বেসরকারি শিক্ষকদের কথাও ভাবুন

বেসরকারি শিক্ষকদের কথাও ভাবুন

মো. রহমতউল্লাহ্ | 13-10-2015  দৈনিক শিক্ষা ডট কম

http://dainikshiksha.com/news.php?content_id=10383

2 বিশ্বের যেকোন উন্নত/উন্নয়নশীল দেশের তুলনায় আমাদের শিক্ষকদের অসচ্ছলতা অমর্যাদার কারণে বার বার ম্লান হচ্ছে শিক্ষাক্ষেত্রে অর্জিত সাফল্যগুলো। অধিক যোগ্যরা আসছেন না শিক্ষকতায়। তৈরি হচ্ছে না বিশ্বমানের যোগ্য নাগরিক-কর্মী। কাঙ্ক্ষিত গতি পাচ্ছে না আমাদের জাতীয় অগ্রগতির চাকা।
শিক্ষকরা মানব সন্তানকে মানবিক গুণাবলি দিয়ে সত্যিকার মানবে পরিণত করেন বলেই তাঁদেরকে বলা হয় দ্বিতীয় জন্মদাতা। কিন্তু মনে রাখতে হবে ক্ষুধার রাজ্যে তাঁদের পৃথিবীও গদ্যময় হয়। তখনই শিক্ষার্থী বঞ্চিত হয় সুশিক্ষা থেকে। বাজেট প্রণয়নের সময় কোন সরকারই মনে রাখে না আমাদের বেসরকারি শিক্ষকদের গদ্যময় জীবনের কথা। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, যে শিক্ষকরা উন্নত জাতি গঠনের কারিগর, সেই শিক্ষকদের ভাগ্যে তেমন কিছুই জুটলো না এখনো পর্যন্ত



সারাজীবন নামমাত্র বেতনে খেয়ে না খেয়ে কাজ করে শেষে অবসর সুবিধার সামান্য টি টাকার জন্য মাসের পর মাস ঘুরে বেড়াচ্ছেন অবসরপ্রাপ্ত বেসরকারি শিক্ষকরা। কারো চিকিত্সার টাকা নেই, কারো মেয়ের বিয়ের টাকা নেই, কারো সন্তানের লেখাপড়ার টাকা নেই, কারো ভাত-কাপড়ের টাকা নেই, কারো পুণ্যস্থান যাবার টাকা নেই, কারো পাওনাদার সামলানোর উপায় নেই। অথচ কথা ছিল বেসরকারি শিক্ষকদের অবসর সুবিধা প্রদানের জন্য গঠন করা হবে এমন একটি তহবিল; যার আয় দিয়ে সময়মত নিয়মিত পরিশোধ করা যায় তাদের সকল ন্যায্য পাওনাদি। তাদের এই সামান্য টি টাকা সময়মত প্রদানের জন্য এখনো করা গেল না একটি যুক্তিযুক্ত তহবিল

দারিদ্র্য দুর্নীতিমুক্ত ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ঘোষণা করে ক্ষমতায় আসা বর্তমান সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় তুলনামূলকভাবে অধিক সফল। শিক্ষাবর্ষের প্রথমদিন সারাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস শুরু করা, ক্লাস শুরুর পূর্বেই শিক্ষার্থীদের নিকট বিনামূলে নতুন বই পৌঁছে দেয়া, একই রুটিনে সারাদেশের সকল স্কুল-কলেজে অভ্যন্তরীণ পরীক্ষাসমূহ গ্রহণ ফলাফল প্রকাশ, বোর্ডের সরবরাহকৃত প্রশ্নে নির্বাচনী পরীক্ষা গ্রহণ, অন-লাইন ভর্তি, অন-লাইন রেজিস্ট্রেশন, অন-লাইন ফরম ফিল-আপ, স্বল্পতম সময়ে কাগজ বিহীনভাবে পরীক্ষাসমূহের ফলাফল প্রকাশ, মোবাইল ফোনে এসএমএস-এর মাধ্যমে ফলাফল জানানো, শর্ট-মেসেজের মাধ্যমে উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের আবেদন গ্রহণ, সারা দেশে একইসাথে পিএসসি/ জেএসসি পরীক্ষা সফলভাবে চালু করা, সকল স্কুল-কলেজে -মেইল ওয়েব-সাইট চালু করা, অন-লাইনে সকল কলেজে ভর্তির মাধ্যমে তালিকা তৈরি করে ভর্তি সম্পন্ন করা ইত্যাদি সফলতার জন্য মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষা সচিব, শিক্ষা বোর্ড এবং শিক্ষকদের অবদানই সবচেয়ে বেশি

ডিজিটাল ব্যবস্থার সঙ্গে পরিচিত না হলেও; ডিজিটাল শব্দটির সাথে দেশের সকল মানুষ এখন পরিচিত। বিশেষ করে এসব ডিজিটাল ব্যবস্থা মাঠপর্যায়ে যতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে তার জন্য শিক্ষকদের সহায়ক  ভূমিকা অবশ্যই প্রশংসনীয়। আমাদের দেশের অনেক উদ্যমী শিক্ষার্থী এবং চাকরিজীবী এখন ডিজিটাল ব্যবস্থা ব্যবহার করে (ইন্টারনেট) আউট-সোর্সিং-এর মাধ্যমে অনেক অর্থ উপার্জন করে নিজের লেখাপড়ার খরচ এবং পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা বৃদ্ধি করতে পারছে। অনেকেই এখন জানে ইন্টারনেটের মাধ্যমে বাংলাদেশের ঘরে বসেই সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে আমেরিকা, কানাডা, অস্ট্রেলিয়ার মত উন্নত দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করে উপার্জন করা যায় বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা। জিডিটাল ব্যবস্থার ছোঁয়া লাগা আজকের এই শিক্ষার্থীরা পূর্ণ যোগ্যতা নিয়ে কর্মক্ষেত্রে এলেই এর সুফল পাবে সমগ্র জাতি। এই ডিজিটাল শব্দটি নিয়ে শুরুতে যে সকল নিন্দুকর হাসি-তামাশা করেছে, তারাও এখন লুফে নিচ্ছে ডিজিটাল ব্যবস্থার সুফল। অনেক বাবা-মা গ্রহণ করতে ব্যর্থ হলেও ছেলে-মেয়েরা এখন কিছুটা হলেও বুঝতে পারছে ডিজিটাল ব্যবস্থার সুফল, ডিজিটাল বাংলাদেশ মানেই আগামীদিনের উন্নত বাংলাদেশ। জাতিগতভাবে আমাদের সন্তানদের এই অনুকূল ধারণা বিশ্বাস সৃষ্টিতে মাঠপর্যায়ে যারা প্রত্যক্ষ অগ্রণী ভূমিকা রেখে চলেছেন তারা হচ্ছেন আমাদের শিক্ষকমণ্ডলী

অতীতেও বাঙালি জাতির অধিকার আদায়ের সকল আন্দোলন-সংগ্রামে যথাযথ ভূমিকা পালন করেছেন এই শিক্ষকসমাজ। এজন্যই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশ স্বাধীনের পর পরই একদিনে সরকারি করেছিলেন সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়। তারই কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী। তাই মেনে নিতে কষ্ট হয় বেসরকারি শিক্ষকদের এই দৈন্যদশা! অতীতের মতো এখনো একচেটিয়া সরকারি শিক্ষকদেরকে ডেপুটেশনে আমলা বানিয়ে শাসন করা হয় বেসরকারি শিক্ষকদের। নিজে শিক্ষক হয়েও অধিকাংশ সরকারি শিক্ষক কোন মানুষই মনে করেন না বেসরকারি শিক্ষককে। এজন্যই সরকারি চাকুরেদের বেতন-ভাতা বাড়ে, বয়সসীমা বাড়ে, চুক্তিতে চাকরির সুযোগ বাড়ে, গাড়ি-বাড়ি বাড়ে অথচ বেসরকারি শিক্ষকদের কিছুই বাড়ে না। বরং বঞ্চিত করার কুকৌশল বাড়ে। এসকল সরকারি শিক্ষক এবং বর্তমান সাবেক আমলাদের কু-পরামর্শে ভুলে গেলে চলবে না যে, বেসরকারি শিক্ষকরা সংখায় পঁচিশ লাখেরও বেশি। তাঁরা পাঠদান করেন এদেশের মোট শিক্ষার্থীর প্রায় ৯৭ ভাগ। তাই সমাজে রাষ্ট্রে তাঁদের প্রত্যক্ষ প্রভাব অত্যন্ত ব্যাপক প্রখর। একটি গ্রামে যদি / জন সরকারি শিক্ষক/আমলা থাকেন তো ৯৬/৯৫ জন আছেন শিক্ষক। শিক্ষাদানের পাশাপাশি যাঁদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা নিয়ে প্রতিরোধ করতে হয় বাল্যবিবাহ, দূর করতে হয় নিরক্ষরতা, টিকা দিতে হয় শিশুদের, দূর করতে হয় সামাজিক কুসংস্কার, তৈরি করতে হয় গ্রামীণ আদালত, তৈরি করতে হয় ভোটার তালিকা, সম্পন্ন করতে হয় ভোট গ্রহণ, সফল করতে হয় আদমশুমারি, বাস্তবায়ন করতে হয় খাল খনন কর্মসূচি, হটাতে হয় স্বৈরাচার, জানান দিতে হয় সমুদ্র জয়ের মত অনেক সুখবর, প্রতিরোধ করতে হয় ইভটিজিং মাদকাশক্তি এবং এমন আরো অনেক সরকারি-বেসরকারি জনকল্যাণমূলক কাজ; তাঁদের বেতন-ভাতা দেবার বেলায় এত অনীহা কেন? এই শিক্ষক সমাজকে দিয়েই তো ভবিষ্যতে বাস্তবায়ন করতে হবে সরকারের গৃহীত শিক্ষানীতিসহ আরো অনেক কর্মসূচি। তৈরি করতে হবে যোগ্য নাগরিক-কর্মী। প্রতিষ্ঠা করতে হবে কাঙ্ক্ষিত ডিজিটাল সোনার বাংলা। সফল করতে হবে সকল ভিশন। তাই মনে রাখতে হবে এই বিপুল সংখ্যক বেসরকারি শিক্ষককে বঞ্চিত রেখে কোনদিনই সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয় সরকারি কর্মসূচি এবং নিশ্চিত করা সম্ভব নয় জাতীয় অগ্রগতির কাঙ্ক্ষিত মাত্রা। বিচ্ছিন্নভাবে বেছে বেছে কিছু স্কুল-কলেজ সরকারি না করে জাতীয়করণ করা প্রয়োজন বেসরকারি শিক্ষকদের চাকরিসহ পুরো শিক্ষা কার্যক্রম। যাতে অধিক মেধাবীরা আগ্রহী হয় শিক্ষকতায়

লেখক: মোরহমতউল্লাহ্
অধ্যক্ষ, কিশলয় বালিকা বিদ্যালয় কলেজ, ঢাকা
E-mail- rahamot21@gmail.com

 




বেসরকারি শিক্ষকদের কথাও ভাবুন

মো. রহমতউল্লাহ্ | 13-10-2015  দৈনিক শিক্ষা ডট কম

http://dainikshiksha.com/news.php?content_id=10383

2 বিশ্বের যেকোন উন্নত/উন্নয়নশীল দেশের তুলনায় আমাদের শিক্ষকদের অসচ্ছলতা ও অমর্যাদার কারণে বার বার ম্লান হচ্ছে শিক্ষাক্ষেত্রে অর্জিত সাফল্যগুলো। অধিক যোগ্যরা আসছেন না শিক্ষকতায়। তৈরি হচ্ছে না বিশ্বমানের যোগ্য নাগরিক-কর্মী। কাঙ্ক্ষিত গতি পাচ্ছে না আমাদের জাতীয় অগ্রগতির চাকা।
শিক্ষকরা মানব সন্তানকে মানবিক গুণাবলি দিয়ে সত্যিকার মানবে পরিণত করেন বলেই তাঁদেরকে বলা হয় দ্বিতীয় জন্মদাতা। কিন্তু মনে রাখতে হবে ক্ষুধার রাজ্যে তাঁদের পৃথিবীও গদ্যময় হয়। তখনই শিক্ষার্থী বঞ্চিত হয় সুশিক্ষা থেকে। বাজেট প্রণয়নের সময় কোন সরকারই মনে রাখে না আমাদের বেসরকারি শিক্ষকদের গদ্যময় জীবনের কথা। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, যে শিক্ষকরা উন্নত জাতি গঠনের কারিগর, সেই শিক্ষকদের ভাগ্যে তেমন কিছুই জুটলো না এখনো পর্যন্ত।


সারাজীবন নামমাত্র বেতনে খেয়ে না খেয়ে কাজ করে শেষে অবসর সুবিধার সামান্য ক’টি টাকার জন্য মাসের পর মাস ঘুরে বেড়াচ্ছেন অবসরপ্রাপ্ত বেসরকারি শিক্ষকরা। কারো চিকিত্সার টাকা নেই, কারো মেয়ের বিয়ের টাকা নেই, কারো সন্তানের লেখাপড়ার টাকা নেই, কারো ভাত-কাপড়ের টাকা নেই, কারো পুণ্যস্থান যাবার টাকা নেই, কারো পাওনাদার সামলানোর উপায় নেই। অথচ কথা ছিল বেসরকারি শিক্ষকদের অবসর সুবিধা প্রদানের জন্য গঠন করা হবে এমন একটি তহবিল; যার আয় দিয়ে সময়মত ও নিয়মিত পরিশোধ করা যায় তাদের সকল ন্যায্য পাওনাদি। তাদের এই সামান্য ক’টি টাকা সময়মত প্রদানের জন্য এখনো করা গেল না একটি যুক্তিযুক্ত তহবিল।

দারিদ্র্য ও দুর্নীতিমুক্ত ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ঘোষণা করে ক্ষমতায় আসা বর্তমান সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় তুলনামূলকভাবে অধিক সফল। শিক্ষাবর্ষের প্রথমদিন সারাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস শুরু করা, ক্লাস শুরুর পূর্বেই শিক্ষার্থীদের নিকট বিনামূলে নতুন বই পৌঁছে দেয়া, একই রুটিনে সারাদেশের সকল স্কুল-কলেজে অভ্যন্তরীণ পরীক্ষাসমূহ গ্রহণ ও ফলাফল প্রকাশ, বোর্ডের সরবরাহকৃত প্রশ্নে নির্বাচনী পরীক্ষা গ্রহণ, অন-লাইন ভর্তি, অন-লাইন রেজিস্ট্রেশন, অন-লাইন ফরম ফিল-আপ, স্বল্পতম সময়ে কাগজ বিহীনভাবে পরীক্ষাসমূহের ফলাফল প্রকাশ, মোবাইল ফোনে এসএমএস-এর মাধ্যমে ফলাফল জানানো, শর্ট-মেসেজের মাধ্যমে উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের আবেদন গ্রহণ, সারা দেশে একইসাথে পিএসসি/ জেএসসি পরীক্ষা সফলভাবে চালু করা, সকল স্কুল-কলেজে ই-মেইল ও ওয়েব-সাইট চালু করা, অন-লাইনে সকল কলেজে ভর্তির মাধ্যমে তালিকা তৈরি করে ভর্তি সম্পন্ন করা ইত্যাদি সফলতার জন্য মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষা সচিব, শিক্ষা বোর্ড এবং শিক্ষকদের অবদানই সবচেয়ে বেশি।

ডিজিটাল ব্যবস্থার সঙ্গে পরিচিত না হলেও; ডিজিটাল শব্দটির সাথে দেশের সকল মানুষ এখন পরিচিত। বিশেষ করে এসব ডিজিটাল ব্যবস্থা মাঠপর্যায়ে যতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে তার জন্য শিক্ষকদের সহায়ক  ভূমিকা অবশ্যই প্রশংসনীয়। আমাদের দেশের অনেক উদ্যমী শিক্ষার্থী এবং চাকরিজীবী এখন ডিজিটাল ব্যবস্থা ব্যবহার করে (ইন্টারনেট) আউট-সোর্সিং-এর মাধ্যমে অনেক অর্থ উপার্জন করে নিজের লেখাপড়ার খরচ এবং পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা বৃদ্ধি করতে পারছে। অনেকেই এখন জানে ইন্টারনেটের মাধ্যমে বাংলাদেশের ঘরে বসেই সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে আমেরিকা, কানাডা, অস্ট্রেলিয়ার মত উন্নত দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করে উপার্জন করা যায় বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা। জিডিটাল ব্যবস্থার ছোঁয়া লাগা আজকের এই শিক্ষার্থীরা পূর্ণ যোগ্যতা নিয়ে কর্মক্ষেত্রে এলেই এর সুফল পাবে সমগ্র জাতি। এই ডিজিটাল শব্দটি নিয়ে শুরুতে যে সকল নিন্দুকর হাসি-তামাশা করেছে, তারাও এখন লুফে নিচ্ছে ডিজিটাল ব্যবস্থার সুফল। অনেক বাবা-মা গ্রহণ করতে ব্যর্থ হলেও ছেলে-মেয়েরা এখন কিছুটা হলেও বুঝতে পারছে ডিজিটাল ব্যবস্থার সুফল, ডিজিটাল বাংলাদেশ মানেই আগামীদিনের উন্নত বাংলাদেশ। জাতিগতভাবে আমাদের সন্তানদের এই অনুকূল ধারণা ও বিশ্বাস সৃষ্টিতে মাঠপর্যায়ে যারা প্রত্যক্ষ অগ্রণী ভূমিকা রেখে চলেছেন তারা হচ্ছেন আমাদের শিক্ষকমণ্ডলী।

অতীতেও বাঙালি জাতির অধিকার আদায়ের সকল আন্দোলন-সংগ্রামে যথাযথ ভূমিকা পালন করেছেন এই শিক্ষকসমাজ। এজন্যই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশ স্বাধীনের পর পরই একদিনে সরকারি করেছিলেন সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়। তারই কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী। তাই মেনে নিতে কষ্ট হয় বেসরকারি শিক্ষকদের এই দৈন্যদশা! অতীতের মতো এখনো একচেটিয়া সরকারি শিক্ষকদেরকে ডেপুটেশনে আমলা বানিয়ে শাসন করা হয় বেসরকারি শিক্ষকদের। নিজে শিক্ষক হয়েও অধিকাংশ সরকারি শিক্ষক কোন মানুষই মনে করেন না বেসরকারি শিক্ষককে। এজন্যই সরকারি চাকুরেদের বেতন-ভাতা বাড়ে, বয়সসীমা বাড়ে, চুক্তিতে চাকরির সুযোগ বাড়ে, গাড়ি-বাড়ি বাড়ে অথচ বেসরকারি শিক্ষকদের কিছুই বাড়ে না। বরং বঞ্চিত করার কুকৌশল বাড়ে। এসকল সরকারি শিক্ষক এবং বর্তমান ও সাবেক আমলাদের কু-পরামর্শে ভুলে গেলে চলবে না যে, বেসরকারি শিক্ষকরা সংখায় পঁচিশ লাখেরও বেশি। তাঁরা পাঠদান করেন এদেশের মোট শিক্ষার্থীর প্রায় ৯৭ ভাগ। তাই সমাজে ও রাষ্ট্রে তাঁদের প্রত্যক্ষ প্রভাব অত্যন্ত ব্যাপক ও প্রখর। একটি গ্রামে যদি ৪/৫ জন সরকারি শিক্ষক/আমলা থাকেন তো ৯৬/৯৫ জন আছেন শিক্ষক। শিক্ষাদানের পাশাপাশি যাঁদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা নিয়ে প্রতিরোধ করতে হয় বাল্যবিবাহ, দূর করতে হয় নিরক্ষরতা, টিকা দিতে হয় শিশুদের, দূর করতে হয় সামাজিক কুসংস্কার, তৈরি করতে হয় গ্রামীণ আদালত, তৈরি করতে হয় ভোটার তালিকা, সম্পন্ন করতে হয় ভোট গ্রহণ, সফল করতে হয় আদমশুমারি, বাস্তবায়ন করতে হয় খাল খনন কর্মসূচি, হটাতে হয় স্বৈরাচার, জানান দিতে হয় সমুদ্র জয়ের মত অনেক সুখবর, প্রতিরোধ করতে হয় ইভটিজিং ও মাদকাশক্তি এবং এমন আরো অনেক সরকারি-বেসরকারি জনকল্যাণমূলক কাজ; তাঁদের বেতন-ভাতা দেবার বেলায় এত অনীহা কেন? এই শিক্ষক সমাজকে দিয়েই তো ভবিষ্যতে বাস্তবায়ন করতে হবে সরকারের গৃহীত শিক্ষানীতিসহ আরো অনেক কর্মসূচি। তৈরি করতে হবে যোগ্য নাগরিক-কর্মী। প্রতিষ্ঠা করতে হবে কাঙ্ক্ষিত ডিজিটাল সোনার বাংলা। সফল করতে হবে সকল ভিশন। তাই মনে রাখতে হবে এই বিপুল সংখ্যক বেসরকারি শিক্ষককে বঞ্চিত রেখে কোনদিনই সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয় সরকারি কর্মসূচি এবং নিশ্চিত করা সম্ভব নয় জাতীয় অগ্রগতির কাঙ্ক্ষিত মাত্রা। বিচ্ছিন্নভাবে বেছে বেছে কিছু স্কুল-কলেজ সরকারি না করে জাতীয়করণ করা প্রয়োজন বেসরকারি শিক্ষকদের চাকরিসহ পুরো শিক্ষা কার্যক্রম। যাতে অধিক মেধাবীরা আগ্রহী হয় শিক্ষকতায়।

লেখক: মো.  রহমতউল্লাহ্
অধ্যক্ষ, কিশলয় বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজ, ঢাকা
E-mail- rahamot21@gmail.com

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ডায়নামিক ওয়েবসাইটের নামে হচ্ছেটা কী

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ডায়নামিক ওয়েবসাইটের নামে হচ্ছেটা কী
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ডায়নামিক ওয়েবসাইটের নামে হচ্ছেটা কী

মো. রহমত উল্লাহ্‌ | 21-10-2015  দৈনিক শিক্ষা ডট কম

http://dainikshiksha.com/news.php?content_id=10637

11

সম্প্রতি আবার শিক্ষামন্ত্রনালয় এই মর্মে পুনরাদেশ দিয়েছেন যে, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তাদের নিজস্ব ডোমেইন আইডি নিয়ে ডায়নামিক ওয়েভসাইট তৈরি করে মন্ত্রনালয়কে অবহিত করতে হবে। যাতে প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় তথ্য উপস্থাপন করতে হবে নিয়মিত।

যেমন স্থাবর অস্থাবর সম্পদ, সকল প্রকার আয়, সকল প্রকার ব্যায়, শিক্ষার্থীদের সংখ্যা, উপস্থিতি, অনুপস্থিতি, পরীক্ষাসমুহের ফলাফল, শিক্ষকদের প্রফাইল, কমিটির প্রফাইল, সহশিক্ষা কার্যক্রম ইত্যাদি যেনো যেকেউ যেকোনসময় যেকোনদেশে বসে দেখে নিতে পারে। ট্রেন্সফারেন্সি নিশ্চিত করে, দুর্নীতি দূর করে, ডিজিটাল ব্যবস্থানার মাধ্যমে আধুনিক প্রগতিশীল উন্নত সোনার বাংলা গড়ে তোলার জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে এমন ডায়নামিক ওয়েভসাইট থাকা জরুরি। তাই  দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একই রকম ওয়েবপেইজ তৈরির আদেশটি প্রশংসনীয়।


কিন্তু এভাবে এটি বাস্তবায়ন সফল হবে না। কারন আমাদের দেশের অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এই ব্যয় নির্বাহ করা সম্ভব নয়। বিশেষ করে বিভিন্ন প্রাইভেট আটি প্রতিষ্ঠানের নিকট থেকে অযৌক্তিক উচ্চ মূল্যে সফটওয়্যার ক্রয় করার মত সচ্ছলতা নেই অনেক প্রতিষ্ঠানেরই। গ্রামের প্রতিষ্ঠানেরতো নেই ই ; শরের অনেক প্রতিষ্ঠেরও নেই। এই আদেশের পর হঠাত দেশে এমন অনেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান গজিয়ে উঠেছে যারা মান সম্পন্ন কাজ জানেনা। যেনতেন কাজ করে দিচ্ছে অল্প টাকায়। যাতে অসচ্ছল প্রতিষ্ঠান গুলোকে রাজি করানো যায়। এই সব নাম সর্বস্ব  আটি প্রতিষ্ঠানের কোন বৈধ রেজিস্ট্রশন আছে কিনা তাও জানেনা অনেকেই। কোন প্রতিষ্ঠান থেকে রেজিস্ট্রেশন থাকতে হবে বা অদৌ কোন রেজিস্ট্রেশন থাকতে হবে কিনা তার কোন নির্দেশনা অথবা তালিকা যেহেতু শিক্ষামন্ত্রনালয় প্রদান করেনি তাই যেকোন ব্যক্তি / প্রতিষ্ঠানই এই ওয়েবসাইট ও সফটওয়্যার  তৈরির কাজে নামার ও নিয়োগ পাওয়ার অবাধ সুযোগ পেয়েছ। অনেক প্রতিষ্ঠান প্রধান নিজেই এখনো জানেন না এই ডায়নামিক ওয়েবসাইট এর আসল নকল। তাই ওয়ার্ডপ্রেস ও অন্যান্য ফ্রি মেকারদের থেকে কিছু কিছু নিয়ে ক্লোন করে যেনতেন একটা পেজ মেকাপ করে দিয়ে টাকা হাতিয়ে কদিন পরে তাদের পালাবার সম্ভাবনাই বেশি। তখন হায় হায় করবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলো। 

জেলা ও উপজেলা লেভেলের অনেক অসাধু প্রতিষ্ঠান প্রধান, শিক্ষা কর্মকর্তা, দলীয় লোক ও কমিটির লোকদের বিভিন্ন অবৈধ সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে হাত করে এই ডায়নামিক ওয়েবসাইট তৈরির কাজ বাগিয়ে অনেক টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে শুনা যাচ্ছে। প্রতি একটি প্রতিষ্ঠানের সাথে এককালীন  চুক্তি করিয়ে দিলে এসব আইটি প্রতিষ্ঠান থেকে এককালীন দুই/ তিন/ চার/ পাঁচ হাজার টাকা করে দেওয়া হচ্ছে বলে অনেকেই বলাবলি করছেন। একটা উপজেলায় যদি স্কুল কলেজ মাদ্রাসা মিলে ৪০/৫০ টি প্রতিষ্ঠান তাকে তো লাখ লাখ টাকার কারবার!  এমন কথাও আলোচনা হচ্ছে যে, এই ওয়েবসাইট ও সফটওয়্যার এর মূল্য এবং সার্ভিস চার্জ বাবদ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেকে তাদের চলমান শিক্ষার্থী প্রতি মাসিক ১০ টাকা হারে বছরের পর বছর নিয়মিত পরিশোধ করতে হবে এইরূপ একটি চুক্তি করিয়ে দিলে সংশ্লিষ্ট আইটি ফারম থেকে শিক্ষার্থী প্রতি ২/৩ টাকা হারে নিয়মিত কমিশন পাওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। একটি প্রতিষ্ঠানে যদি গড়ে ৫০০ করে শিক্ষার্থী থাকে তো ৪০/৫০ টি প্রতিষ্ঠান থেকে আসবে মাসে মাসে হাজার হাজার টাকা লাভ। খতিয়ে দেখা দরকার এইসবের সত্য মিথ্যা। যদি এই আলোচিত মধ্যসত্ত্ব ভুগিদের অস্তিত না থাকে তো মন্দের ভালো। তবে তারা থাকুক আর নাই থাকুক এইসব হায় হায় আটি ফারমের পিছনে যে ব্যয় হচ্ছে / হবে এই টাকা কিন্ত শেষমেশ পরিশোধ করতে হবে শিক্ষার্থীদের মা বাবাকেই। বড়বে শিক্ষার্থীদের ব্যয়। কাজের কাজ হবে না কিছুই।

এতে সরকারের ও আইটি উপদেষ্টার বদনাম হচ্ছে, আরো হবে। ওয়েবসাইট এবং সফটওয়্যার এর কাজও একরকম হচ্ছে না, হবে না। তাই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচিৎ একটি কমন ওয়েবসাইট এবং প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার তৈরি করে সকল প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে দেওয়া। তাতে সকল প্রতিষ্ঠানের টাকা সাশ্রয় হবে এবং একই রকম মানসম্পন্ন কাজও হবে। ফটকাবাজদের হাত থেকে প্রতিষ্ঠান গুলো রক্ষা পাবে। এবারের কলেজ ভর্তির প্রক্রিয়াই প্রমান যে, আমাদের মন্ত্রণায়লয় ইচ্ছে করলেই ভালো কিছু করা সম্ভব। প্রয়োজনে মন্ত্রণালয় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নিকট থেকে নাম মাত্র ফি নিয়ে নিতে পারে এই কাজের জন্য।

লেখক: অধ্যক্ষ, কিশলয় বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজ, মোহাম্মদপুর,  ঢাকা।

আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি জাতীয় শপথ থাকা জরুরি

আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি জাতীয় শপথ থাকা জরুরি
আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি জাতীয় শপথ থাকা জরুরি

মো. রহমত উল্লাহ্‌ | 20-10-2015  দৈনিক শিক্ষা ডট কম
http://dainikshiksha.com/news.php?content_id=10578


আমাদের দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি ভাবে নির্ধারিত কোন শপথ আছে কিনা তা জানার চেষ্টা করতে গিয়ে গত ২০১১ সালে কথা বলেছিলাম বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার শিক্ষক গণের সাথে। ফোন করেছিলাম বিভিন্ন দপ্তরে ও প্রতিষ্ঠানে।
তখন কেউই দিতে পারেননি নিশ্চিত তথ্য। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদশর্ক জানিয়ে ছিলেন, স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জন্য বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত কোন শপথ আছে এমনটি তাঁর জানা নেই। ঢাকা জেলা শিক্ষা অফিসার বলেছিলেন- আমার অফিসে এই মর্মে কোন সার্কুলার আদৌ আছে কি না আমি বলতে পারবো না।


সেমতাবস্থায় দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন বক্তব্যে ও ভাষায়  শিক্ষার্থীদের শপথ বাক্য পাঠ অস্বাভাবিক ছিলনা। হয়ত সে কারণেই বিভিন্ন স্কুল-কলেজের ডায়রিতে বিভিন্ন রকম শপথ বাক্য লক্ষ্য করা গেছে। সাধু বা চলিত অথবা মিশ্র ভাষায় লিখিত বাক্য গুলো ছিল মোটামুটি নিম্নরূপ: “আমি অঙ্গীকার করিতেছি যে, মানুষের সেবায় সব সময় নিজেকে নিয়োজিত রাখিব। দেশের প্রতি অনুগত থাকিব। দেশের একতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখিবার জন্য সচেষ্ট থাকিব। হে আল্লাহ্, আমাকে শক্তি দিন, আমি যেন দেশের সেবা করিতে পারি এবং বাংলাদেশকে একটি আদর্শ ও শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসাবে গড়িয়া তুলিতে পারি। আমীন।”  অথবা “আমি শপথ করছি যে, কলেজের সকল নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে চলব। নিষ্ঠা ও মনোযোগসহকারে লেখাপড়া করব। কলেজের সুখ্যাতি ও মান-উন্নয়নে সচেষ্ট থাকব। দেশ ও মানুষের সেবায় সর্বদা নিজেকে নিয়োজিত রাখব। স্বধর্মের সকল বিধি-বিধান মেনে চলব। হে আল্লাহ্, আমাকে শক্তি দিন। আমি যেন কলেজের ভাবমূর্তিকে উজ্জল করতে পারি। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের সেবা করতে পারি। আমীন।”

আবার অনেক প্রতিষ্ঠানের ডায়রিতে কোন শপথ বাক্য ছিলনা এবং নেই। দেশের লাখো প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব কোন ডায়রি এখনো নেই। সম্ভবত এবিষয়ে আমার একাধিক লেখালেখি ও একাধিক দপ্তরে ঘাটাঘাটি করার কারণে গত ২০১৩ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি শপথ বাক্য দেওয়া হয়েছে। যা এই রূপ "আমি শপথ করিতেছি যে, মানুষের সেবায় সর্বদা নিজেকে নিয়োজিত রাখিব
দেশের প্রতি অনুগত থাকিব। দেশের একতা এবং সংহতি বজায় রাখিবার জন্য সচেষ্ট থাকিব।
অন্যায় ও দুর্নীতি করিব না এবং অন্যায় ও দূর্নীতিকে প্রশ্রয় দিব না। হে প্রভু, আমাকে শক্তি দিন, আমি যেন বাংলাদেশের সেবা করিতে পারি, বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী ও আদর্শ রাষ্ট্র হিসাবে গড়িয়া তুলিতে পারি-আমীন।" এটিও ধর্ম নিরপেক্ষ ও চলতি ভাষায় নয়, পরিপূর্ণ নয়।

সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই শপথ বাক্য হুবহো পাঠের বাধ্য-বাদকতা থাকলেও তা পুরোপুরিভাবে মানেন নি / মানেন না সবাই; বিশেষ করে অধিকাংশ মাদ্রাসা। এমতাবস্থায় বিশেষ করে যেসকল প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সদা মারতে ও মরতে প্রস্তুত, তারা গোপনে কী (সৃজণশীল?) শপথ গ্রহণ করে তা গভীর ভাবে ভেবে দেখা প্রয়োজন।
  
সচেতন ও দায়িত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ মনে করেন, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেমন ইচ্ছে তেমন  শপথ পড়া বা একেবারেই না পড়া দেশ ও জাতির জন্য মোটেও কল্যাণকর নয়।

প্রথমত: এতে করে ভিন্ন ভিন্ন মন-মনসিকতা নিয়ে বেড়ে উঠেছি আমরা এবং উঠছে আমাদের নতুন প্রজন্ম। ক্রমে বেড়েই চলছে আমাদের ও আমাদের উত্তরাধিকারদের বিভক্তি। আরো বেশি আদর্শ হীন, দয়ীত্ব-কর্তব্যহীন, দেশপ্রেমহীন, মানবতাহীন, চরিত্রহীন হচ্ছে আমাদের অধিকাংশ সন্তান।

দ্বিতীয়ত: আমাদের সকল ক্লাসের সকল পাঠ্য বই চলতি ভাষায় রচিত। বি.সি.এস. পরিক্ষাসহ সকল পরিক্ষার প্রশ্ন ও উত্তর চলতি ভাষায়। আমাদের জাতীয় সঙ্গীত ও রণ সঙ্গীত চলতি ভাষায়। জাতীয় সংসদ সদস্যদের শপথ হয় চলতি ভাষায়। ছড়া, কথা, গান, কবিতা, বিতর্ক, বক্তৃতা সবই হয় চলতি ভাষায়। তাই স্কুল-কলেজে-মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের শপথ বাক্য অবশ্যই হতে হবে বাংলা ভাষায় এবং চলতি ভাষায়।

তৃতীয়ত: জীবনের শুরুতে সকলের জন্য চাই- সুশিক্ষা অর্জনের শপথ। সঠিক ভাবে নিজেকে ও নিজের বিবেককে তৈরি করার শপথ। সৎ ও নীতিবান থাকার শপথ। দুর্নীতি মুক্ত থাকার শপথ। জাতীয়তা বোধ তৈরির শপথ। যেই মজবুত শপথ বুকে নিয়ে সহজেই সম্ভব  দেশ, জাতি ও মানুষের সত্যিকার কল্যাণ।

শুধু মাত্র নিচের ক্লাসের অবুঝ শিক্ষার্থীদের প্রতিদিনের পাঠের জন্যই নয়, স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ শ্রেণি-পেশা-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের জন্যই বাধ্যতামূলক থাকা চাই একটি সহজবুদ্ধ অর্থবহ নিরপেক্ষ শপথ। যা হবে আমাদের জাতীয় সঙ্গীতের মতই জতীয় শপথ। এই শপথ থাকতে পারে স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা-বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল পাঠ্য বইয়ের শুরুতে। সরকারি-বেসরকারিসহ সকল প্রতিষ্ঠানের  প্রোসপেকটাস ও বিভিন্ন দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত ম্যাগাজিন, পত্র, পত্রিকায়। সকল প্রশিক্ষণ একাডেমিতে। আমাদের রাষ্ট্রীয় সংবিধানে। বিভিন্ন  জাতীয়দিবসে আমাদের জাতীয় সংগীতের আগে-পরে ছাত্র, শিক্ষক, চাকুরে, সাংসদ, মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী, রষ্ট্রপতিসহ সর্বস্তরের মানুষ খুলা ডানহাত বাম বুকে(হৃদয়ে) অথবা ভূমির সমান্তরালে রেখে বার বার গ্রহণ করতে পারেন আমাদের নির্ধারিত জাতীয় শপথ। নবীন বরণ, বিদায়, সমাবর্তনসহ বিভিন্ন ছোট-বড় অধিবেশন ও অনুষ্ঠানের শুরুতে ধর্মগ্রন্থ পাঠের পর পরই হতে পারে, ভালো হওয়ার ও ভালো করার সুদৃঢ় শপথ। যাতে বার বার জাগ্রত হয় আমাদের বিবেক, শানিত হয় আমাদের চেতনা, উজ্জীবিত হয় দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবোধ। সঞ্জীবিত হয় প্রতিবাদ-প্রতিরোধের অসীম শক্তি। আমাদের সেই সার্বজনিন শপথটি হতে পারে এই রূপ: [‘আমি শপথ করছি যে, -সদা সত্য কথা বলবো ও সৎ পথে চলবো। ছোটদের স্নেহ ও বড়দের মান্য করবো। সুশিক্ষা অর্জনে আমরণ আন্তরিক থাকবো। প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্র ও স্বধর্মের সকল বিধি-বিধান মেনে চলবো। ভিন্ন ধর্ম, বর্ণ, জাতি ও সম্প্রদায়ের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবো। আমাদের জাতীয় চেতনা, একতা ও স্বাধীনতা সুরক্ষায় সর্বদা সক্রিয় থাকবো। হে সর্বশক্তিমান, আমাকে শক্তি দিন, আমি যেন সুনাগরিক হয়ে- প্রতিষ্ঠান, মাতৃভূমি ও মানুষের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করতে পারি।’ ]

লেখক: শিক্ষাবিদ, প্রাবন্ধিক, গল্পকার, ছড়াকার, এবং তালিকাভুক্ত গীতিকার- বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতার। অধ্যক্ষ, কিশলয় বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজ, ঢাকা।
rahamot21@gmail.com