শিশু পঠ্য ছড়া- 'চাকা' -২৯ এপ্লিল ২০১৬

শিশু পঠ্য ছড়া- 'চাকা' -২৯ এপ্লিল ২০১৬



Screenshot_2016-04-29-07-14-50গল্প > চাকা





মো. রহমত উল্লাহ্




কালের কন্ঠ   >   ২৯ এপ্রিল ২০১৬





>চাকা চালায় হানিফ। সাইকেলের পুরনো চাকা। টায়ার নেই, টিউব নেই, ইস্পুক নেই, কেবল রিং। হাতে ঠেলে চালু করে। ঠেলে কাঠি দিয়ে। চলতে থাকে চাকা। ছুটতে থাকে হানিফ। দৌড়ায় চাকার পিছু পিছু। চষে বেড়ায় গ্রাম।


শিমুলদের উঠানে আসে হানিফ। শোনা যায় কড়কড় কড়কড়। চাকা চালায় কয়েক পাক। দেখে শিমুল। শিমুলের দিকে ফিরেও তাকায় না হানিফ। এ-বাড়ি ও-বাড়ির উঠানে যায়। একা একা চালায়। কাউকে দেয় না। আফসোস করে সবাই। জেদ লাগে শিমুলের। তারও চাকা চাই।বাবার কাছে যায় শিমুল। ‘বাবা, আমার চাকা চাই। হানিফের চাকার মতো।’ বাবা বলেন, পুরনো চাকা পাব কই? আমাদের তো নতুন সাইকেল। ফিরে আসে শিমুল।বাড়ির কাছেই বাজার। যায় সাইকেল মেকারের দোকানে। চায় পুরনো রিং। মেকার বলেন, নেই। চাকা পাওয়ার আশা নেই। ফিরে আসে বাড়িতে। ভাবে, কী করা যায়।


পরদিন সকাল। স্কুলে যায় শিমুল। দেখা হয় নাইমের সঙ্গে। কথা হয় চাকা নিয়ে। আসে সাজিদ। কথা হয় তিনজনে। ঠিক হয়, তারা নিজেরাই বানাবে চাকা। সমবয়সী তিনজন। বয়স ছয় কি সাত। দেখতে সবার বড় শিমুল। গায়ের রং তামাটে। কালো চুল। চৌকস চেহারা। বলে, ঠিক আছে। মনে থাকে যেন।


ছুটির দিন। একসঙ্গে হয় তিনজন। যায় বনবাদাড়ে। দা নেয়। সুতা নেয়। বনের ভেতর ঢোকে। একটা গাছ খুঁজে পায়। দীর্ঘ চিকন শাখা। আগাগোড়া এক রকম। পুরোটাই মসৃণ। সহজে বাঁকানো যায়। ভাঙে না। ফাটে না। মচকে না। চাকা বানানোর উপযোগী।


ফিরে আসে জামতলায়। নিয়ে আসে শাখাগুলো। ছাঁটায় প্রতিটি শাখার দুই মাথা। বাঁকা করে একটি। কৌশলে মেলায় দুই মাথা। ধরে একজনে। বাঁধে দুইজনে। হয়ে যায় চাকা। হানিফের চাকার চেয়ে বড়। হাহ-হা। হেসে ওঠে সবাই। বানায় আরেকটি। আরো বড়। বানায় আরো একটি। আরো বড়। সবার বড়টা নেয় শিমুল। এরপর নেয় জামের ডাল। গুলতির বাঁটের মতো। তিনটি ডাল কাটে। বানায় তিনটি হাতল। এমন হাতলেই চলে চাকা। এখন সব রেডি। এখন সবাই খুশি। শুরু হয় চাকা চালানো।


তিনজনে চালায় চাকা। ছুটে গ্রামের পথে। যায় হানিফদের উঠানে। চালাতে থাকে জোরসে। হানিফও চালায়। সবার আগে শিমুল। শিমুলের চাকা বড়। বড় চাকা বেশি চলে। সবার পেছনে হানিফ। হানিফের চাকা ছোট। লোহার তৈরি। বেশ ভারী। তাই কম চলে। শরম লাগে তার। চালায় না সবার সঙ্গে। বসে থাকে চুপচাপ। বুঝতে পারে শিমুল। কেন হানিফের মুখ ভার।


হানিফের কাছে যায় শিমুল। চালাতে দেয় নিজের চাকা। বলে, এই নে। আমার বড়টা তুই চালা। তোর ছোটটা আমি চালাই। আরেকটা বানাব। আরো বড় করে। শুনে, অবাক হয় হানিফ। মনে পড়ে আগের কথা। ভাবে, ডাট দেখানো ঠিক না।


একসঙ্গে চাকা চালায় চারজনে। হাহ হা হোহ হো। হুর রে।<


!--more-->

 http://www.kalerkantho.com/feature/tuntuntintin/2016/04/29/352716#sthash.JiurEnYN.dpuf


উপ-সম্পাদকীয়- 'বীর বাঙালির ঐতিহ্য প্রসঙ্গ' -ভোরের কাগজ- ২২ এপ্রিল ২০১৬

উপ-সম্পাদকীয়- 'বীর বাঙালির ঐতিহ্য প্রসঙ্গ' -ভোরের কাগজ- ২২ এপ্রিল ২০১৬

প্রকাশঃ ভোরের কাগজ >শুক্রবার, ২২ এপ্রিল ২০১৬




>ইদানীং মনে হয় পহেলা বৈশাখ মানেই পান্তা-ইলিশ। পান্তা-ইলিশ না হলে যেন পহেলা বৈশাখ উদযাপন হবে না। তাই গরম ভাতে পানি দাও। চড়া দামে মরা ইলিশ কেনো। ফ্রাইপ্যানে ভাজি (বারবিকিউ?) করো। পোড়া মরিচ সঙ্গে দাও। নিয়ে যাও বটমূলে। খাও টিভি ক্যামেরা এলে। তা না হলে তুমি কেমন বাঙালি? কিছুকাল আগেও ছিল না এমন হুজুগ।এই পান্তাভাত আর মরিচপোড়া খাওয়া কি বাঙালির ঐতিহ্য? এসব কি বাঙালিরা কখনো শখ করে খেতেন? বিষয়টি এমন ছিল কি যে, পর্যাপ্ত গরম ভাত আর মাছ-মাংস ঘরে থাকার পরও তারা তা না খেয়ে, শখ করে পান্তাভাত আর মরিচপোড়া খেয়েছেন, নিয়মিত-সারাজীবন? এমন ছিল কি, একাধিক বাহারি জামাকাপড় থাকা সত্ত্বেও তারা সেসব না পরে, শখ করে গামছা আর ডুমা পরেছেন, নিয়মিত-সারাজীবন? নিশ্চয়ই নয়। তাহলে এসব আমাদের ঐতিহ্য হলো কেমন করে?

আমাদের আদি নারী-পুরুষরা অভাবে ছিলেন। চরম অনটনে ছিলেন। খেয়ে না খেয়ে ছিলেন। ছাই দিয়ে দাঁত মাজতেন আর গামছা ডুমা সাফ করতেন। অসুখ হলে ঝাড়ফুঁক নিতেন। স্ট্রোক হলে, হার্ট অ্যাটাক হলে অভিশপ্ত ভাবতেন। কন্যাশিশু হলে, অটিস্টিক হলে, মা’কে দায়ী করতেন। কারো মানসিক সমস্যা হলে জিনের কবিরাজ ডাকতেন। পাতলা পায়খানা হলে পানীয় খেতেন না, খেতে দিতেন না। পায়ে হেঁটে বিশ/ত্রিশ মাইল পাড়ি দিতেন। পান্তাভাত আর মরিচপোড়া খেয়ে মাঠে কাজ করতে যেতেন। খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতেন। তখন তারা পরাধীন ছিলেন। দাস-দাসী ছিলেন। মাথা নিচু করে ছিলেন। হাতজোড় করে ছিলেন। শূলে চড়ে ছিলেন। পাতাকে খাতা করে, কঞ্চিকে কলম করে, গুলানো ছাইকে কালি করে, আদর্শলিপি চর্চা করেছিলেন। এ সবই কি আমাদের ঐতিহ্য? আমরা কি সেই সবই করব এখনো? আমরা কি ছাই দিয়ে দাঁত মাজব? গামছা-ডুমা পোশাক পরব? বটমূলে গিয়ে শূলে চড়ব? যদি না হয়, তো পান্তাভাত নাটক করে কেন ব্যঙ্গ করব আমাদের আদি নারী-পুরুষ তথা আসল বাঙালিদের?


এসব তো ছিল আমাদের অক্ষমতা। ডিজিটাল যুগে এসব করে কি আমরা আমাদের অতীতের ব্যর্থতা ও অক্ষমতাকেই বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরছি না বারবার? কারা করছে এসব? যারা সারা বছর মাছ-মাংস-পোলাও খায়, চাইনিজ খায়, থাই খায় অধিকাংশ তারাই শখ করে বছরে একদিন দেখায় এসব নাটক। গ্রামের সাধারণ মানুষ অতীতেও শখ করে পান্তাভাত আর মরিচপোড়া খায়নি এখনো শখ করে পান্তাভাত আর মরিচপোড়া খায় না।


তাই বলে কি আমাদের কোনো ঐতিহ্য ছিল না, ঐতিহ্য নেই? অবশ্যই ছিল, অবশ্যই আছে। আমাদের ঐতিহ্য হচ্ছে- অধিকার আদায়ের জন্য সংগ্রাম করা। মাতৃভাষার জন্য জীবন দেয়া। স্বাধীনতার জন্য আমরণ যুদ্ধ করা। বর্গি তাড়ানো, ইংরেজ তাড়ানো, জমিদার হটানো, নীলকর তাড়ানো, পাকি হটানো। একতাবদ্ধ থাকা। অন্যায়ের প্রতিবাদ করা। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করা। অন্যের বিপদে এগিয়ে আসা। সাম্প্রদায়িক স¤প্রীতি বজায় রাখা। বাঁশের বাঁশি বাজানো। জারি সারি ভাটিয়ালি গাওয়া। অতিথি আপ্যায়ন করা। চিড়া মুড়ি মুড়কি মোয়া খাওয়া। পিঠা পুলি পায়েশ খাওয়া। শুভ্র-শালীন পোশাক পরা। সত্য কথা বলা। সৎ পথে চলা। ওয়াদা রক্ষা করা। আমানত রক্ষা করা। কাজে ফাঁকি না দেয়া। খাদ্যে ভেজাল না দেয়া। ইত্যাদি যা কিছু তারা মনের আনন্দে, বিবেকের তাগিদে করেছেন তা-ই আমাদের ঐতিহ্য।


এখন আমাদের ভেবে দেখা উচিত, আমাদের আদি নারী-পুরুষদের কোন কর্মটিকে আমরা ঐতিহ্য হিসেবে লালন করব। ভেবে দেখতে হবে, পাতাকে খাতা, কঞ্চিকে কলম, গুলানো ছাইকে কালি করে আগডুম বাগডুম চর্চা করব; নাকি অত্যাধুনিক কম্পিউটার তৈরি করে, তাতে আমাদের আদি নারী-পুরুষদের প্রিয় আদর্শলিপি চর্চা করে আদর্শ মানুষ হব? আমরা কি গামছা-ডুমায় ডিজাইন করে অশালীন পোশাক পরব; নাকি কাজের উপযোগী ডিজাইন করে, লজ্জা নিবারণের উপযুক্ত করে শুভ্র-শালীন পোশাক পরব? বিরক্তিকর বিদেশি বাদ্যযন্ত্র সমেত অ-বাংলা কনসার্ট করব; নাকি মরমী সুরে আমাদের জীবনের গান, বিজয়ের গান, প্রতিবাদী গান গাইব? আমরা কি মেহমান এলে মন খারাপ করে তাড়িয়ে দেয়ার কৌশল করে হৃদ্যতা ধ্বংস করব; নাকি মনের আনন্দে আদর আপ্যায়ন করে হৃদ্যতা বাড়াব? অন্যের বিপদে মুখ ফিরিয়ে থাকব হাততালি দেব, নাকি সাহায্য-সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে নিজের বিপদের সঙ্গী বাড়াব? অসুখ হলে ঝাড়ফুঁক নেব, নাকি আধুনিক চিকিৎসা নেব? বাল্যবিবাহ দিয়ে আমাদের ছেলেমেয়েদের জীবন বিনষ্ট করব, নাকি লেখাপড়া শিখিয়ে আত্মনির্ভরশীল করে সচেতন সংসারী হওয়ার সুযোগ করে দেব? ফাস্ট ফুড খেয়ে রোগাক্রান্ত হব; নাকি চিড়া-মুড়ি- মুড়কি মোয়া খেয়ে সুস্থ থাকব?


আমাদের আদি নারী-পুরুষরা নিজেদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে অথবা অজ্ঞতার কারণে, অনটনের কারণে, যা কিছু করতে বাধ্য হয়েছিলেন বা করেছিলেন, সেসব আমাদের ঐতিহ্য নয়। সেসব আমাদের গøানি। সেসব আমরা ঘটা করে পালন করব কেন? বরং আমাদের আদি নারী-পুরুষরা মনের আনন্দে, বিবেকের তাড়নায়, আমাদের কল্যাণ কল্পে স্বপ্রণোদিত হয়ে স্বেচ্ছায় যা কিছু করেছেন, করতে চেয়েছেন, এসবই আমাদের ঐতিহ্য। এসবই সযতেœ লালন করে আরো সমৃদ্ধ হতে হবে আমাদের। বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে তুলে ধরতে হবে এই বীর বাঙালির আসল ঐতিহ্য। সমস্বরে উচ্চারণ করতে হবে, আমাদের বিজয়ের ধ্বনি ‘জয়বাংলা’।


মো. রহমত উল্লাহ্ : লেখক ও শিক্ষাবিদ।


http://www.bhorerkagoj.net/print-edition/2016/04/22/85363.php




শিশুপাঠ্য গল্প- 'ডিজিটাল পাখি' যায়যায়দিন- ২০ এপ্রিল ২০১৬

শিশুপাঠ্য গল্প- 'ডিজিটাল পাখি' যায়যায়দিন- ২০ এপ্রিল ২০১৬
IMG_20180512_080506_1ডিজিটাল পাখি

মো. রহমত উল্লাহ্‌


যায়যায়দিন > ২০ এপ্রিল ২০১৬ বুধবার


>শিমুল ও বকুল। ভাই বোন। শিমুল বড়। বকুল ছোট। ঘুমায় একসঙ্গে। বকুল দেখে, উঠানে উড়োজাহাজ। বেশি বড় না। নেমে আছে মাটিতে। ডাকে ভাইয়াকে। ভাইয়া! আসো, দেখ উড়োজাহাজ। আমাদের উঠানে। ভাইয়া আসো তাড়াতাড়ি। শিমুল আসে। বলে, হ্যাঁ, তাই তো। চল কাছে যাই। কাছে যায় দুজন। দেখে, ঠিক উড়োজাহাজ নয়। কিছুটা হেলিকপ্টারের মতো। কিছুটা উটপাখির মতো। কিছুটা ময়ূরের মতো। কোনোটার সঙ্গেই মেলে না ঠিক। আজব ধরনের। চিড়িয়াখানায় দেখেছে অনেক কিছু। তবে এমন কিছুই নেই।
কথা বলে, আজব জিনিস। বলে, আমার নাম ডিজিটাল পাখি। আমি উড়তে পারি। নামতে পারি। গাইতে পারি। বেড়াতে পারি। চল, তোমাদের বেড়াতে নেব। বস আমার পেটের ভেতর। খুলে দেয় পাখা। অবাক হয় শিমুল বকুল। উঁকি দেয় পেটের ভেতর। দেখে, দুটি সিট। একটি সামনে। একটি পেছনে। তাড়াতাড়ি উঠে যায় বকুল। বসে সামনের সিটে। ডিজিটাল পাখি বলে, ঠিক আছে। তুমি এখন পাইলট। যে সামনে বসে সে পাইলট। কিছুটা মন খারাপ হয় শিমুলের। কী আর করবে। বসে পেছনের সিটে। ডিজিটাল পাখি বলে, ঠিক আছে। তুমি এখন প্যাসেঞ্জার। যে পেছনে বসে সে প্যাসেঞ্জার।


উড়ে চলে ডিজিটাল পাখি। গান গায়, এক লাইন_ 'বাংলা আমার জীবন মরণ'। ছুটে চলে অনেক জোরে। পেছনে ফেলে যায় সব। পার হয় গ্রামের পর গ্রাম। সবুজের পর সবুজ। খুব মজা। খুব হাসিখুশি। বকুল বলে, আমি পাইলট। ভাইয়া! আমরা সবার ওপরে। শিমুল বলে, নিচে তাকাও বকুল। দেখ, কত ফুল, পাখি, গাছপালা।


নিচে নামতে থাকে ডিজিটাল পাখি। বকুল বলে, নিচে নামছ কেন? ওপরে ওঠ ডিজিটাল পাখি। আরো ওপরে ওঠ। অনেক ওপরে। ডিজিটাল পাখি বলে, না। এখন আর ওপরে উঠব না। নিচে নামতে হবে। এখন সকাল ৭টা। সকালের খাওয়ার সময়। মাটিতে নামে ডিজিটাল পাখি। গান গায়, এক লাইন_ 'বাংলা আমার জীবন মরন'। বলে, আম খেয়ে নাও। খেয়াল করে শিমুল বকুল। দেখে, অনেক বড় আম বাগান। ছোট ছোট গাছ। গাছে গাছে কাচা পাকা আম। মজা করে আম খায় দুই জনে। খুব মজা। হাতে নেয় কিছু লাল ফুল। আবার চড়ে ডিজিটাল পাখি। শিমুল বলে, এবার আমি সামনে। আমি পাইলট। তুমি পিছনে বসো। তুমি পেসেনজার। সামনে বসে শিমুল। পিছনে বসে বকুল।


উড়ে চলে ডিজিটাল পাখি। গান গায়, এক লাইন। 'বাংলা আমার জীবন মরণ'। বলে, নিচে তাকাও। দেখ, আমরা এখন নদীর ওপরে। নিচে তাকায় শিমুল বকুল। নদীতে অনেক নৌকা। রঙিন নৌকার পাল। ভাটিয়ালি গায় মাঝি। মাছ ধরে জেলের দল। বকুল বলে, বাঃ কত নৌকা।


ছুটে চলে ডিজিটাল পাখি। পেছনে ফেলে যায় নদী। পার হয় ফসলের মাঠ। গান গায়, এক লাইন_ 'বাংলা আমার জীবন মরণ'। বলে, নিচে তাকাও। নিচে তাকায় শিমুল বকুল। দেখে, অনেক রকম ফসল। সোনালি ধান। সবুজ পাট। লাল সবুজ শাক-সবজি। হলুদ সরিষার ফুল। বকুল বলে, দেখ ভাইয়া। লাল সবুজ হলুদ।


এগিয়ে চলে ডিজিটাল পাখি। পেছনে ফেলে যায় ফসলের মাঠ। পার হয় অনেক পাহাড়। গান গায়, এক লাইন_ 'বাংলা আমার জীবন মরণ'। বলে, নিচে তাকাও শিমুল বকুল। দেখ, আমরা এখন পাহাড়ের ওপরে। নিচে তাকায় শিমুল বকুল। দেখে, পাহাড়ে অনেক গাছপালা। পাহাড়ের গায়ে ঝরনা। গড়িয়ে নামছে পানি।


নিচে নামতে থাকে ডিজিটাল পাখি। শিমুল বলে, নিচে নামছ কেন? ওপরে ওঠ ডিজিটাল পাখি। ডিজিটাল পাখি বলে, না। এখন ওপরে উঠব না। নিচে নামব। এখন দুপুর ১২টা। দুপুরের খাওয়ার সময়। পাহাড়ে নামে ডিজিটাল পাখি। গান গায়, এক লাইন_ 'বাংলা আমার জীবন মরণ'। একটা নিচু পাহাড়। টিলার মতো। পাকা কাঁঠালে সুবাস। অনেক ফলের গাছ। লিচু, কাঁঠাল, আনারস। গাছের পাতায় পাতায় লিচু। গাছের গায়ে গায়ে কাঁঠাল। জমিনে সারি সারি আনারস। ছায়ায় বসে দুজন। খায়, লিচু, কাঁঠাল, আনারস। খুব মজা। আবার চড়ে বসে ডিজিটাল পাখি। বকুল বলে, এবার আমি পাইলট। আমি সামনে, তুমি পেছনে। সামনে বসে বকুল। পেছনে বসে শিমুল।


উড়ে চলে ডিজিটাল পাখি। গান গায়, এক লাইন_ 'বাংলা আমার জীবন মরণ'। যায় শহরের ওপর দিয়ে। বলে, নিচে তাকাও। নিচে তাকায় শিমুল বকুল। দেখে, অনেক উঁচু উঁচু দালান। দালানের ওপর মানুষ। নিচে অনেক গাড়ি। শিমুল বলে, ওয়াও! কত দালান। দেখ, দালানের ওপরে মানুষ।


শহর পেরিয়ে যায় ডিজিটাল পাখি। আবার গান গায়, এক লাইন_ 'বাংলা আমার জীবন মরণ'। বলে, নিচে তাকাও। দেখ, আমরা এখন বনের ওপরে। এটির নাম সুন্দরবন। নিচে তাকায় শিমুল বকুল। দেখে, বাঘ, হরিণ, বানর, ময়ূর। শিমুল বলে, দেখ কত পশুপাখি।


নিচে নামতে থাকে ডিজিটাল পাখি। শিমুল বলে, নিচে নামছ কেন? ওপরে ওঠ ডিজিটাল পাখি। ডিজিটাল পাখি বলে, না। আর বেড়াব না। এখন বিকাল ৫টা। আমার সময় শেষ। গান গায়, এক লাইন_ 'বাংলা আমার জীবন মরণ'। নামে বৈশাখী মেলায়। ঘুড়ি, বেলুন, বাঁশি, খেলনা। আরো কত কী। বলে, আমি যাই। সবাইকে বলো, কেমন দেখলে বাংলাদেশ। ঘুম থেকে জেগে ওঠে বকুল।<


http://www.jjdin.com/?view=details&archiev=yes&arch_date=20-04-2016&type=single&pub_no=1523&cat_id=1&menu_id=73&news_type_id=1&index=0

শিশু পাঠ্য গল্প- 'মাছ ধরা' -যায়যায়দিন- ০৯ মার্চ ২০১৬

শিশু পাঠ্য গল্প- 'মাছ ধরা' -যায়যায়দিন- ০৯ মার্চ ২০১৬

FB_IMG_1463422059002মাছ ধরা


মো. রহমত উল্লাহ্‌


প্রকাশিতঃ যায়যায়দিন, বুধবার ০৯ মার্চ ২০১৬ 


>শিমুল আর বকুল। ভাই আর বোন। শিমুলের বয়স সাত। গায়ের রং তামাটে। সবল দেহ। মাঝারি গড়ন। বকুলের বয়স পাঁচ। গায়ের রং ফরসা। হালকা পাতলা গড়ন। হাসিখুশি মুখ। স্কুলে যায় দুজন।সবুজ ধানক্ষেত। ক্ষেতের পাশে আইল। আইল ধরে পথ। এ পথে চলে না সবাই। এটি সরু পথ। সাময়িক পথ। বর্ষা এলেই অচল। কিছুদিন স্কুলে যাওয়া-আসা। তাড়াতাড়ি যাওয়া যায়। তাড়াতাড়ি হাঁটছে শিমুল। তার পিছু পিছু বকুল। কী যেন চড়চড় করছে! দাঁড়ায় দুজন। খেয়াল করে। হ্যাঁ, ধানক্ষেতে। কাছেই। চড়চড়, পুটপুট। আইলে রাখে বইখাতা। ক্ষেতে নামে শিমুল। নরম কাদা। এগিয়ে যায় কিছুদূর। পানি লাগে পায়ে। বেড়ে যায় চড়চড়, পুটপুট। ফাঁক করে ধানগাছ। নিচে তাকায় শিমুল। দেখে অনেক ছোট মাছ। ওয়াও! কত মাছ। বেড়ে যায় মাছেদের ছোটাছুটি। মাছ আর মাছ। খুব কম পানি। গাদাগাদি মাছ। শুকিয়ে এসেছে ক্ষেত। এখানেই কিছুটা নিচু। এখানেই কিছুটা পানি। এতেই জমেছে মাছ।


খুব খুশি শিমুল। শুরু করে মাছ ধরা। টাকি মাছ। গুতুম মাছ। কই মাছ। শিং মাছ। টাকি মাছই বেশি। পানি কম। পালাতে পারে না মাছ। ধরা যায় সজেই। ধরে কপকপ। রাখে পকেটে। ডাকে বকুলকে। আসে বকুল। ওয়াও! কত মাছ। সেও শুরু করে ধরা। রাখে শিমুলের পকেটে। ভরে যায় পকেট। কী করবে এখন। কোথায় রাখবে মাছ। ভাবে, দুজনে। ফ্রক খোলে বকুল। গিঁঠ দেয় এক মাথা। ফ্রক হয় থলে। হা হা হা...। রাখতে থাকে মাছ। কপকপ ধরছে শিমুল। অনেক খুশি। মাছ ধরা তার শখ। আগেও ধরেছে মাছ। বাবার সঙ্গে। বড়শি দিয়ে। চাঁই দিয়ে। ঠুঁইয়া দিয়ে। এত মাছ পায়নি। আজই বেশি মাছ। যেন মাছের দিন। শিমুলের খুশির দিন। ধরছে আর ধরছে। গুনগুন করছে। মাছ ধরা খুব মজা। মাছ ধরা খুব মজা। উহু করে শিমুল। কেঁদে ওঠে হঠাৎ। ওপরে উঠায় হাত। হাতে শিং মাছ। ফুটিয়েছে কাঁটা। অনেক ব্যথা। ঝেড়ে ফেলে মাছ। ব্যথা বাড়ে। নেমে আসে চোখের জল। উহু, আহ, ইহ। কোঁকায় শিমুল। চোখ মোছে বকুল। থেমে যায় মাছ ধরা। বাড়ি ফেরে দুজন। উঠানে রাখে মাছ। দেখে সবাই। দাদা দাদি ফুফু। সবাই খুশি। শিমুলকে দেখে না কেউ। মা আসেন। মাকে ধরে শিমুল। তার চোখে জল। খেয়াল করেন মা। হাত দেখায় শিমুল। বুঝতে পারেন মা। এটি কাঁটার ঘা। শিং মাছের কাঁটা। কঠিন ব্যথা। চোখ মোছে শিমুল। আদর করেন মা। হাত ধরেন শিমুলের। নিয়ে যান রান্নাঘরে। হাতে নেন হলুদবাটা। লাগান শিমুলের হাতে। বলেন, এমন করো না। এসব ঠিক না। স্কুলে যাওনি আজো। এভাবে আর কতদিন? মুখ খোলে শিমুল। এমন হবে না আর।<


নারীর সমঅধিকারের আন্দোলন প্রসঙ্গ

নারীর সমঅধিকারের আন্দোলন প্রসঙ্গ
পত্রিকার লিংক

নারীর সমঅধিকারের আন্দোলন প্রসঙ্গ



মো. রহমত উল্লাহ্ : শিক্ষক, লেখক।



ভোরের কাগজ >মঙ্গলবার, ৮ মার্চ ২০১৬

সমান অধিকারের অর্থ হচ্ছে যোগ্যতা অনুযায়ী অধিকার বা যোগ্যাধিকার। কোনো কিছু করার বা পাওয়ার যোগ্যতা সমান হলে অধিকার সমান হওয়া আবশ্যক। যোগ্যতার অসমতার যুক্তিযুক্ত কারণেই সব ক্ষেত্রে সবার অধিকার সমান নয়। এই কঠিন সত্যটি শুধু নারী-পুরুষের মধ্যে নয়; পুরুষ-পুরুষ, নারী-নারী তথা সবার জন্যই প্রযোজ্য। তাই কোনো নির্দিষ্ট যোগ্যতা সমান হওয়া সত্ত্বেও সেই যোগ্যতার প্রাপ্যাধিকার সমান না হলে আন্দোলন অপরিহার্য।


পারিবারিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক ইত্যাদি অধিকারের ক্ষেত্রভিত্তিক আলোচনা করলেই সুস্পষ্ট হবে- আমাদের দেশে নারীরা কোন অধিকার যোগ্যতা অনুযায়ী ভোগ করছেন, কোন অধিকার ভোগের যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও বঞ্চিত হচ্ছেন, কোন অধিকার যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও দাবি করছেন এবং কোন কোন ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার ভোগ করছেন।

পারিবারিক ক্ষেত্রে সন্তান ধারণ, স্তন্যদান, লালন-পালন ইত্যাদি অপূরণীয় ত্যাগের জন্য মায়ের থাকা উচিত সন্তানের ওপর একচ্ছত্র অধিকার। অথচ ছেলের বউ, মেয়ের জামাই এসে ভাগ বসাচ্ছেন সেই অধিকারে। পিতা-মাতার সম্পত্তির অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট নারীদের অনীহা (নিজের পৈতৃক সম্পত্তির সুবিধা স্বামী-সন্তানকে ভোগ করতে না দিয়ে কেবল স্বামীর ও স্বামীর পৈতৃক সম্পত্তি ভোগের মানসিকতা) এবং সৎসাহসের অভাবই (বাপ/ভাইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক না থাকার ও স্বামী/সন্তান কর্তৃক সম্পত্তি হাতছাড়া হওয়ার ভয়) প্রধান কারণ। নারীর এরূপ মানসিকতা ও ভূমিকা সমান অধিকারের পরিপন্থী হলেও কিছু অতি লোভী পুরুষ এর জন্য দায়ী। শুধু নারী কেন, দাবি না করলে পৈতৃক সম্পত্তির অধিকার পুরুষও পায় না সঠিকভাবে। সমাজে চলমান রীতি-নীতি থেকে সৃষ্ট কিছু অযৌক্তিক ধ্যান-ধারণার কারণে, ধনী দরিদ্র শিক্ষিত-অশিক্ষিত সব পরিবারেই বয়োজ্যেষ্ঠ নারী-পুরুষদের দ্বারা অধিক অবমূল্যায়িত কন্যা সন্তানেরা। বিশেষ করে অশিক্ষিত/আধা শিক্ষিত পরিবারে মেয়েদের বিয়েসহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত বিষয়ে তাদের মতামত উপেক্ষা করা হচ্ছে প্রায়শই। কোনো কারণে ক্ষিপ্ত হলে সাধারণত নারীরা মানসিকভাবে এবং পুরুষরা শারীরিকভাবে পরস্পরকে আঘাত করে থাকে। শারীরিক শক্তি (যোগ্যতা) কম-বেশি না হলে কেমন হতো এই চিত্র? আসলে অপরকে আঘাত করার অধিকার কারোরই নেই।

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বৈধ কর্ম সম্পাদন, পারিশ্রমিক দাবি, পেনশন লাভ ইত্যাদি অধিকার সরকারি পর্যায়ে নারী-পুরুষের একই রকম। বেসরকারি ও পারিবারিক ক্ষেত্রে বৈষম্য বিদ্যমান। অনেক যোগ্য নারীকেই বাইরে চাকরি করা থেকে বিরত রাখা হয় সাংসারিক কর্মের প্রয়োজনে। অথচ সংসার কর্মের জন্য যথাযথ মূল্যায়ন করা হয় না তাকে। এ ক্ষেত্রে নারীর প্রতি নারীর (মা, বোন, শাশুড়ি, জা, ননদ) সহায়ক ভূমিকার অভাব লক্ষণীয়। গৃহকর্মীদের আর্থিক ও অনার্থিক সুবিধা একেবারেই নগণ্য; যেটি নির্ধারণ করে থাকেন মহিলারাই। গার্মেন্টসের মতো প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে মেয়েদের পারিশ্রমিক অত্যন্ত কম। এসব ক্ষেত্রে যথাযথ পারিশ্রমিক চাওয়া-পাওয়ার অধিকার আছে। কিন্তু বেকারের সংখ্যাধিক্যের কারণে এটি অর্জিত হচ্ছে না। এক্ষেত্রে শুধু আন্দোলন নয়, কর্মক্ষেত্র বৃদ্ধি জরুরি। তাই উদ্যোক্তা হয়ে এগিয়ে আসতে হবে শিক্ষিত নারীদের।

সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সব নারী তুলনামূলক কম সুবিধা ভোগ করে; এই কথা সর্বাংশে সত্য নয়। জীবনধারণ, স্বাধীন চলাফেরা, পরিবার গঠন, চুক্তি সম্পাদন, শিক্ষালাভ, মাতৃভাষা, স্বাধীন চিন্তা, ধর্ম পালন, সম্পত্তি অর্জন-ভোগ-দান-বিক্রি, সভা-সমিতি করা ইত্যাদি সামাজিক ও রাজনৈতিক অধিকার বর্তমানে শিক্ষিত নারীদের নাগালের খুব বেশি বাইরে নয়। তা ছাড়া রাজনীতি ও এনজিও সম্পৃক্ত শিক্ষিত/আধা শিক্ষিত নারীরা এসব অধিকার এখন নিয়মিতই ভোগ করছেন। নিরাপদে বেঁচে থাকা ও স্বাধীন চলাফেরার জন্য যতটুকু নিরাপত্তার প্রয়োজন তা আমাদের রাষ্ট্র দিতে ব্যর্থ। এটি শুধু নারীদের ক্ষেত্রে নয়, পুরুষদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য কম/বেশি। একান্তভাবে স্বধর্ম পালনের অধিকার সাধারণত নারীদের ছিল, আছে এখনো। যদিও নারীরাই তা মানছেন না পুরোপুরি! স্বামীকে তালাক দেয়ার অধিকার, গণ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অধিকার, খোলামেলা পোশাক পরে প্রকাশ্যে চলাফেরা করার অধিকার ইত্যাদি ইসলাম ধর্মে না থাকলেও মুসলমান পরিবারের অনেক নারীই তা ভোগ করছেন। আবার এই আধুনিক (?) নারীরাই ইসলাম ধর্মে প্রদত্ত অধিকার বলে বিয়ের সময় ধার্য ও আদায় করছেন দেনমোহরানার অর্থ (বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই স্বামীর সঙ্গতির অতিরিক্ত) এবং তাদের কেউ কেউ স্বামীর সংসারে এসে বলছেন- ‘জানো না, স্ত্রীর ভরণপোষণের সম্পূর্ণ দায়িত্ব স্বামীর। আমার যা যা লাগে সব তোমার দিতে হবে। ছেলেমেয়ে মানুষ করার দায়িত্ব তোমার। তোমাকেই দিতে হবে কাজের মেয়ের টাকা। তোমার বেতনে না হলে, তুমি চুরি করবে না ডাকাতি করবে সেটি তোমার ব্যাপার! আমার উপার্জিত অর্থ দাবি করার কোনো অধিকার তোমার নেই। আমার টাকা দিয়ে আমার যা ইচ্ছা তা-ই করব।’ আবার তালাকের প্রশ্ন এলে দাবিও আদায় করছেন খোরপোশের অর্থ (উপার্জনক্ষম হলেও)। যেসব আধুনিক (?) নারী ইসলাম ধর্মের বিধান অনুসারে জীবনযাপন করে না, তাদের জন্য এসব অধিকার অগ্রাধিকার নয় কি? শিক্ষিত চাকুরে ছেলেরা তুলনামূলক কম শিক্ষিত বেকার মেয়েদের সংসার সঙ্গী করতে দ্বিধা করে না। কিন্তু শিক্ষিত চাকুরে (কোটায় প্রাপ্ত) মেয়েরা মেনে নেন না এমনটি। আবার কর্তৃত্বও মানতে চান না; করতে চান। করেও কেউ কেউ। অথচ তুলনামূলক কম যোগ্য ছেলে বিয়ে করেই মেয়েরা অর্জন করতে পারেন পারিবারিক কর্তৃত্ব করার অধিকার। ভেঙে দিতে পারেন পুরুষ শাসিত সমাজ। শিক্ষা লাভের অধিকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক অধিকার। এই অধিকার অর্জনে সফল হলে অন্যান্য অধিকারের জন্য আন্দোলন তেমন প্রয়োজন পড়ে না। একমাত্র যোগ্যতাই দিতে পারে পূর্ণ অধিকার ও সম্মান। বর্তমানে মেয়েদের শিক্ষা উপ-বৃত্তিসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও উৎসাহ দেয়া হচ্ছে শিক্ষালাভের জন্য। যেটি ছেলেদেরও দেয়া উচিত সমানভাবে। অন্যথায় সমাজে তৈরি হবে বিপরীত বৈষম্য। ভোটাধিকার প্রয়োগ করা, নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া, বিচার দাবি করা, সরকারের সমালোচনা করা, যোগ্যতা অনুযায়ী সরকারি কর্ম পাওয়া, এসব রাজনৈতিক অধিকার বর্তমানে আমাদের শিক্ষিত নারীরা যোগ্যতার তুলনায় বেশিও ভোগ করছেন ক্ষেত্রবিশেষে। সংসদে আসন সংরক্ষণ, নির্বাচনে ও চাকরিতে কোটা সংরক্ষণ, পত্রিকায় আলাদা পাতা নির্ধারণ, যানবাহনে পৃথক আসন সংরক্ষণ অবশ্যই অগ্রাধিকার।

যেসব শিক্ষিত মেয়েরা সর্বক্ষেত্রে সমান অধিকারের কথা বলেন এবং আলোচিত/অনালোচিত কোনো কোনো ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার ভোগ করেন, তারা কিন্তু পুরুষদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় আসছেন না সর্বক্ষেত্রে। অ্যাথলেটস ও খেলাধুলায় বিশ্বের সব দেশের মেয়েরাই প্রতিযোগিতা করছেন নিজেদের মধ্যে। এমন কি কার্ড ও দাবা খেলার মতো মানসিক (আই.কিউ.) প্রতিযোগিতায়ও তারা আলাদাই থাকছেন। দ্রুত মানবের রেকর্ড ভাঙতে পারেননি কোনো দ্রুত মানবী। অর্থাৎ প্রকৃতিগত কারণেই সবাই ভোগ করতে পারেন না, পারবেন না সব ক্ষেত্রে সমান অধিকার। যেমন- ভোটাধিকার নেই শিশুর ও পাগলের। সন্তান ধারণ করতে পারেন না পুরুষ। বলা যায় না এমন আরো অনেক কারণেই সর্বক্ষেত্রে সমান হতে পারে না নারী ও পুরুষের অধিকার। আমাদের পূর্বনারীরা তো কারণে-অকারণে বঞ্চিত হয়েছেন, আঘাত সয়েছেন অনেক। অতিরিক্ত অধিকার নিয়ে বা পাল্টা আঘাত দিয়ে সেসব কি আর উসুল করা যাবে এখন? কিংবা উসুল করা উচিত হবে বর্তমান অথবা ভবিষ্যৎ পুরুষদের ওপর?

বাস্তবে যারা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত তারা অনেক কিছু থেকেই বঞ্চিত। শিক্ষার সুযোগ লাভের দাবিতেই হওয়া উচিত আন্দোলন। নারীদের মনে রাখতে হবে, এই আন্দোলন জীবনসঙ্গী বা অন্য পুরুষদের বিরুদ্ধে নয়; নিজেদের কুসংস্কার, অশিক্ষা, অযোগ্যতা, হীনমন্যতা ও অদূরদর্শিতার বিরুদ্ধে। তাই জাগ্রত করতে হবে নিজের বিবেক। উপলব্ধি করতে হবে প্রকৃত মর্যাদা। অর্জন করতে হবে সুশিক্ষা। অধিকারের জন্য প্রয়োজন যোগ্যতা অর্জন ও দায়িত্ব-কর্তব্য সম্পাদন। সমান অধিকারের দাবিতে অগ্রাধিকার নয়; বিদ্যমান ও অর্জিত যোগ্যতার শক্তিতেই ভোগ করতে হবে যোগ্যাধিকার।
http://www.bhorerkagoj.net/print-edition/2016/03/08/79047.php

একতারা

একতারা


একতারা


মো. রহমত উল্লাহ্



দৈনিক কালের কন্ঠ, ১১ মার্চ ২০১৬


একতারা



নাক ডেকে ঘুমায় লুপিন। দেখে, একটা বিশাল বন। খুবই মলিন। পাতা নেই। ফুল নেই। ফল নেই। পশু নেই। পাখি নেই। ভাবে, এমন হলো কেন?


তাকায় এদিক-ওদিক। দেখে পাশে একটা নদী। পানি নেই। মাছ নেই। নৌকা নেই। ধুধু বালু চর। ভাবে, এমন হলো কেন?


আবার তাকায় এদিক-ওদিক। দেখে, জালে আটক অনেক মানুষ। চেনা যায় না কাউকেই। এগিয়ে যায় কাছে। খুব ভালো করে দেখে। ভেসে উঠে অন্য রকম চেহারা। ঠিক মানুষের মতো নয়। সাপের মতো! শিয়ালের মতো! হায়েনার মতো! কুমিরের মতো! এলিয়েনের মতো! হাসে না। মিশে না। কেবল বিবাদ করে। মারামারি করে। কাড়াকাড়ি করে।




লুপিন বলে, তোমরা কারা? তোমাদের চেহারা এমন কেন? তোমরা জালে আটক কেন? হাসো না কেন? মিশো না কেন? বিবাদ করো কেন? মারামারি করো কেন? কাড়াকাড়ি করো কেন? সবখানে বাজে লুপিনের কথা। মুখ খুলে সবাই। একজন বলে, আমি এসব করি না। অন্যরা করে। আমাকে ছেড়ে দাও। কয়েকজন বলে, আমরা এমন খারাপ না। অন্যরা খারাপ। আমাদের ছেড়ে দাও। অনেকজন বলে, আমরা ভালো। আর সবাই খারাপ। আমাদের ছেড়ে দাও। লুপিন বলে, আমি ছাড়ব কিভাবে? খুলব কিভাবে এ জাল? আমি তো জানি না তা। আমি তো একজন। তোমরা অনেকজন। তোমরা সবাই মিলে যাও। একসঙ্গে অভিযান চালাও। ছিঁড়ে ফেলো জাল। বেরিয়ে এসো বাইরে। তারা বলে, আমরা তো পারি না তা। এ তো কঠিন জাল। অন্য রকম। দিনে দিনে আরো মোটা হয়। আরো ঘন হয়। কমে যায় আমাদের আলো। বেড়ে যায় আমাদের আঁধার। অথচ কিছুই জানি না। কিছুই বুঝি না আমরা। কেন আটক হলাম এই জালে! কখন আটক হলাম! কিভাবে আটক হলাম! কে আটক করল আমাদের! কী করব আমরা এখন? তুমি তো মুক্ত আছ। আমাদের মুক্ত করো।


বকুল ভাবে, কী করা যায়? বসে বটতলায়। পাতাহীন বটগাছ। তাকায় এদিক-ওদিক। চোখে পড়ে একতারা। হাতে নেয় সেটি। না, ভালো নেই। ছিঁড়ে আছে তার। লেগে আছে ধুলাবালি। তার জোড়া লাগায়। টোকা দেয় তারে। টুনটুন। টুনটুন। অবাক সবাই! ওয়াও। কী দারুণ সুর! সবাই শুনে মন দিয়ে। কথা বলে না কেউ। বিবাদ করে না। মারামারি করে না। কাড়াকাড়ি করে না। বাজতে থাকে মধুর সুর। ঠিক হতে থাকে সবার চেহারা। হাসতে থাকে তারা। খুলতে থাকে জাল। বেড়োতে থাকে সবাই।


পাখিরা আসে গাছে গাছে। ডালে আসে নতুন পাতা। সবুজ হয় গাছ। রঙিন ফুল হয়। কাঁচা-পাকা ফল হয়। পাখিরা গান গায়। পশুরা ঘুরে বেড়ায়। নদীতে জোয়ার আসে। পালতোলা নৌকা ভাসে। মাছেরা খেলা করে।


এবার উঠে আসে একজন। বলে, আমি বাউল। তোমার নাম কী খোকা? লুপিন বলে, অমার নাম লুপিন। বাউল বলে, তুমি খুব ভালো। তুমি খুব ভালো। খুব ভালো। বাউল হাত বুলায় লুপিনের মাথায়। ঘুম থেকে জেগে ওঠে লুপিন। দেখে, তার মাথায় মায়ের হাত।


শিশু পাঠ্য গল্প- 'পাখি তাড়ানো' -জনকন্ঠ- ১২ মার্চ ২০১৬

শিশু পাঠ্য গল্প- 'পাখি তাড়ানো' -জনকন্ঠ- ১২ মার্চ ২০১৬

FB_IMG_1463421954486পাখি তাড়ানো


মো. রহমত উল্লাহ্‌


দৈনিক জনকন্ঠ, ঝিলিমিলি পাতা, ১২ মার্চ ২০১৬।


>পাখি তাড়ায় শিমুল। ক’দিন ধরে এটি তার কাজ। সকাল দুপুর বিকেল। পাখি আসে ঝাঁকে ঝাঁকে। বাবুই পাখিই বেশি। খেয়ে যায় ধান। পাকাধান যেন সোনার দানা। জমির আইলে শিমুল। হাততালি দেয় জোরে। উড়ে যায় কাছের পাখিরা। গিয়ে বসে আরেক পাশে। শুরু করে ধান খাওয়া। শিমুল যায় সেখানে। হাততালি দেয় আবার। উড়ে যায় সেখানের পাখি। বসে গিয়ে আরেক পাশে। শুরু করে ধান খাওয়া। শিমুল যায় সেই পাশে। হাততালি দেয়। হিস... করে। পাখিরা যায় আগের পাশে। এভাবেই চলে তার কাজ। খুব রাগ ধরে। ইস, কবে যে কাটা হবে ধান। আর কত ছোটাছুটি। আর কত হাততালি।




পরদিন। আইলে দাঁড়ায় শিমুল। বাঁশি বাজায়। পুর র...। উড়ে যায় পাশের পাখিরা। বসে গিয়ে আরেক পাশে। সেই পাশে যায় শিমুল। বাঁশি বাজায় আবার। আগের পাশে যায় পাখি। এভাবেই চলে। শিমুলের পাখি তাড়ানো। আর পাখিদের ধান খাওয়া। কী করবে, ভাবে শিমুল।


পরদিন। গুলতি নিয়ে আসে শিমুল। চুপচাপ বসে থাকে আইলে। উড়ে আসে পাখির দল। খেতে শুরু করে ধান। শিমুল তাক করে গুলতি। ছোটছোট অনেক পাখি। লাগবে কোনটার গায়ে। জোরে টানে রাবার। ছুড়ে মারবেল। উড়ে যায় পাখির দল। ক্ষেতের ভিতর যায় শিমুল। দেখে ছটফট করছে চড়ুই। শিমুল হাতে নেয় সেটি। চড়ুই তার খুব প্রিয়। বাসা বাঁধে ঘরের চালায়। তাদের ঘরেও আছে বাসা। জানালায় বসে। উঠানে নামে। খাবার খায়। খেলা করে দুটি চড়ুই। মাতিয়ে রাখে বাড়ি। খুব ভাল লাগে শিমুলের। আহত চড়ুই নিয়ে যায় বাড়িতে। পানি দেয় মুখে। সেবা করে। সারিয়ে তুলে। উড়িয়ে দেয়। ভাবে, পাখিদের আঘাত করবে না আর।


পরদিন। শিমুল আসে পাখি তাড়াতে। তাকে দেখেই উড়ে যায় পাখি। যেন পাখিদের মনেপড়ে গতদিন। আবাক হয় সে। বিপদের কথা ভুলে না পাখিরা। তাইতো। হুম। একটা কাজ করা যাক তাহলে। দু’টি লাঠি আনে। একটি দড়ি আনে। একটি লাঠি গাড়ে ধানক্ষেতে। খাড়া করে। সেটিতে বাঁধে আরেকটি লাঠি। ভূমির সমান করে। লাঠিতে পরায় নিজের জামা। যেন দাঁড়িয়ে আছে শিমুল। দু’হাত ছড়িয়ে। এবার ফিরে আসে আইলে। বসে থাকে ঘাপটি মেরে। পাখিরা আসে। শিমুলের জামা দেখে। চলে যায়। নামে না ধানক্ষেতে। খায় না পাকা ধান। নিজেকে বিজয়ী ভাবে শিমুল। ভাবনাহীন ফিরে যায় বাড়িতে।<


https://www.dailyjanakantha.com/details/article/178397/%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%96%E0%A6%BF-%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A7%9C%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%8B