা: ০৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৪, পলাশ, নরসিংদী ]







 

গণপাঠ্য ছড়া- 'বীর বাঙালির ঐতিহ্য' যায়যায়দিন- ২১ এপ্রিল ২০১৭ এবং নরসিংদীর কথা- ২৯ এপ্রিল ২০০৩

গণপাঠ্য ছড়া- 'বীর বাঙালির ঐতিহ্য' যায়যায়দিন- ২১ এপ্রিল ২০১৭ এবং নরসিংদীর
কথা- ২৯ এপ্রিল ২০০৩

IMG_20180425_151827_1


(যায়যায়দিন- ২১ এপ্রিল ২০১৭ এবং নরসিংদীর কথা- ২৯ এপ্রিল ২০০৩)


(গণপাঠ্য ছড়া)


বীর বাঙালির ঐতিহ্য
মো. রহমত উল্লাহ্

পান্তাভাত আর মরিচপোড়া
গামছা-ডুমা পোশাক পরা
ঐতিহ্য কে বলেছে?


এমনতরো খাওয়া-পরা
দিনে রাতে খেটে মরা
সখ করে কেউ করেছে?


বেত্রাঘাতে শুয়ে পড়ে
জমিদারের শুলে চরে
বাপ দাদারা মরেছে!


ঘটাকরে এসব করায়
অক্ষমতা তুলে ধরায়
গৌরবের কী রয়েছে?


আমাদের সব কেড়ে নিয়ে
জরির জামা গায়ে দিয়ে
পোলাও সরাব গিলতো যারা;
কেড়ে নিয়ে মুখের ভাষা
কবর দিয়ে মনের আশা
অট্টহাসি হাসত যারা;


টের পেয়েছে ঠিকই তারা
কেমন জাতি বাঙালিরা!



জীবন দিয়ে শত্রু তাড়াও
অত্যাচারি রুখে দাঁড়াও


ধরে রাখো সম্প্রীতি
কায়েম করো ন্যায়নীতি


মান্য কর গুরু জনে
মন খুলে দাও আপ্যায়নে


মাছে-ভাতে এদেশ ভর
শুভ্র শালীন পোশাক পর


দেশি পিঠা চিড়া মুড়ি
খেয়ে কর বাহাদুরী


বাংলা সুরে ধর গান
সজীব করো দেহ-প্রাণ


এসব আসল ঐতিহ্য।


শুভশিক্ষা গ্রহণ কর
পূর্ণদমে কর্ম কর


বাড়াও জাতির সৌন্দর্য্য।//


IMG_20180425_132048_4

উপ-সম্পাদকীয়- 'কওমি মাদ্রাসার সিলেবাসে যুক্ত হোক কর্মমুখী শিক্ষা'- সমকাল ও দৈনিক শিক্ষা- ২২ এপ্রিল ২০১৭

উপ-সম্পাদকীয়- 'কওমি মাদ্রাসার সিলেবাসে যুক্ত হোক কর্মমুখী শিক্ষা'- সমকাল ও
দৈনিক শিক্ষা- ২২ এপ্রিল ২০১৭
কওমি মদ্রাসার সিলেবাসে যুক্ত হোক কর্মমুখী শিক্ষা -সমকালসমকাল ও দৈনিক শিক্ষা > ২২ এপ্রিল ২০১৭।
কওমি মাদ্রাসার সিলেবাসে যুক্ত হোক কর্মমুখী শিক্ষা
মো. রহমত উল্লাহ্
বাংলাদেশে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষা প্রসারে দানশীল মানুষের অবদান সবচেয়ে বেশি। কোনো সরকারকেই কওমি মাদ্রাসার ভবন তৈরি এবং এর শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য উল্লেখযোগ্য আর্থিক অনুদান দিতে হয়নি; যেমনটি দেওয়া হয়েছে আলিয়া মাদ্রাসার ক্ষেত্রে। হয়তো সব সরকারই এমন ধারণা পোষণ করেছে ও করছে যে, কওমি মাদ্রাসায় শিক্ষিতরা যেহেতু জাতীয় উৎপাদনে ভূমিকা রাখার কোনো যোগ্যতা লাভ করে না এবং দেশের জিডিপিতে যেহেতু তাদের তেমন ভূমিকা নেই, সেহেতু কর্মমুখী জনগণের ট্যাক্সের টাকায় গঠিত সরকারি কোষাগার থেকে তাদের পেছনে অর্থ ব্যয় করা অনুচিত।
এ কথা মিথ্যা নয় যে, কওমি মাদ্রাসায় প্রচলিত শিক্ষায় শিখানো হয় না কোনো আধুনিক কর্মকৌশল। মুখস্থ করানো হয় কোরআন-হাদিস। এর পাশাপাশি সেখানে শিখানো হয় না আধুনিক কৃষিকাজ, হাঁস-মুরগি ও গরু-ছাগল লালন-পালন, মাছ চাষের নিয়ম-কানুন, জামা-কাপড় সেলাই কৌশল, ছোট-বড় কোনো ফ্যাক্টরির কাজ, দালানকোঠা নির্মাণ, কম্পিউটার পরিচালনা, মানুষের প্রয়োজনীয় কোনো পণ্যের উৎপাদন ও উদ্ভাবন, আন্তর্জাতিক ভাষা ইংরেজি; এমনকি সঠিকভাবে শিখানো হয় না মাতৃভাষা বাংলা। তদুপরি বড় বড় কিতাব উর্দুতে পড়ানো এবং বাংলা ভালো না জানার কারণে কওমি মাদ্রাসায় শিক্ষিতরা পারেন না আরবি থেকে উত্তম অনুবাদ, যা সাধারণের বোধগম্য হবে। সেই শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে তারা অর্জন করতে পারেন না বর্তমান বিশ্বসমাজে টিকে থাকায় অপরিহার্য রাজনীতি, অর্থনীতি, খনি, তড়িৎ, তরঙ্গ, চিকিৎসা, কম্পিউটার, পরিবেশ, পুষ্টি, জীববিজ্ঞান ও হিসাববিজ্ঞানের ধারণা। তাই তারা অনেক ক্ষেত্রে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয় পবিত্র কোরআন ও আধুনিক বিজ্ঞানকে। মহান সৃষ্টিকর্তা পৃথিবীর বাইরে ও ভেতরে যে অফুরন্ত সম্পদ রেখে দিয়েছেন মানুষের কল্যাণে এবং সেসবের তথ্য প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বলে দিয়েছেন পবিত্র কোরআনে; তা তারা আমাদের ব্যবহারোপযোগী করতে পারেন না। ব্যবহার করাও অনুচিত মনে করেন অনেক সময়। তারা দার্শনিক ও বৈজ্ঞানিক যুক্তি দিয়ে উপলব্ধি করতে অক্ষম যে পবিত্র কোরআন জ্ঞান-বিজ্ঞানের উৎস। তদুপরি তারা কওমি মাদ্রাসার হুজুর ব্যতীত অন্য কারও ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ মেনে নিতে চান না।
এখন সরকার কওমি মাদ্রাসাকে মান দিচ্ছে; অতএব তার সিলেবাস নিয়ে ভাবা জরুরি। আমরা মনে করি, কওমি মাদ্রাসায় যুক্ত করতে হবে কর্মমুখী ও বিজ্ঞানমনস্ক হওয়ার শিক্ষা।
ধর্মের সঙ্গে তো কর্মের কোনো বিরোধ নেই। কর্মে আছে সম্মান, ভিক্ষায় আছে অপমান। দান, সাহায্য, ভিক্ষার মাধ্যমে অর্থ আয় করা গেলেও এসব কোনো কর্ম নয়। যিনি একই সঙ্গে ধর্ম এবং কর্ম দুটিই সম্পাদন করেন তিনিই তো উত্তম। যার ধর্মীয় মূল্যবোধ আছে তার কর্মে কল্যাণ আছে। যার বিবেক নেই, ধর্মীয় মূল্যবোধ নেই, তার কর্মে কল্যাণ নেই। সে ফসলে বিষ দেয়, খাবারে ভেজাল দেয়, কাজে ফাঁকি দেয়, অন্যকে ঠকায়, মানুষকে ধোঁকা দেয়, অত্যাচার করে, দুঃশাসন করে। যে সত্যিকার ধর্মপ্রাণ সে এসব অপকর্ম করতে পারে না। পরিবার, রাষ্ট্র ও সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষা যেমন প্রয়োজন; তেমনি সুস্থ-সবল, সচ্ছল ও আত্মনির্ভরশীল মুসলমান হয়ে মর্যাদা নিয়ে মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজন কর্মমুখী ও বিজ্ঞানমনস্ক শিক্ষা। নৈতিক ও ধর্মীয় এবং কর্মমুখী ও বিজ্ঞানমনস্ক শিক্ষার সমন্বয় সাধনের মাধ্যমেই গুটানো সম্ভব মুসমানদের দান গ্রহণের হাত। নিরসন করা সম্ভব দাতাদের কূটকৌশলে সৃষ্ট আমাদের ঐক্যের ফাটল। আত্মনির্ভশীলতার অভাবই আমাদের অনৈক্য ও অশান্তির প্রধান কারণ। তাই আমাদের দেশের কওমি মাদ্রাসার শিক্ষা ব্যবস্থাকে নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি কর্মমুখী ও বিজ্ঞানমনস্ক করা জরুরি।
উর্দু শব্দ 'মাদ্রাসা'র অর্থ শিক্ষালয়। মানুষের ইহলৌকিক ও পারলৌকিক কল্যাণ সাধনের উপযোগী সব শিক্ষাই তো দিতে হবে আদর্শ শিক্ষালয়ে। কর্মমুখী ও বিজ্ঞানমনস্ক শিক্ষা সব মানুষকেই ধর্মবিমুখ করে না- তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ হতে পারে বিশ্বব্যাপী তাবলিগ জামাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত লাখ লাখ মুসলমান শ্রমিক-কর্মচারী, কর্মকর্তা, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আইনবিদ, কৃষিবিদ, বিজ্ঞানী, ব্যবসায়ী বিভিন্ন কর্মে নিয়োজিত সচ্ছল ও আত্মনির্ভরশীল মানুষ। সে ক্ষেত্রে মানও যথার্থ হবে।
অধ্যক্ষ, কিশলয় বালিকা বিদ্যালয় ও
কলেজ, ঢাকা
rahamot21@gmail.com