ইত্ত্তেফাক, ঢাকা, রবিবার, ১৮ মার্চ ২০১2
শিক্ষক হচ্ছেন মানবসন্তানের দ্বিতীয় জন্মদাতা
মো. রহমত উল্লাহ্
অধ্যক্ষ
কিশলয় বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজ, ঢাকা|
প্রত্যেক শিক্ষার্থীর থাকা চাই অনুকরণীয় অনুসরণীয় এক বা একাধিক অতিপ্রিয় শিক্ষাগুরু। নির্ধারিত শ্রেণিপাঠ ছাড়াও যাঁর কাছ থেকে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে আত্মস্ত করা যায় সুঅভ্যাস, সততা, ন্যায়পরায়নতা, সময়ানুবর্তীতা, দায়িত্ব-কর্তব্যপরায়ণতা, কর্মস্পৃহা, পরমতসহিঞ্চুতা, স্নেহ-শ্রদ্ধাবোধ, ধর্মীয়মূল্যবোধ, দেশপ্রেম, জাতীয় চেতনা ইত্যাদি সুনাগরিকের গুনাবলি এবং প্রকৃত মানুষ হওয়ার সুশিক্ষা। যে শিক্ষক নিজেকে উজার করে তাঁর শিক্ষার্থীর মধ্যে নিবিড়ভাবে সঞ্চারিত করেন শিক্ষার আলো। আপনার চেয়েও বড় করে গড়ে তুলতে চান প্রতিটি ছাত্রকে। অত্যন্ত আনন্দচিত্তে হেরে যেতে চান নিজের ছাত্রের কাছে। এমন শিক্ষককেই বার্টেন রাসেল বলেছেন, ‘সভ্যতার অভিভাবক’। যে সমাজের শিক্ষকগণ যত বেশি সুশিক্ষিত, সে সমাজ তত বেশি সুশীল। আবার যে সমাজের অধিকাংশ শিক্ষক প্রকৃত শিক্ষকের গুনাবলী বিবর্জিত, সে সমাজে/রাষ্ট্রে সুনাগরিকের অভাব তত বেশি তীব্র। মাতা-পিতার মাধ্যমে যে শিশুর জন্ম; সে মানব নয়, মানবশিশু। মানবিক মূল্যবোধে পরিপূর্ণ করে এই শিশুকে মানবে পরিনত করেন তার শিক্ষক। তাইতো কবি আলাওল বলেছেন- শিক্ষক হচ্ছেন মানবসন্তানের দ্বিতীয় জন্মদাতা। শিক্ষার্থীর মনের আসনে বসে চিরকাল সুশিক্ষা দিতে থাকেন একজন সফল শিক্ষক। এইরূপ শিক্ষকের কাছে নিজেকে সঁপে দিতে পারলেই হওয়া যায় সফল শিক্ষার্থী। হওয়া যায় প্রকৃত মানুষ।

0 মন্তব্য(গুলি):