কলেজে ভর্তিচ্ছুদের জন্য পরামর্শ
মো. রহমত উল্লাহ্
[ইত্তেফাক >১৩ জুলাই ২০২৫]
প্রিয় শিক্ষার্থী,
তোমরা যারা এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছো সবাইকে জানাচ্ছি আন্তরিক অভিনন্দন! প্রত্যাশা করি, যারা এ+ পেয়েছ এবং যারা এ+ পাওনি- সবাই এ+ মানুষ হও। এখন নিতে হবে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির প্রস্তুতি। আবেদন জমা দিতে হবে পছন্দের কলেজে। ফলাফল অনুসারে তৈরি করতে হবে কলেজ পছন্দের তালিকা। সে তালিকায় রাখতে হবে তোমার দৃষ্টিতে উত্তম, ভালো, মধ্যম, সব ধরনের প্রতিষ্ঠান। সেই সাথে বিবেচনায় নিতে হবে আরো অনেক কিছুই।
মনে রাখতে হবে, সবাই সমান নামিদামি কলেজে ভর্তি হতে পারবে না। তাই পছন্দ তালিকায় সবকটি এমন কলেজ রাখা যাবে না যেগুলো থেকে তোমার বাদ পড়ার সম্ভাবনা থাকবে। সবগুলো থেকে বাদ পড়ে গেলে অবশ্যই মন খারাপ হবে। মন খারাপের কারণে হতাশায় নিমজ্জিত হলে উচ্চমাধ্যমিকে তোমার লেখাপড়া ক্ষতিগ্রস্ত হবার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে। আবার ভালো কলেজে ভর্তি হবার ইচ্ছায় এমন দূরের কলেজে ভর্তির আবেদন করো না যেখানে তোমার যাওয়া-আসা বা থাকা-খাওয়া বা নিরাপত্তাজনিত সমস্যা হতে পারে। বিশেষ করে মেয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য এ বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
উচ্চমাধ্যমিকের দুই বছর খুবই সংক্ষিপ্ত সময়। তাই বাড়তি ঝামেলা থেকে মুক্ত থেকে এ সময়টুকু সম্পূর্ণ কাজে লাগানোর মতো সুবিধাজনক অবস্থানে অবস্থিত কলেজে পড়াশোনা করাই সবার জন্য উত্তম। সম্ভব হলে নিজের বাসায়/বাড়িতে থেকে সহজে যাওয়া-আসা করা যায় এমন কলেজ পছন্দের তালিকায় রেখো। ভালো মনে করে দূরের কলেজে ভর্তি হলে পথেই যদি সময় চলে যায়, ক্লান্তি এসে যায়, ঝুঁকি থেকে যায়, তো লেখাপড়া করবে কখন, কীভাবে? বাড়ি থেকে অনেক দূরের কলেজে গেলে যদি থাকা-খাওয়ার সুবিধা ভালো না থাকে, লেখাপড়ার অনুকূল পরিবেশ না থাকে, স্বজনদের জন্য মন খারাপ হয়, নিরাপত্তা নিশ্চিত না হয়, ভালো সঙ্গ না জুটে, তো কলেজ যতই নামিদামি হোক তোমার লেখাপড়া কিন্তু ভালো হবে না!
নিজে ভালোভাবে লেখাপড়া করতে না পারলে নামিদামি কলেজ কাউকে ভালো রেজাল্ট দিতে পারে না। একটু খেয়াল করলেই দেখতে পাবে বা একটু খোঁজ নিলেই জানতে পারবে যে, তথাকথিত ভালো কলেজের আশেপাশেই সবচেয়ে বেশি কোচিং সেন্টার ও প্রাইভেট টিচার! নিজের সুস্থতা ও বাবা-মায়ের আর্থিক সঙ্গতির দিকটিও বিবেচনায় রাখতে হবে। বন্ধুবান্ধবের দেখাদেখি ভাবধরে হুজুগে পড়ে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। বরং অভিভাবকের সংগতির মধ্যে থেকে এগিয়ে যেতে হবে নিজের চেষ্টায়। প্রমাণ করতে হবে, সাধারণ কলেজ থেকেও অর্জন করা যায় অসাধারণ ফলাফল।
গ্রুপ নির্ধারণের ক্ষেত্রে নতুন করে ভাবতে হতে পারে কারো কারো। যেমন, যারা বিজ্ঞান বা ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে এসএসসি/ সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছ; কিন্তু ভালো ফলাফল অর্জন করতে পারোনি এবং এইচএসসি/সমমান পরীক্ষায় গিয়েও ভালো ফলাফল অর্জন করার শক্তি-সাহস রাখতে পারছ না, তাদের এখনই বিভাগ পরিবর্তন করে নেওয়া উচিত। সবাই সব বিষয় বুঝবে না, পারবে না এটিই বাস্তবতা। তুমি যে বিভাগের বিষয়গুলো ভালো বুঝ-পারো সে বিভাগে ভর্তি হওয়াই উত্তম সিদ্ধান্ত।
ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সীমাবদ্ধতার কারণে তোমার যদি উচ্চশিক্ষা গ্রহণ সম্ভব না হয় এবং দ্রুত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হয় তাহলে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন কোন কর্মমুখী কোর্সে ভর্তি হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। সেখান থেকেও অর্জন করা যায় এইচএসসি সমমানের শিক্ষাসনদ এবং তা দিয়ে চাকরি নিয়ে বা উদ্যোক্তা হয়ে পরবর্তীতে উপার্জনের পাশাপাশি লাভ করা যায় উচ্চশিক্ষা। মনে রাখতে হবে, সফলতার জন্য প্রতিষ্ঠান নয়, প্রচেষ্টাই মুখ্য।
মো. রহমত উল্লাহ্
অধ্যক্ষ, শিক্ষাবিদ ও শিশুসাহিত্যিক
পত্রিকার লিংক:
https://epaper.ittefaq.com.bd/m/462725/6872793988579
(শিক্ষার্থীদের কল্যাণার্থে লেখাটি শেয়ার করতে পারেন)
যোগাযোগ:
অধ্যক্ষ - কিশলয় বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা।
Email - rahamot21@gmail.com


0 মন্তব্য(গুলি):