উপ-সম্পাদকীয়> 'শিক্ষক বিদ্বেষীরাই বিতর্কিত করছে শিক্ষা ক্ষেত্রে সরকারের ভাবমূর্তি' >ভোরের কাগজ >২৭ ডিসেম্বর ২০১৫

উপ-সম্পাদকীয়> 'শিক্ষক বিদ্বেষীরাই বিতর্কিত করছে শিক্ষা ক্ষেত্রে সরকারের
ভাবমূর্তি' >ভোরের কাগজ >২৭ ডিসেম্বর ২০১৫











শিক্ষক বিদ্বেষীরাই বিতর্কিত করছে শিক্ষা ক্ষেত্রে সরকারের ভাবমূর্তি

ভোরের কাগজ»মুক্তচিন্তা 

রবিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০১৫





মো. রহমত উল্লাহ্

>শিক্ষা ক্ষেত্রে যুগান্তকারী উন্নয়ন সাধনে আন্তরিকতার পরিষ্কার স্বাক্ষর রাখার পরও বারবার বিতর্কিত হচ্ছে বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি। বেশি পেছনে না গিয়ে অতি সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কয়েকটি ঘটনার কথাই বলছি আজকের এই লেখায়







যেমন- সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কোনোরকম পূর্বালোচনা না করে এবং বাস্তবায়নের সম্ভাব্যতা যাচাই না করেই চলতি বাজেট প্রণয়নের সময় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর চাপিয়ে দেয়া হলো ভ্যাট। এর প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে এল হাজার হাজার শিক্ষার্থী। যারা কোনোদিন জানত না আন্দোলন কাকে বলে, কীভাবে করতে হয়; তারা শিখে গেল সফল আন্দোলন। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা অচল করে দিল সারা ঢাকা শহর। তাদের পক্ষে সমর্থন দিল অনেকেই। এই আন্দোলন দানা বাঁধার সময় অর্থমন্ত্রী শক্ত শক্ত কথা বলার কারণে আরো চাঙ্গা হলো তা এবং সরকার বাধ্য হলো সেই ভ্যাট প্রত্যাহার করতে। দীর্ঘদিন পরে কোনো একটি ডেকে আনা আন্দোলনের কাছে হার মানতে বাধ্য হলো শেখ হাসিনা সরকারকে। সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন জাগে কি উদ্দেশ্য ছিল অহেতুক শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক সচেতন মানুষের কাছে সরকারের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করার? আবার তিনি বলে দিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জ্ঞানের অভাব। নিয়ে শুরু হলো সমালোচনা প্রতিবাদ। সেই সঙ্গে সমালোচিত হলো বর্তমান সরকার। শেষে কিছু ব্যাখ্যা দুঃখ প্রকাশ করলেন তিনি

জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫-এর শুরু থেকে এখনো থেমে নেই বিভিন্ন স্তরের শিক্ষকদের আন্দোলন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র প্রফেসরদের পদমর্যাদা বেতন গ্রেড নির্ধারণ করা হলো সচিবদের নিচে। শুরু হলো তাদের প্রতিবাদ আন্দোলন। তৈরি হলো অশান্তি। বিঘ্নিত হলো শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া। বিতর্কিত হলো সরকার। শিক্ষামন্ত্রী অনেক দরবার করে, অনেক অনুরোধ করে, অনেক কৌশল করে নানান কথা বলে থামালেন সেই শিক্ষকদের। তারপর মানা হলো তাদের দাবি, কিন্তু সেখানেও রাখা হলো বিতর্কের সুযোগ। জাতীয় অধ্যাপকদের দেয়া হলো না যথাযথ মর্যাদা

এদিকে জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫-এর প্রথম কপিতে ব্লুক করে দেয়া হলো সরকারি কলেজের শিক্ষকদের সর্বোচ্চ ধাপে যাওয়ার রাস্তা। শিক্ষকরা হারাতে বসলেন মাউশি সহশিক্ষা বিভাগের বিভিন্ন দপ্তর-অধিদপ্তরের প্রধান হওয়ার যোগ্যতা। এমনকি সরকারি কলেজের প্রফেসররা হারাতে বসলেন ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ পদে বসার যোগ্য পদোন্নতি পাওয়ার উপায়। শুরু হলো প্রতিবাদের ঝড়। আসতে শুরু করল আন্দোলনের বিভিন্ন হুমকি কর্মসূচি। যেমন- সাধারণত সরকারি কলেজের অধ্যাপকরা চতুর্থ গ্রেডের কর্মকর্তা। কিন্তু সিলেকশন গ্রেড থাকায় এতদিন মোট অধ্যাপকদের মধ্যে ৫০ শতাংশ অধ্যাপক গ্রেড-- যেতে পারতেন। কিন্তু সিলেকশন গ্রেড বাদ দেয়ায় এখন এই পথ বন্ধ হয়ে গেল

১৫ ডিসেম্বর বেতন স্কেলের প্রজ্ঞাপনে বিষয় সুরাহা না হওয়ায় আবারো আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন সরকারি কলেজের শিক্ষকরা। [দৈনিক শিক্ষা ডট কম, ২২ ডিসেম্বর ২০১৫] এতে কমবেশি বিনষ্ট হবে লেখাপড়ার সুষ্ঠু পরিবেশ। সমালোচিত হচ্ছে সরকার। অবশেষে হয়তো আরো আশ্বস্ত করা হবে এবং যুক্তিযুক্ত হলে দাবিও মেনে নেয়া হবে তাদের। কিন্তু কেন এমন হচ্ছে- হবে বারবার?

অন্যদিকে এই পে-স্কেলের প্যাঁচকলে বারবার আটকে দেয়া হলো এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের জীবন। অতীতে শেখ হাসিনা সরকার যতবার জাতীয় বেতন স্কেল দিয়েছে, ততবারই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেই স্কেল পেয়েছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা। সে মতে সবারই ধারণা ছিল এবারের বর্ধিত বেতন স্কেলেও আগের মতোই স্বয়ংক্রিয়ভাবেই অন্তর্ভুক্ত হবেন তারা। কিন্তু নতুন স্কেলে প্রথমে অস্পষ্ট রাখা হলো তাদের বেতনভাতা বর্ধিত করার কথা। বিক্ষুব্ধ হলেন, বিবৃতি দিলেন, সভা করলেন, কর্মসূচি দিলেন বেসরকারি শিক্ষক সমাজ; যারা এই দেশের মোট শিক্ষকের প্রায় নব্বই শতাংশ। এরপর জুড়ে দেয়া হলো আরেক শর্ত। প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের থেকে অর্জিত আয় সরকারকে জমা দিয়ে তারপর নিতে হবে বর্ধিত হারে সরকারি অংশের বেতনভাতা। আবার ক্ষুব্ধ হলেন দেশের সর্ববৃহৎ বেসরকারি শিক্ষক সমাজ। তাদের অধিকাংশই যুক্তিযুক্তভাবে বললেন, তাদের চাকরি জাতীয়করণ করে তারপর নিয়ে নেয়া হোক প্রতিষ্ঠানের আয়। তা না হলে শর্তহীনভাবে দিয়ে দেয়া হোক বর্ধিত স্কেলের মূল বেতন। কেননা কেবল শিক্ষক-কর্মচারীদের মূল বেতন দিয়ে পূর্ণ ভাতাদি, ইনক্রিমেন্ট, বোনাস পদোন্নতি এবং পর্যাপ্ত এমপিওভুক্ত শিক্ষক না দিয়ে প্রতিষ্ঠানের সব আয় নিয়ে নিলে প্রতিষ্ঠান চলতে পারবে না। লেখালেখি হলো পত্রপত্রিকায়। সমালোচনা হলো সর্বত্র। অসন্তোষ দেখা দিল শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত। তারপর গত ২০ ডিসেম্বর ২০১৫ তারিখে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এল এক প্রজ্ঞাপন। যাতে লেখা হলোএমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের কার্যক্রম সার্বিকভাবে পর্যালোচনা করিয়া তাহাদের যোগ্যতা ভিত্তিক অনুদান-সহায়তা বৃদ্ধির বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয় অর্থ বিভাগ কর্তৃক মূল্যায়নক্রমে প্রাপ্য অনুদান-সহায়তা নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নের তারিখ অর্থাৎ ০১ জুলাই ২০১৫ তারিখ হইতে কার্যকর করা সমীচীন হইবে। ২। এমতাবস্থায় এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের অনুদান-সহায়তা নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নের তারিখ অর্থাৎ ০১ জুলাই ২০১৫ হইতে কার্যকর হবে।এটিতেও রাখা হলো অনেক মারপ্যাঁচ। কি যোগ্যতার ভিত্তিতে কারা কখন থেকে পাবেন এই বর্ধিত সুবিধা আর কি অযোগ্যতার কারণে কারা বঞ্চিত হবেন? অর্থাৎ শর্তহীনভাবে নতুন স্কেলে সবার সঙ্গে বেতন পাবেন কি না, তা পরিষ্কার করে বলা হয়নি এই সার্কুলারে। এতে যে কিছু মারপ্যাঁচ আছে এটির আরো প্রমাণ হচ্ছে- ডিসেম্বরে বেতনের সঙ্গে বর্ধিত বেতন পাচ্ছেন না তারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকটি সূত্র বলেছে, সরকারি স্কুল-কলেজ শিক্ষকদের তুলনায় দুএক মাস দেরিতে হাতে নগদ পাবেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা। মন্ত্রণালয় শিক্ষা অধিদপ্তরের অদক্ষতা উদাসীনতাকে দায়ী করে বক্তব্য দিচ্ছেন শিক্ষকরা। [দৈনিক শিক্ষা ডট কম, ২২ ডিসেম্বর ২০১৫] সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল, এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব আয় সরকারি কোষাগারে দিতে হবে কি না- এর জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, টাকা যাতে স্বচ্ছভাবে ব্যয় হয়, জন্য আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ওই টাকা সরকারি কাজে চলে আসবে কিনা, সেটা আইনে বলা হবে। মাসের মধ্যে আইন পাশের জন্য সংসদে উঠবে বলে জানান তিনি। [দৈনিক শিক্ষা ডট কম, ২২ ডিসেম্বর ২০১৫] সবচেয়ে পীড়াদায়ক হচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সার্কুলারটিতে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের বর্ধিত বেতনভাতা প্রদানের জন্য প্রস্তাবিত বর্ধিত টাকাকে বারবার লেখা হয়েছেঅনুদান-সহায়তা অথচ দীর্ঘদিন ধরেই এমপিও আদেশে লেখা হয় বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের সরকারি অংশের বেতনভাতা। বেসরকারি শিক্ষকরা কি বিনা কাজে টাকা চাচ্ছেন যে তাদের প্রদত্ত সরকারি টাকাকে বেতনভাতা না বলে অনুদান-সহায়তা বলা হলো?

বারবার শিক্ষকদের মর্যাদা ক্ষুণœ করার এহেন অপচেষ্টা করে সরকারের ওপর অসন্তোষ সৃষ্টির পেছনে কোনো বিশেষ আমলা, নেতাদের কারসাজি আছে কিনা এমন প্রশ্ন জাগা এখন নিশ্চয়ই অস্বাভাবিক নয়? তা না হলে, যা হওয়ার তা সঠিক সময়ে না করে এবং যা না হওয়ার তা বারবার করে কেন ক্ষেপিয়ে তোলা হচ্ছে শিক্ষক, কর্মচারী, শিক্ষার্থী, অভিভাবক তথা শিক্ষা ক্ষেত্রের এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে? শিক্ষা ক্ষেত্রে এত এত শুভ কাজ করার এবং হাতে নেয়ার পরও কেন বারবার বিতর্কিত হয়ে, জনরোষে পড়ে, মাথা হেট করে বদল করতে হচ্ছে সরকারি সিদ্ধান্ত?

মো. রহমত উল্লাহ্ : অধ্যক্ষ, কিশলয় বালিকা বিদ্যালয় কলেজ, ঢাকা


আইনের আওতায় আনা হোক অপারেটরদের

আইনের আওতায় আনা হোক অপারেটরদের

 
আইনের আওতায় আনা হোক অপারেটরদের
·         ভোরের কাগজ> মুক্তচিন্তা
রবিবার, ২৯ নভেম্বর ২০১৫

মো. রহমত উল্লাহ্ 
বর্তমানে মোবাইল ফোন আমাদের নিত্যসঙ্গী। আপনজনের চেয়েও যেন আপন একটি মোবাইল ফোন। কেননা কাছের ও দূরের সব আপনজনের নিত্য কাছাকাছি থাকার সহজ উপায় হচ্ছে মোবাইল ফোন। শিক্ষা, পত্রপত্রিকা, ব্যবসা-বাণিজ্য, আইনশৃঙ্খলা, অফিস-আদালত, এমন কি রাষ্ট্র পরিচালনা থেকে শুরু করে একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়সহ সব ক্ষেত্রেই মোবাইল ফোনের ব্যবহার অপরিহার্য। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে এই মোবাইল ফোন এখন হয়ে উঠেছে অপরাধীদের শক্তিশালী হাতিয়ার।
অপরাধীদের একটি ফোন কল তছনছ করে দিচ্ছে আমাদের স্বাভাবিক জীবনযাপন। হ্যালো, আপনি কি অমুক সাহেব? একটু লাইনে থাকেন আমাদের বড়ভাই কথা বলবেন।

… ‘হ্যালো, আমি কালা / দলা / কানা / ল্যাংড়া / খাটো / লম্বা / ডাকাত / খুনি কানকাটা / গালকাটা / হাতকাটা / চাপাতিবলছি। আমাদের বস জেলে আছে। ছাড়াইতে অনেক টাকা লাগব। আপনের বেশি দিতে অইব না। মাত্র দশ লাখ। রেডি রাইখেন। শনিবারে দিতে অইব। হুম, না, কোনো কথা না। কথা কইলেই বিশ লাখ। চেলাকি করলে, কাউরে কইলেই ফালাই দিমু কিন্তু পুলিশেরে জানায়া কোনো লাভ নাই। জানাইবি, আর খতম। বউ-পোলাপান, তাও খতম।এসএমএসের মাধ্যমেও আসতে পারে এমন সব হুমকি। এরপর আর চলতে পারে না কারো স্বাভাবিক জীবনযাপন। তা সে যত সৎ সাহসী মানুষই হোক। বন্ধ হতে বাধ্য তার তার পরিবার পরিজনের নাওয়া-খাওয়া, কাজকর্ম, ঘুম-ইবাদত। নিশ্চয়ই তাদের চোখের সামনে বারবার ভেসে ওঠে খুনিদের অস্পষ্ট মুখ, মারণাস্ত্র আর নিজেদের বীভৎস লাশ। রাস্তার প্রতিটি অচেনা মানুষকেই মনে হয় ঘাতক। লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় ভেতর-বাহির। হয়ে পড়ে চরম অসহায়। লোপ পায় নিজের দেশের প্রতি ভালোবাসা
এই হচ্ছে বাস্তবতা। এমন হুমকি যে শুধু সাধারণ মানুষই পায় তা নয়। আমলা, জেলার, টিচার, প্রফেসার, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, উকিল, ব্যবসায়ী, ঠিকাদার কেউ বাদ যাচ্ছে না এমন হুমকি থেকে। ইদানীং আবার লেখালেখির কারণে সরাসরি হত্যার হুমকি আসছে কবি, লেখক ও সাংবাদিকদের প্রতিও। পুলিশের কাছে আশ্রয় চেয়েও মেনে নিতে হচ্ছে অপঘাতে মৃত্যু। তেমন কিছুই করতে পারছে না পুলিশ। চিহ্নিত করতে পারছে না সেই মোবাইল ফোন নম্বরের মালিক। কিন্তু কেন? কারণ আমাদের দেশের লাখ লাখ সিমের নেই সঠিক রেজিস্ট্রেশন। যদিও মোবাইল ফোন অপারেটরদেরই দায়িত্ব তাদের প্রতিটি গ্রাহকের সঠিক নাম ঠিকানা রেজিস্ট্রেশন নিশ্চিত করা। তাদের অবহেলার কারণে তা হচ্ছে না। বারবার ব্যর্থ হচ্ছে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ। পরস্পরের প্রতি দায় চাপাতে ব্যস্ত সরকার ও অপারেটর।
অথচ মোবাইল অপারেটরদের কি কোনো দায়বদ্ধতা থাকবে না এরকম মোবাইল ফোন রিলেটেড হাজার হাজার অপরধীদের চিহ্নিত করতে না পারার জন্য? তারা অপরাধীদের নাম ঠিকানা না জেনে, না লিখে, না জানিয়ে লাখ লাখ সিম বিক্রি করে অপব্যবসা করে যাবে বছরের পর বছর; আর আমরা থ্রেড খাব, চাঁদা দেব, অশান্তি নেব, মরে যাব, আমাদের মেয়েরা আত্মহত্যা করবে, আমাদের সন্তানদের স্কুল-কলেজে যাওয়া বন্ধ থাকবে, আমাদের নাওয়া-খাওয়া ঘুম হারাম হবে, তা তো হতে পারে না কোনোভাবেই। আমার অস্ত্র দিয়ে যদি কাউকে মারা হয়, আমার গাড়ি নিয়ে যদি কাউকে ছিনতাই করা হয়, আমার জামা পরে যদি কেউ চুরি ডাকাতি করে, আমার মাইকে যদি কেউ অপপ্রচার চালায়, আমার পত্রিকায় কেউ যদি খারাপ কিছু লেখে, আমার টিভিতে যদি কেউ খারাপ বক্তব্য দেয়, আমার বাড়ি ভাড়া নিয়ে কেউ যদি অপকর্ম করে, আমার জমি ভাড়া নিয়ে কেউ যদি আফিম চাষ কর, তো পুলিশ কি ছেড়ে দেবে আমাকে? যারা আমার জিনিস নিয়ে খারাপ কাজ করেছে, করছে বারবার তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া কি আমার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না? যদি আমি তা করতে অনাগ্রহী হই তো আমি কি সমঅপরাধে অপরাধী নই? যদি আমি তা প্রতিরোধ করতে ব্যর্থ হই তো আইন প্রয়োগকারীদের সেই অপরাধীদের নাম-পরিচয় জানানো কি আমার নৈতিক ও আইনগত দায়িত্ব নয়? যদি তাই হয়, তো মোবাইল ফোন অপারেটররা কীসের বিনিময়ে এতকাল ধরে পাড় পেয়ে যাচ্ছে এই দায়িত্ব পাশ কাটানোর দায় থেকে? যাদের কোম্পানির সিম ব্যবহার করে চোরাচালানি হচ্ছে, চাঁদাবাজি হচ্ছে, কিডন্যাপ করা হচ্ছে, হুমকি দেয়া হচ্ছে, মৃত্যু পরোয়ানা দেয়া হচ্ছে, হামলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে, হামলা সফল করা হচ্ছে, খুন নিশ্চিত করা হচ্ছে বারবার তাদের বিরুদ্ধে তো কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানা যায়নি!
মোবাইল ফোনের সিম রেজিস্ট্রেশনের জন্য সরকারি উদ্যোগের কথা শোনা যায় কিছুদিন পরপর। কিন্তু কী জানি কী কারণে তা সফল হয় না পুরোপুরি! রেজিস্ট্রেশন না করার কৌশল হিসেবে প্রকাশ পায় মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলোর নানান অজুহাত আর বাহানা। কেবল নিশ্চিত হয় কমবেশি সরকারি অর্থের অপচয়। অথচ এমন একটি আইন ও আইনের সঠিক প্রয়োগ থাকলেই যথেষ্ট যে, মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলো তাদের গ্রাহকদের সব তথ্য না হোক; নাম-ঠিকানা পরিচয় প্রকাশ করতে বাধ্য থাকবে। বিশেষ করে এসব অপকর্মে যে কোম্পানির সিম নম্বর ব্যবহৃত হবে, সে কোম্পানি তার সেই গ্রাহককে চিনিয়ে দিতে বাধ্য থাকবে। যদি তা না পারে তো কোম্পানির বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে। তাহলেই সম্ভব হবে শতভাগ সিম রেজিস্ট্রেশন ও ফোন রিলেটেড অপরাধ দমন।
মো. রহমত উল্লাহ্ : শিক্ষক ও লেখক।