Education today: The curriculum we need Md. Rahamot Ullah Deshkal News, 10 March 2026

Link of paper

Education today: The curriculum we need

Md. Rahamot Ullah

Deshkal News, 10 March 2026

Bangladesh is moving forward with the hope of becoming a developed country in the future. In this journey, the greatest asset of the nation is human resources. Therefore, to develop skilled and humane citizens who can compete at the international level, we need a modern, multidimensional, and practical curriculum. Education for the new era should not only focus on exams and academic knowledge. It should also build life skills, moral values, technological abilities, and a sense of global citizenship. A comprehensive educational framework with these qualities is now essential.


First, morality and humanity must be at the heart of the education system. The goal of education is not only to produce skilled workers but also to develop honest, responsible, and patriotic citizens. Values such as empathy, tolerance, environmental awareness, and social responsibility should be effectively included in the curriculum. In addition to textbook lessons, activities like community service, social engagement, and volunteer work should also be recognized and evaluated.


Second, the curriculum should be competency-based. It is more important what students can do with their knowledge than what they simply know. Skills such as problem-solving, critical thinking, communication, and teamwork should be central to the curriculum. Along with theoretical knowledge, students should have opportunities for project-based learning, presentations, fieldwork, and internships to gain real-life experience. At the same time, students should also practice memorizing or internalising important lessons/theories where necessary.


Third, technology and digital literacy must become an essential part of the curriculum. In the era of the Fourth Industrial Revolution, students need basic knowledge of artificial intelligence, data analysis, coding, and robotics to stay competitive globally. However, along with technological skills, it is equally important to teach cyber ethics and responsible digital behavior.


Fourth, technical and vocational education should be integrated into mainstream education. In Bangladesh, there has long been an invisible divide between general education, religious education, and technical education, both in the system and in people's mindset. In many developed countries, skill-based education and training are highly respected. Therefore, from the secondary level, students should have the opportunity to choose different educational tracks according to their interests and abilities.


Fifth, a balance between global outlook and local relevance is necessary. To maintain international standards, students must learn about world history, global economics, science, and cultures. At the same time, they should also develop a deep understanding of Bangladesh’s history, heritage, language, culture, nature, the spirit of the Liberation War, and genuine religious values. This balance will help students become true global citizens who remain connected to their roots.


Sixth, the assessment system needs reform. Instead of depending only on written examinations, greater importance should be given to continuous assessment, oral presentations, project work, and practical tests. This will reduce rote learning and encourage creativity. However, in the context of Bangladesh, careful consideration is needed regarding how much practical assessment should be assigned to teachers at different levels.


Finally, teacher training and the leadership of institution heads are extremely important. A modern curriculum may look impressive on paper, but it cannot succeed without skilled teachers and capable institutional leaders. Therefore, opportunities for teachers’ professional development, research, and technological training must be expanded.

Education for the new era demands a curriculum that combines knowledge, skills, and human values. To build patriotic, ethical, and competent citizens who can compete globally, comprehensive reform in our education system has become a necessity of the time.


Md. Rahamot Ullah: Former Principal, Educationist, and Children's Author.




শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটিতে শিক্ষাগত যোগ্যতা কেন জরুরি মো. রহমত উল্লাহ্ প্রথম আলো, ১৪ মার্চ ২০২৬

 শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটিতে শিক্ষাগত যোগ্যতা কেন জরুরি

মো. রহমত উল্লাহ্

প্রথম আলো, ১৪ মার্চ ২০২৬ 


একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মান নির্ধারণ হয় শুধু শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের মাধ্যমে নয়; এর সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত থাকে প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক সংস্কৃতি, নীতিনিষ্ঠতা এবং সামগ্রিক শিক্ষার পরিবেশ। শিক্ষকেরা পাঠদান করেন, কিন্তু সেই শিক্ষার উপযোগী পরিবেশ, শৃঙ্খলা ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে ওঠে মূলত পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্তের মাধ্যমে। শিক্ষকেরা কতটা পেশাগত মর্যাদা নিয়ে কাজ করবেন, শিক্ষার্থীরা কতটা নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশে পড়াশোনা করবে, প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা কতটা স্বচ্ছ থাকবে? এসব প্রশ্নের উত্তর অনেকাংশে নির্ভর করে পরিচালনা কমিটির ওপর।


বর্তমানে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা সরাসরি পরিচালনা কমিটির হাতে নেই। তবু শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ প্রদান, পদোন্নতি–সংক্রান্ত সুপারিশ, প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ-সুবিধা নির্ধারণ, পুরস্কার প্রদান কিংবা প্রয়োজন হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, এসব গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব এখনো পরিচালনা কমিটির অধীনেই রয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করার দায়ভারও মূলত এই কমিটির ওপর বর্তায়। ফলে পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও সদস্যদের যোগ্যতা, দৃষ্টিভঙ্গি ও দায়িত্ববোধ একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সার্বিক মান নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে।


বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় একটি বড় অংশজুড়ে রয়েছে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। দেশের অধিকাংশ স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হয়। এসব প্রতিষ্ঠানের সুষ্ঠু পরিচালনা, জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ এবং মানোন্নয়নের ক্ষেত্রে পরিচালনা কমিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ক্ষমতাবান কর্তৃপক্ষ। তাই বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির সভাপতির জন্য স্নাতক ডিগ্রির বাধ্যবাধকতা শিথিল বা বাতিল করার বিষয়ে সম্প্রতি যে আলোচনা চলছে, তা শিক্ষা–সংশ্লিষ্ট মহলে নতুন করে ভাবনার জন্ম দিয়েছে।


বিষয়টি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে নয়; বরং শিক্ষাব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ ও মাঠপর্যায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। বর্তমান সময়ে শিক্ষাব্যবস্থা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি জটিল ও বহুমাত্রিক হয়ে উঠেছে। শিক্ষা এখন আর শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা, প্রযুক্তিনির্ভর পাঠদান, সৃজনশীলতা বিকাশ, গবেষণাভিত্তিক শিক্ষাচর্চা ও নৈতিক মূল্যবোধ গঠন। নতুন কারিকুলাম, নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতি এবং শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক বিকাশের মতো বিষয়গুলো বাস্তবায়নের জন্য শুধু নীতিনির্ধারণই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন মাঠপর্যায়ে সচেতন ও দক্ষ নেতৃত্ব।


সরকার বা শিক্ষা মন্ত্রণালয় নীতিনির্ধারণ করতে পারে, কিন্তু সেই নীতির কার্যকর বাস্তবায়ন অনেকাংশেই নির্ভর করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির ওপর। ফলে এই কমিটির নেতৃত্ব কতটা সৎ, শিক্ষিত, সচেতন ও দূরদর্শী, তা শিক্ষাব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। যদি পরিচালনা কমিটির নেতৃত্বে শিক্ষাগত যোগ্যতার মানদণ্ড শিথিল করা হয়, তবে কিছু বাস্তব সমস্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থাকে।


প্রথমত, শিক্ষাব্যবস্থার জটিলতা অনুধাবনে সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়। আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত কারিকুলাম, মূল্যায়ন পদ্ধতি, প্রযুক্তির ব্যবহার কিংবা দক্ষতা উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বোঝার জন্য একটি ন্যূনতম শিক্ষাগত ভিত্তি প্রয়োজন। সেই ভিত্তি দুর্বল হলে এসব বিষয় সঠিকভাবে উপলব্ধি করা কঠিন হয়ে পড়ে।


দ্বিতীয়ত, শিক্ষা সংস্কার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়। বর্তমানে শিক্ষা খাতে নানা ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এসব পরিবর্তনের সফল বাস্তবায়নের জন্য পরিচালনা কমিটির সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন। কিন্তু নেতৃত্ব যদি এসব বিষয়ে যথেষ্ট সচেতন না হয়, তবে পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করা বা তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে পড়ে।


তৃতীয়ত, সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অযৌক্তিকতা বা আবেগপ্রবণতা দেখা দেয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার অনেক সিদ্ধান্ত সূক্ষ্ম ও বিশ্লেষণনির্ভর। পর্যাপ্ত জ্ঞান ও বিশ্লেষণ ক্ষমতা না থাকলে অনেক সময় সিদ্ধান্তগুলো যুক্তির পরিবর্তে ব্যক্তিগত সম্পর্ক, স্থানীয় প্রভাব বা আবেগের ভিত্তিতে নেওয়া হয়।


চতুর্থত, প্রশাসনিক ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় অস্বচ্ছতার ঝুঁকি বাড়ে। পরিচালনা কমিটি প্রতিষ্ঠানের অর্থব্যবস্থা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম তদারকির দায়িত্ব পালন করে। এ ক্ষেত্রে অনেকেই স্বেচ্ছাসেবী না হয়ে স্বেচ্ছাচারী ও স্বার্থবাদী হয়ে ওঠে। তাঁরা লাভজনক মনে করেই কমিটিতে থাকার জন্য মরিয়া হন! সৎ, দক্ষ, সুশিক্ষিত ও সচেতন নেতৃত্ব না থাকলে এসব ক্ষেত্রে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির আশঙ্কা তৈরি হয়। এমন সুযোগ আছে বলেই কমিটির পদ নেওয়ার এত প্রতিযোগিতা।


বাংলাদেশের বাস্তবতায় অনেক সময় দেখা যায়, স্থানীয় প্রভাব বা রাজনৈতিক বিবেচনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির নেতৃত্ব নির্ধারিত হয়। তাঁরা অনেকেই প্রতিষ্ঠানের সম্পদ ও শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করে থাকেন। শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা না থাকলে এই প্রবণতা আরও বেড়ে যায় এবং শিক্ষার পরিবেশ চরমভাবে বিঘ্নিত হয়। এমন অভিজ্ঞতা অনেক শিক্ষক ও অভিভাবকের মধ্যেই রয়েছে।


মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, যখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটিতে অশিক্ষিত বা স্বল্পশিক্ষিত ব্যক্তিরা নেতৃত্বে থাকেন, তখন শিক্ষকসমাজ অনেক সময় অস্বস্তি বোধ করেন এবং নিজেদের পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা করেন।


অন্যদিকে পরিচালনা কমিটির নেতৃত্বে সৎ, শিক্ষিত ও সচেতন ব্যক্তিরা থাকলে সাধারণত একটি ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হয়। তাঁরা শিক্ষাব্যবস্থার লক্ষ্য ও গুরুত্ব সম্পর্কে অধিক সচেতন থাকেন এবং প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে পরিকল্পিত সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হন। দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ, প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, সহশিক্ষা কার্যক্রমের প্রসার এবং শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নে শিক্ষিত নেতৃত্ব কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।


একই সঙ্গে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাও তুলনামূলক সহজ হয়। আইন ও নীতিমালা সম্পর্কে সচেতন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনাকে অধিকতর সুশৃঙ্খল করতে পারে। ফলে শিক্ষকেরা পেশাগত মর্যাদা অনুভব করেন এবং শিক্ষার্থীরাও একটি স্বাস্থ্যকর শিক্ষা পরিবেশ পায়।


এখানে একটি বিষয় স্পষ্টভাবে বোঝা প্রয়োজন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়া এবং একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটিতে দায়িত্ব পাওয়া একই বিষয় নয়। প্রথমটি রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিষয়, দ্বিতীয়টি মূলত প্রশাসনিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক দায়িত্ব। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়ে একটি প্রজন্মের শিক্ষা ও ভবিষ্যতের ওপর। তাই এ ধরনের দায়িত্বে ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা যৌক্তিক ও প্রয়োজনীয়।


বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন কেবল নতুন কারিকুলাম প্রণয়ন বা অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন এমন নেতৃত্ব, যারা শিক্ষাব্যবস্থার লক্ষ্য ও গুরুত্ব গভীরভাবে উপলব্ধি করতে সক্ষম। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটি সেই নেতৃত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ।


তাই পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও সদস্যদের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার একটি গ্রহণযোগ্য মানদণ্ড বজায় রাখা কেবল প্রশাসনিক শর্ত নয়; এটি শিক্ষাব্যবস্থার গুণগত মান রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়। কারণ, একটি জাতির ভবিষ্যৎ গড়ে ওঠে তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, আর সেই প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব যদি দুর্বল হয়, তবে শক্ত ভিত্তির ওপর ভবিষ্যৎ নির্মাণ করা সম্ভব নয়। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও সদস্যদের সততা, ভদ্রতা, নিরপেক্ষতা, ন্যায়পরায়ণতা, দূরদর্শিতা এবং উচ্চতর শিক্ষাগত যোগ্যতা অত্যাবশ্যক।


* লেখক: মো. রহমত উল্লাহ্, সাবেক অধ্যক্ষ




শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটি: সৎ, শিক্ষিত, নিরপেক্ষ, শিক্ষানুরাগীদের অগ্রাধিকার দিন মো. রহমত উল্লাহ্ দৈনিক বাংলা, ১৬.০৩.২০২৬

 শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটি: 

সৎ, শিক্ষিত, নিরপেক্ষ, শিক্ষানুরাগীদের অগ্রাধিকার দিন 

মো. রহমত উল্লাহ্

দৈনিক বাংলা, ১৬.০৩.২০২৬

>বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। দেশের অধিকাংশ স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হয়। এসব প্রতিষ্ঠানের সার্বিক ব্যবস্থাপনা, নীতি বাস্তবায়ন, জবাবদিহিতা ও মানোন্নয়নের ক্ষেত্রে পরিচালনা কমিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে সভাপতি ও সদস্যদের সিদ্ধান্ত অনেক সময় একটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা-পরিবেশ, শৃঙ্খলা ও উন্নয়নের গতিপথ নির্ধারণ করে। তাই তাঁদের মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিষয় অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনায় নেওয়া উচিত।


শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও সদস্যরা অসৎ, কম শিক্ষিত, পক্ষপাতদুষ্ট ও অদূরদর্শী হলে সম্ভাব্য অসুবিধা-

১. শিক্ষাব্যবস্থার জটিলতা অনুধাবনে সীমাবদ্ধতা: আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা শুধু পাঠদান নয়; এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে কারিকুলাম উন্নয়ন, মূল্যায়ন পদ্ধতি, শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বিকাশ, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা এবং মানোন্নয়ন কার্যক্রম। পর্যাপ্ত শিক্ষাগত ভিত্তি না থাকলে এসব বিষয় গভীরভাবে অনুধাবন করা ও সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়।


২. নীতি ও সংস্কার বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা: বর্তমান সময়ে শিক্ষা খাতে নানা ধরনের পরিবর্তনের কথা বলা হচ্ছে, নতুন কারিকুলাম, দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা, প্রযুক্তির ব্যবহার, শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশ ইত্যাদি। এসব পরিবর্তন মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু নেতৃত্ব যদি শিক্ষাগতভাবে প্রস্তুত না থাকে, তবে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে অনীহা বা ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হবার সম্ভাবনা থাকে।


৩. অযৌক্তিক বা আবেগপ্রবণ সিদ্ধান্তের ঝুঁকি: শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা অনেক সময় সূক্ষ্ম ও জটিল সিদ্ধান্তের বিষয়। পর্যাপ্ত জ্ঞান, বিশ্লেষণ ক্ষমতা ও দূরদর্শিতা না থাকলে সিদ্ধান্তগুলো অনেক সময় ব্যক্তিগত সম্পর্ক, স্থানীয় প্রভাব বা আবেগের ভিত্তিতে নেওয়া হতে পারে -যা সুশিক্ষার জন্য সহায়ক নয়।


৪. প্রশাসন ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের আশঙ্কা: পরিচালনা কমিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক তদারকি। সৎ, সুশিক্ষিত ও দক্ষ নেতৃত্ব না থাকলে এসব ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতি, অস্বচ্ছতা, অনিয়মের বা দুর্নীতির ঝুঁকি অনেক বৃদ্ধি পায়। শিক্ষক-কর্মচারীরা ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। বর্তমানে অনেকেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বেচ্ছাসেবক হতে আসেন না; বরং বিভিন্ন স্বার্থ হাসিলের জন্য আসেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তারাই সভাপতি বা সদস্য হওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেন! তারা দলীয় হলে, শিক্ষা অনুরাগী না হলে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষাচর্চার চেয়ে রাজনৈতিক কর্মকান্ড বেশি হয়। 


৫. মানব সম্পদ উন্নয়নে অনাগ্রহ:

কম শিক্ষিত ও কম দূরদর্শী নেতৃত্ব অনেক সময় মানবসম্পদ উন্নয়নের চেয়ে সরাসরি অর্থসংশ্লিষ্ট বস্তুগত উন্নয়নে অধিক আগ্রহী থাকেন। তারা নতুন শিক্ষাপদ্ধতি, প্রযুক্তি বা দক্ষতা উন্নয়নমূলক উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করতে পারেন না। শিক্ষক প্রশিক্ষণের গুরুত্ব বুঝতে পারেন না। ফলে প্রতিষ্ঠান সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোতে পারে না।


৬. শিক্ষক সমাজের সঙ্গে কার্যকর সমন্বয়ের ঘাটতি: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মূলত জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্র। এখানে শিক্ষকরা পেশাগত দক্ষতা ও জ্ঞান দিয়ে প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নিয়ে যান। নেতৃত্ব যদি শিক্ষাগতভাবে দুর্বল হয়, নিরপেক্ষ না হয়, শিক্ষানুরাগী না হয়, তবে অনেক সময় শিক্ষক সমাজের সঙ্গে সমন্বয় ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ঘাটতি তৈরি হতে পারে। এলাকায় এমন লোক আছেন যারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতি ও সদস্য হলে প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও শিক্ষকগণ অসম্মানিত বা নিগৃহীত হবার সম্ভাবনায় আতঙ্কিত থাকেন।


৭. আধুনিক শিক্ষা ও প্রযুক্তি ব্যবহারে অনাগ্রহ: বর্তমান যুগে ডিজিটাল শিক্ষা, অনলাইন লার্নিং, গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা এবং দক্ষতা উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় নিয়োজিতরা বিজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ে অজ্ঞ থাকলে, অনাগ্রহী থাকলে, প্রতিষ্ঠান সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোতে ব্যর্থ হয়। শিক্ষার্থীরা আধুনিক শিক্ষা ও কাঙ্খিত যোগ্যতা অর্জন থেকে বঞ্চিত হয়। 


৮. প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনায় দুর্বলতা: একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে উন্নত করতে হলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন হয়। অত্যন্ত যোগ্য-দক্ষ নেতৃত্ব ব্যতীত অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষকদের উৎকর্ষতা বৃদ্ধি, সহশিক্ষা কার্যক্রম, শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন ইত্যাদি পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। 


শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটিতে সৎ, নিরপেক্ষ, দূরদর্শী, উচ্চশিক্ষিত সভাপতি ও সদস্য থাকলে সম্ভাব্য সুবিধা-

১. শিক্ষা ব্যবস্থার লক্ষ্য ও দর্শন সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা: উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তিরা সাধারণত শিক্ষা ব্যবস্থার উদ্দেশ্য, শিক্ষার মানোন্নয়ন ও মানবসম্পদ উন্নয়নের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন থাকেন। ফলে তারা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে যুক্তিসঙ্গত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। শিক্ষার্থীদের সঠিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে পারেন। 


২. শিক্ষাসংস্কার বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা: সরকার বা শিক্ষামন্ত্রণালয় যে নতুন নীতি ও পরিবর্তনের কথা বলছে, তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পরিচালনা কমিটির সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন। উচ্চশিক্ষিত, তথ্যসমৃদ্ধ, বিজ্ঞানমনস্ক, দূরদর্শী নেতৃত্ব এসব নীতির গুরুত্ব বুঝতে পারেন এবং বাস্তবায়নে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারেন।


৩. পরিকল্পিত ও দূরদর্শী নেতৃত্ব:

উচ্চশিক্ষিত যথাযোগ্য সভাপতি ও সদস্যরা সাধারণত তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ ও পরিকল্পনার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। কেননা, তারা জাতীয় শিক্ষানীতি ও আন্তর্জাতিক মান সম্পর্কে কম/বেশি জ্ঞান রাখেন। এতে প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন নিশ্চিত করা সহজ হয়।


৪. শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য ইতিবাচক পরিবেশ সৃষ্টি: যখন পরিচালনা কমিটির নেতৃত্বে শিক্ষিত, সচেতন, মননশীল, শিক্ষানুরাগী, গুণীমানুষ থাকেন, তখন শিক্ষকরা পেশাগতভাবে সম্মানিত বোধ করেন। কেননা, তারা সঠিক মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষকদের পুরস্কার ও তিরস্কার প্রদান করে ভালোদের উৎসাহিত করতে পারেন। ফলে শিক্ষার্থীদের জন্য কাঙ্খিত অনুকূল শিক্ষাপরিবেশ তৈরি হয়।


৫. প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি: উচ্চশিক্ষিত দায়িত্বশীল নেতৃত্ব সাধারণত আইন, নীতি ও প্রশাসনিক কাঠামো সম্পর্কে সচেতন থাকে। নিজের এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের দায়িত্ব, কর্তব্য ও অধিকার সম্পর্কে অবহিত থাকেন। ফলে ইচ্ছে করলে তারা আর্থিক ব্যবস্থাপনায় এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহিতা বজায় রাখতে পারেন। 


৬. আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার প্রসার: ডিজিটাল শিক্ষা, স্মার্ট ক্লাসরুম, দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে শিক্ষিত নেতৃত্ব সাধারণত অধিক আগ্রহী থাকে। এতে প্রতিষ্ঠান আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে সংযুক্ত হয় এবং আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত হবার দিকে এগিয়ে যায়।


৭. সমাজে শিক্ষার মর্যাদা বৃদ্ধি:

যখন একটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটিতে সুশিক্ষিত, সম্মানিত ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিরা থাকেন, তখন সমাজেও শিক্ষার মর্যাদা বৃদ্ধি পায় এবং অভিভাবকদের আস্থা তৈরি হয়। প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও শিক্ষকগণ অধিক সম্মানিত বোধ করেন। শিক্ষার্থীরা অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব খুঁজে পায় এবং তাদের জীবনের লক্ষ্য ঊর্ধ্বমুখী হয়।


৮. স্থানীয় উন্নয়ন ও জাতীয় লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা: শিক্ষিত ও সচেতন নেতৃত্ব স্থানীয় সমাজের উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের মানবিক মূল্যবোধ গঠন এবং জাতীয় উন্নয়ন লক্ষ্যের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমকে সমন্বিত করতে পারে। ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামাজিক দায়িত্ব অধিক পূর্ণতা পায়।


বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন কেবল পাঠ্যক্রম পরিবর্তন বা অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে সম্ভব নয়; এর জন্য প্রয়োজন সৎ, যোগ্য, দক্ষ, সচেতন, দূরদর্শী, দায়িত্বশীল শিক্ষানুরাগী নেতৃত্ব -যাদের অবশ্যই থাকতে হবে যৌক্তিক শিক্ষাগত যোগ্যতা। মাঠপর্যায়ে সেই নেতৃত্বে নিয়োজিত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীল ও ক্ষমতাবান অংশ হচ্ছে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটি। তাই সে কমিটির সভাপতি ও সদস্যদের শিক্ষা, সততা, দক্ষতা, নিরপেক্ষতা, দূরদর্শিতা ও আন্তরিকতা নিশ্চিত করা মানেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মান, জবাবদিহিতা ও সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা -যা শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষা নিশ্চিত করার পূর্বশর্ত।<


লেখক: সাবেক অধ্যক্ষ, শিশুসাহিত্যিক ও শিক্ষাবিষয়ক লেখক





শিক্ষা ক্ষেত্রে ছেলেদের পিছিয়ে পড়ার কারণ ও প্রতিকার


পত্রিকার লিংক     পত্রিকার লিংক

শিক্ষাক্ষেত্রে ছেলেদের পিছিয়ে পড়ার কারণ ও প্রতিকার 

মো. রহমত উল্লাহ্

প্রকাশিত: জাগো নিউজ২৪.কম, ২৮ জুলাই ২০২৫ এবং

দৈনিক বাংলা, ৯ আগস্ট ২০২৫ 

>বিগত বেশ কয়েক বছর যাবত বিশেষভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, শিক্ষাক্ষেত্রে মেয়েদের তুলনায় ছেলেরা অনেক পিছিয়ে পড়েছে! ভর্তিতে, লেখাপড়ায়, পরীক্ষায় অংশগ্রহণে, পাশের হারে ও ফলাফল অর্জনে সব দিক থেকেই ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে। কমেছে মেয়েদের ড্রপ আউটের পরিমাণ। শিক্ষার প্রতিটি স্তরে অর্থাৎ প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও এমনটি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। উচ্চশিক্ষায় মেয়েদের অংশগ্রহণ ছেলেদের তুলনায় কম হলেও ভালো ফলাফলে অর্জনে মেয়েরাই উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে। মেয়েদের এগিয়ে যাওয়া যেমন আনন্দের, ছেলেদের পিছিয়ে পড়া তেমনি উদ্বেগের! 


আমাদের উচিত ছেলেদের ক্রমাগত পিছিয়ে পড়ার সকল কারণ পুঙ্খানুপুঙ্খ চিহ্নিত করে ব্যাপক পর্যালোচনা করে বাস্তব অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে সমাধানের পথ উদঘাটন করা ও দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা। বাস্তবে শিক্ষাক্ষেত্রে আমাদের দেশে মেয়েদের তুলনায় ছেলেদের পিছিয়ে পড়ার অনেক ছোট-বড় কারণ বিদ্যমান। এ স্বল্প পরিসরে সবকিছু তুলে ধরে বিস্তারিত আলোচনা করা সম্ভব নয়। তাই বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি অতি গুরুত্বপূর্ণ কারণ বা বাস্তবতা তুলে ধরে এর সমাধানে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। 


একটু পিছনে তাকালেই দেখা যাবে ছেলেদের তুলনায় অনেক পিছিয়ে ছিল আমাদের মেয়েরা। মেয়েদের এগিয়ে আনার জন্য আমরা গ্রহণ করেছি বিভিন্ন পদক্ষেপ। অর্জন করেছি ব্যাপক সফলতা। যেতে হবে আরো অনেক দূর। শিক্ষাক্ষেত্রে মেয়েরা এখন ছেলেদের তুলনায় সংখ্যায় ও ফলাফলে অনেক এগিয়ে। আমরা মেয়েদের উৎসাহ উদ্দীপনা দেয়া, উপবৃত্তি দেয়া, অভিভাবকদের সচেতন করা, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ করা, শিশুশ্রম রোধ করা ইত্যাদি কার্যক্রম চলমান রেখেছি। ১৯৯৪ সালে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্রীদের উপবৃত্তি প্রদান শুরু করা হয়। ২০০২ সালে তা উন্নীত করা হয় উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে। আমাদের কন্যা শিশুরা এই কার্যক্রম গুলোর অধিক সুফল অর্জন করেছে তাই তাদেরকে ধন্যবাদ। অথচ প্রায় ১৫ বছর পরে ২০০৯ সালে এসে দরিদ্র পরিবারের ছেলে শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির আওতায় আনা হয়েছে! রাষ্ট্রীয়ভাবে মেয়েদের প্রতি তুলনামূলক বেশি গুরুত্ব দিতে গিয়ে ছেলেদেরকে অবহেলা করা হয়েছে কিনা তা কিন্তু আমরা ভেবে দেখিনি! 


কন্যা শিশুদের এখন আর সেই আগের মত বাসা-বাড়িতে থেকে কাজ করতে দেখা যায় না। প্রায় সবাই উপবৃত্তির টাকা ঠিক রাখার জন্য নিয়মিত স্কুলে যায়। এটি অবশ্যই একটি শুভ লক্ষণ। এর জন্যই তো আমরা অপেক্ষায় ছিলাম। আমরা চেয়েছিলাম শিশুশ্রম থেকে বেরিয়ে আসুক পুত্র-কন্যা নির্বিশেষে সকল শিশু। কিন্তু এখনো আমরা দেখতে পাচ্ছি পুত্র শিশুরা টেম্পুতে, গ্যারেজে, কারখানায়, নৌকায়, মাছ ধরায়, ইটভাটায়, হাটবাজারে, দোকানপাটে, মাঠে-ঘাটে, ক্ষেত-খামারে, টি-স্টলে হোটেল-রেস্টুরেন্টে ইত্যাদি অগণিত ক্ষেত্রে কায়িক শ্রম দিয়ে সামান্য উপার্জন করে নিজে জীবন ধারণ করছে ও পরিবারকে সহায়তা করছে। এমন অনেক শিশুর সঙ্গে আমি কথা বলে জেনেছি, তারা লেখাপড়া করতে চায়, কিন্তু সুযোগ পাচ্ছে না! নানান ধরনের অমানবিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে! দারিদ্র্যের কষাঘাতে নিষ্পেষিত এমন পুত্রশিশুরা স্কুলে ভর্তি হয় না। কেউ কেউ মাদ্রাসায় ভর্তি হয়। আবার অনেকেই স্কুলে/ মাদ্রাসায় ভর্তি হয়ে দুএক বছর পরেই ঝরে পড়ে।   


অপরদিকে মেয়ে শিশুদের তুলনায় অধিক সংখ্যক ছেলেশিশু বাইরে বেশি সময় কাটায়, নেশাগ্রস্থ হয়ে থাকে, মাদকদ্রব্য কেনাবেচা করে, বেপরোয়া মোটরবাইক হাঁকায়, কিশোর গ্যাংএ জড়িত থাকে, চাঁদাবাজি করে, রাজনৈতিক নেতাদের পিছনে সময় ব্যয় করে, ঝগড়া বিবাদে জড়িত থাকে, নিয়ন্ত্রণহীন আচরণ করে, সারাক্ষণ গেইম চালায়, সারাদিন খেলাধুলা করে, আনন্দ আয়োজন করে, ফার্মের মুরগি চুরি করে, কৃষকের ফল-ফসল চুরি করে, দলে দলে ঘুরে বেড়ায় ইত্যাদি অনেক কিছুতেই অধিক হারে ছেলেরা জড়িয়ে পড়ায় অনেক বেশি পিছিয়ে পড়ছে। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও এমন অশুভ চিত্র দেখা যায়। মেয়েদের তুলনায় ছেলেরা বেশি মাত্রায় বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত বিধায়, শিক্ষক ও অভিভাবকের সঙ্গে বেশি বেয়াদবি করে বিধায় ছেলেদের নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ায় আমরা হাল ছেড়ে দিচ্ছি কিনা তা ভাবতে হবে বিশেষভাবে। তা না হলে আরো বেশি সংখ্যক ছেলেরা কর্মের অনুপযোগী হয়ে বেকারত্বে নিমজ্জিত হয়ে পরিবারে, সমাজে ও রাষ্ট্রে বিশৃঙ্খলা বাড়িয়ে তুলবে বহুগুণ! আমরা যদি অসহায়ের মত বা দায়িত্বহীনের মত বসে থাকি তাহলে আর রক্ষা পাবো না কেউ।


এমন এক সময় ছিল যখন এলাকার সকল ছেলেদের শাসন-বারণ করার অধিকার ছিল সকল বড়দের। স্বার্থহীন আদর-স্নেহ দিয়ে অর্জন করে সেই অধিকার প্রয়োগ করতো বড়রা; আর নির্দ্বিধায় তা মেনে নিত ছোটরা। একজনের সন্তানের কল্যান চিন্তায় সক্রিয় থাকত শতজন অভিভাবক। বড়দের নেতৃত্বে ছোটরা করতো খেলাধুলা, শিক্ষামূলক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কাজ। আমি নিজেও কর্মী হয়ে অংশ নিয়েছি এবং পরে নেতৃত্ব দিয়েছি এমন অনেক কাজে। আমাদের প্রিয় শিক্ষকগণও অংশ নিতেন আমাদের সাথে। তখন শিশুরা বেড়ে উঠত অন্যের কল্যাণে নিজেকে নিবেদিত করার মানসিকতা নিয়ে। কেউ বিপথে গেলে সবাই মিলে তাকে আনা হতো সুপথে। তেমন মানসিকতা নিয়ে আবার এগিয়ে আসতে হবে সবার। 


উল্লিখিত কারণগুলোর পাশাপাশি খুঁজে দেখতে হবে ছেলেদের ড্রপ আউট হবার ও পিছিয়ে পড়ার অন্যান্য কারণ। তবে মনে রাখতে হবে, এখন পাল্টে গেছে পরিবেশ ও পরিস্থিতি। সেই সাথে পাল্টে গেছে ডিজিটাল যুগের ছেলেমেয়েদের নিয়ন্ত্রণ কৌশল। তাই অভিভাবক ও শিক্ষকদের অবশ্যই শিখতে হবে স্মার্ট পেরেন্টিং, ইফেক্টিভ টিচিং। সবার আগে সক্রিয় হতে হবে শিক্ষক ও অভিভাবকদের। পর্যাপ্ত সাপোর্ট দিয়ে তৈরি করতে হবে আরো যোগ্য-দক্ষ সফল শিক্ষক। ছেলেমেয়েদের লালন-পালন তথা শিক্ষাদানে ঘরে-বাইরে থাকতে হবে আরো অনেক বেশি সতর্ক ও সক্রিয়। অভিভাবক, শিক্ষক, প্রশাসক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ মিলে প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে কার্যকর পরিকল্পনা। থাকতে হবে সরকারের সদিচ্ছা। মেয়ে বা ছেলে কাউকে দমিয়ে রেখে নয়, উভয়কে এগিয়ে এনে অর্জন করতে হবে সমতা। উভয়কেই এগিয়ে নিতে হবে সমান তালে। রাখতে হবে সঠিক পথে।


লেখক: অধ্যক্ষ, শিক্ষাবিদ ও শিশুসাহিত্যিক

Email - rahamot21@gmail.com 




পত্রিকার লিংক: 

https://www.jagonews24.com/opinion/article/1039672 



https://epaper.dainikbangla.com.bd/home/display

page/news_2025-08-09_5_15_b 

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট তৈরি ও হালনাগাদকরণ: দশ বছরে সম্ভব হয়নি, ১০ মাসেই সম্ভব।

 

পত্রিকার লিংক

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট তৈরি ও হালনাগাদকরণ:  

১০ বছরেও সম্ভব হয়নি, ১০ মাসেই সম্ভব

মো. রহমত উল্লাহ্ 

আবারও “সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ওয়েবসাইট তৈরি ও হালনাগাদের নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। গত ১৪ জুলাই ২০২৫ তারিখে জারিকৃত পত্রে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানগুলোর ওয়েবসাইটে প্রতিষ্ঠান পরিচিতি, প্রতিষ্ঠানের পাঠদানের অনুমতি ও স্বীকৃতি, শ্রেণি ও লিঙ্গভিত্তিক শিক্ষার্থীর তথ্য, শ্রেণিভিত্তিক অনুমোদিত শাখার তথ্য, পাঠদান সংক্রান্ত তথ্য (শিক্ষক, শিক্ষিকার নামসহ পূর্ণাঙ্গ রুটিন, পাঠ্যসূচি, বিবিধ নোটিশ ইত্যাদি), এমপিও, প্রতিষ্ঠানের ফোন/মোবাইল নম্বরসহ যোগাযোগের ঠিকানা, তথ্যসেবা কেন্দ্রের ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর, অভিযোগ নিষ্পত্তি কর্মকর্তার ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর, প্রতিষ্ঠান প্রধানসহ সব শিক্ষক-কর্মচারীর তথ্য, ব্যবস্থাপনা কমিটির তথ্য হালনাগাদ রাখতে হবে।”

বিষয়টি অবশ্যই অনেক গুরুত্বপূর্ণ! কেননা, কোন প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট ওই প্রতিষ্ঠানকে ভার্চুয়ালি উপস্থাপন করে। আর সে উপস্থাপনটি হয় অত্যন্ত ব্যাপক পরিসরে, গোটা পৃথিবীজুড়ে। তাই মাউশি নির্ধারিত সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ডায়নামিক ওয়েবসাইট থাকা এবং সেখানে মাউশি নির্দেশিত বিষয়গুলোসহ প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য তথ্যাদি ও কৃতিত্ব উপস্থাপিত থাকা অত্যাবশ্যক। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হচ্ছে, অনুরূপ আদেশ বারবার দেওয়ার পরেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এসব আদেশ পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করছে না অথবা বাস্তবায়ন করতে পারছে না! 

একটু পিছনে তাকালে দেখা যায় যে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে অনুরূপ আদেশ সম্বলিত প্রথম পরিপত্রটি জারি করা হয়েছিল ০২ মে ২০১৫ তারিখে। যেটির বিষয় ছিল 'সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ডায়নামিক ওয়েবসাইট তৈরি ও হালনাগাদকরণ।' এরপরে শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে গত ২৪ এপ্রিল ২০১৯ তারিখে এবং গত ১৯ আগস্ট ২০২৩ তারিখে এ সংক্রান্ত আরও দুটি আদেশ জারি করা হয়েছিল। অর্থাৎ সেই ২০১৫ সাল থেকে গত ১০ বছর ধরে বারবার আদেশ/ পুনরাদেশ দেওয়া হলেও বাংলাদেশের সকল স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এখনো ডায়নামিক ওয়েবসাইট তৈরি করানো এবং সকল তথ্য সংযুক্ত করে হালনাগাদ রাখানো সম্ভব হয়নি! 

মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতা হচ্ছে, যখনই ডায়নামিক ওয়েবসাইট তৈরির আদেশ দেওয়া হচ্ছে তখনই অনেক ভুঁইফুর ও নামসর্বস্ব সফটওয়্যার/ আইটি প্রতিষ্ঠান স্বল্পমূল্যে ওয়েবসাইট তৈরি ও পরিচালনা করবে বলে চটকদার বিজ্ঞাপন দিচ্ছে, মোবাইল ফোনে এসএমএস দিচ্ছে, লোকজন ধরাধরি করছে, প্রতিষ্ঠানে এসে ধরনা দিচ্ছে। কোন কৌশলে চুক্তিবদ্ধ হয়ে যেনতেন কাজ করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এসকল সফটওয়্যার কোম্পানির বৈধতা কোন অথরিটির কেমন সনদ দেখে নিশ্চিত হতে হবে তা জানা নেই অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানের। অবশ্য শিক্ষামন্ত্রণালয় থেকে বৈধ সফটওয়্যার/ আইটি প্রতিষ্ঠানগুলোর কোন তালিকা দেওয়া হলে তারাও আবার সিন্ডিকেট করে অতিরিক্ত চার্জ ধার্য করার কৌশল নিতে পারে। অপরদিকে নামিদামি সফটওয়্যার/ আইটি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের এককালীন ও মাসিক চার্জ অস্বাভাবিক বৃদ্ধি করছে। তাদের সফটওয়ারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সকল ডাটা আপলোড করা হলে প্রতি বৎসর চার্জ বাড়ানোর কৌশল করছে। ফলে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই নিজস্ব ডাইনামিক ওয়েবসাইট তৈরি করতে ও পরিচালনা করতে ব্যর্থ হচ্ছে। বিশেষ করে অসচ্ছল ও কম সচ্ছল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রকৃত ডায়নামিক ওয়েবসাইট প্রস্তুত করার এককালীন ব্যয় এবং রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহ করতে ব্যর্থ হচ্ছে। সারা দেশে এমন অনেক স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা আছে যেখানে শিক্ষার্থীরা মাসিক বেতনই ঠিকমত দেয় না এবং শিক্ষকগণ তাদের প্রতিষ্ঠান অংশ থেকে তেমন কিছুই পান না! 

আরেকটি বাস্তবতা হচ্ছে, ওয়েবসাইট নিয়মিত হালনাগাদ করা ও সমস্যা হলে সমাধান করার মত দক্ষ জনবল অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানেই নেই। আউটসোর্সিং করতে গেলে যে বাড়তি টাকার প্রয়োজন সেটিও অনেক প্রতিষ্ঠানে নেই। দুঃখজনক হলেও সত্য যে অধিকাংশ আইসিটি টিচার ও কম্পিউটার অপারেটর প্রাক্টিক্যাল/ ডিজিটাল কাজে অত্যন্ত দুর্বল। সাধারণ শিক্ষকদের কথা আর কী বলব! প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত কম্পিউটার অপারেটরকে ওয়েবসাইট আপডেট রাখার বিষয়ে গাইড করার মত যোগ্যতা, আগ্রহ ও দায়িত্ব বেশিরভাগ আইসিটি টিচারের নেই! অথচ প্রতিষ্ঠানের বৃহত্তর স্বার্থে সকল শিক্ষককেই শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি সহ-শিক্ষা কার্যক্রম ও অন্যান্য কার্যক্রম সম্পাদন করতে হয়। 

আলোচিত বিভিন্ন বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে শুধুমাত্র শহরের কতিপয় অতি সচ্ছল ও শিক্ষিত অভিভাবকদের সন্তান যে সকল প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করে সে সকল প্রতিষ্ঠানের দিকে তাকিয়ে সবকিছু চিন্তা করলে হবে না, প্রত্যন্ত গ্রাম এলাকায় অবস্থিত অসচ্ছল ও অশিক্ষিত বা স্বল্পশিক্ষিত পরিবারের সন্তানরা যে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করে সেগুলোর দিকেও তাকাতে হবে। শিক্ষাক্ষেত্রে সমানতালে এগিয়ে নিতে হবে সবাইকে। এমতাবস্থায় শিক্ষামন্ত্রণালয় বা এর অধীনস্থ কোনো প্রতিষ্ঠান যদি একটি শক্তিশালী ডায়নামিক ওয়েবসাইট ও সফটওয়্যার প্রস্তুত করে প্রয়োজনীয় ম্যানু, সাব-ম্যানু যুক্ত করে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সেটির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করে দেয় তাহলে এই সমস্যার সহজ সমাধান হবে বলে আমি মনে করি। সে ওয়েবসাইট প্রস্তুত, কাস্টমাইজ ও রক্ষণাবেক্ষণ করার জন্য প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহ থেকে নামমাত্র বার্ষিক ফি নেওয়া যেতে পারে। এ ফি ছোট-বড় প্রতিষ্ঠানের ব্যবহৃত ডাটা/স্পেস অনুসারে কম-বেশি হতে পারে। তাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমান বিড়ম্বনা, অতিরিক্ত ব্যয় ও আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি থেকে মুক্তি পাবে। তদুপরি দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় তথ্য শিক্ষামন্ত্রণালয়ের ও এর অধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর চাহিদা মত ফরমেট অনুসারে একটি প্লাটফর্মে রেডি পাওয়া যাবে। কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সেই ওয়েবসাইট ও সফটওয়্যার ব্যবহার না করার এবং নিয়মিত আপডেট না করার কোন অজুহাত দেখাতে পারবে না। তবে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যদি শিক্ষামন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত ওয়েবসাইট ও সফটওয়্যারের ব্যবহার শতভাগ নিশ্চিত করে এর পাশাপাশি নিজস্ব অর্থায়নে অন্যকোন ওয়েবসাইট/ সফটওয়্যার প্রস্তুত ও পরিচালনা করতে চায় তাহলে সে সুযোগ দিতে হবে। অপরদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের স্বতন্ত্র ওয়েবসাইট ব্যবহারের সুযোগ থাকতে হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় যেহেতু বর্তমানে প্রায় সকল শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রম অনলাইনে চালাতে সক্ষম সেহেতু সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যবহার উপযোগী একটি ডায়নামিক ওয়েবসাইট ও প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার প্রস্তুত এবং রক্ষণাবেক্ষণ করতে অবশ্যই সক্ষম হবে বলে আমি মনে করি। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনে তারা বুয়েট বা অন্য কোন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতা নিতে পারে। ঢাকা শিক্ষাবোর্ড বেশ কিছুদিন আগেই প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের ইআইআইএন নম্বরযুক্ত আইডি দিয়ে একটি কমন ওয়েবসাইট প্রস্তুত করে দিয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ব্যবহার করতে পারে। কিন্তু সেটিতে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তাদের তথ্য আপলোড করেনি। এমনকি অনেকে জানেনও না যে, তাদের প্রতিষ্ঠানের জন্য সম্পূর্ণ ফ্রি ব্যবহার উপযোগী একটি ওয়েবসাইট তৈরি করা আছে। বাস্তবে সেটির ব্যবহার বাধ্যতামূলক না করায়, সেটিতে প্রতিষ্ঠানের তথ্যাদি আপলোড করার জন্য তেমন তাগাদা না দেওয়ায়, সেটিকে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করে কাঙ্খিত মানে উন্নীত না করায় এবং অপরদিকে পৃথক ডায়নামিক ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বারবার আদেশ ও পুনরাদেশ দেওয়ায় কোনোটিই সঠিকভাবে হয়নি বলে ধারণা করা যাচ্ছে। 

শিক্ষার্থীদের ভর্তি, রেজিস্ট্রেশন, ট্রান্সফার, ফরম পূরণ, পরীক্ষা গ্রহণ, উত্তরপত্র মূল্যায়ন, ফলাফল প্রদান, সনদ প্রদান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি প্রদান, স্বীকৃতি নবায়ন, স্বীকৃতি বাতিলকরণ, কমিটি গঠন, কমিটির অনুমোদন প্রদান, কমিটি বাতিলকরণ, শিক্ষক-কর্মচারীদের শাস্তি নিশ্চিতকরণ বা অব্যাহতি প্রদান ইত্যাদি বিভিন্ন কাজ যেহেতু শিক্ষাবোর্ডের নিয়ন্ত্রণে অর্থাৎ শিক্ষা বোর্ড যেহেতু শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত সর্বাধিক তথ্যের ব্যবহারকারী সেহেতু শিক্ষাবোর্ডকেই একটি কমন ডায়নামিক ওয়েবসাইট ও সফটওয়্যার তৈরি এবং আপডেট ও রক্ষণাবেক্ষণ করার দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। এর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যয় তারা প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি প্রদান ও নবায়ন ফি বাবদ আদায়কৃত অর্থের অংশবিশেষ দিয়ে নির্বাহ করতে পারে। অপরদিকে প্রাথমিক শিক্ষাঅধিদপ্তরের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অধিদপ্তর তাদের বাস্তবতার আলোকে পৃথক ওয়েবসাইট ও সফটওয়্যার তৈরি এবং মেন্টেন করতে পারে। মনে রাখতে হবে, দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবস্থা ও অবস্থান যেহেতু একই রকম নয় সেহেতু মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতা বিবেচনা করে কেন্দ্রীয়ভাবে সমন্বিত সকলের জন্য অনুকূল কোন উদ্যোগ ব্যতীত সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডায়নামিক ওয়েবসাইট ও সফটওয়্যারের ব্যবহার সমভাবে নিশ্চিত করে অত্যাধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা সচল রাখা প্রায় অসম্ভব।

লেখক: অধ্যক্ষ, প্রাবন্ধিক ও কলামিস্ট 

১৭.৭.২০২৫

https://www.jagone

ws24.com/opinion/article/1037587 

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২০২৫ এর ফলাফল প্রসঙ্গ

দৈনিক বাংলার লিঙ্ক 

জাগো নিউজের লিঙ্ক



এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২০২৫ এর ফলাফল প্রসঙ্গ

মো. রহমত উল্লাহ্

দৈনিক বাংলা, ১৬ জুলাই ২০২৫

>এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২০২৫ এর ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে গত ১০ জুলাই ২০২৫ তারিখে। এতে দেখা যায় যে, ১১ শিক্ষা বোর্ড থেকে মোট ১৯ লাখ ২৮ হাজার ৯৭০ জন অংশগ্রহণ করে মোট পাস করেছেন ১৩ লাখ ৩ হাজার ৪২৬ জন শিক্ষার্থী। গড় পাসের হার ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন। গত বছর পাসের হার ছিল ৮৩ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ। আর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ লাখ ৮২ হাজার ১২৯ জন। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় এ বছর পাসের হার কমেছে ১৪.৯৫ শতাংশ জিপিএ-৫ কমেছে ৪৩ হাজার ৯৭ জন। গত ১৫ বছরে এবারই পাশের হার সর্বনিম্ন এবং জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও সর্বনিম্ন।   


টানা প্রায় ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকাকালে পরীক্ষার ফলাফল ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে প্রকাশের অভিযোগ ছিল আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার সেই পথে হাঁটেনি বলে মনে করছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা। মাননীয় শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সিআর আবরার পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের আগেই বলেছিলেন, এবারের এসএসসি পরীক্ষার রেজাল্টে শিক্ষার্থীদের মেধার প্রকৃত মূল্যায়ন করা হচ্ছে। অর্থাৎ তারা যেভাবে পরীক্ষা দিয়েছে, প্রকৃত মূল্যায়নে সেই ফলাফল তাদের হাতে পৌঁছানো হবে। ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে অতীতের মতো রেজাল্ট আর দেওয়া হবে না। এমন একটি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য শিক্ষা উপদেষ্টা মহোদয়কে ধন্যবাদ। শিক্ষার্থীদের শিক্ষামূল্যায়নে শতভাগ শততা, স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষার আগ্রহ বৃদ্ধি পায়। সততা, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা অর্জিত হয়। আত্মবিশ্বাসী হয়ে নিজের যোগ্যতায় এগিয়ে যেতে শিখে। যোগ্যাধিকারে বিশ্বাসী হয়। বিপরীত ক্রমে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় বা মূল্যায়নে শিথিলতা প্রদর্শন করলে, গ্রেস নম্বর প্রদান করলে, অটো প্রমোশন দেওয়া হলে তারা লেখাপড়ায় গুরুত্ব কমিয়ে দেয়। অন্যের দয়ার উপর নির্ভরশীল হয়। নৈতিকতা বিবর্জিত হয়। অসদুপায় অবলম্বনে মরিয়া হয়। অযোগ্যতা দিয়ে পরীক্ষায় পাশ করা, চাকরিতে প্রবেশ করা, বাড়তি সুবিধা ভোগ করা ইত্যাদিকে অধিকার মনে করে অন্যের উপর চড়াও হয়। তাই শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় বা মূল্যায়নে কোনরূপ শিথিলতা প্রদর্শনের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসা অত্যন্ত জরুরি।


বর্তমান শিক্ষা প্রশাসন এই জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার কারণে অর্থাৎ খাতা মূল্যায়নে সহানুভূতি দেখিয়ে অতিরিক্ত নম্বর প্রদান ও অপ্রাসঙ্গিক উত্তরে অহেতুক নম্বর প্রদান না করার কারণে ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ফলাফল বিপর্যয় হয়েছে বলে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। বিগত বছরের তুলনায় ফলাফল খারাপ হবার অবশ্যই এটি যৌক্তিক কারণ। তবে এটি একমাত্র বা সবচেয়ে বড় কারণ নয়। লক্ষনীয় যে, বিদেশে অবস্থিত শিক্ষার্থীদের ফলাফল দেশে অবস্থিত শিক্ষার্থীদের তুলনায় ভালো হয়েছে। বিভিন্ন দেশে অবস্থিত এসএসসি পরীক্ষার ৮টি কেন্দ্র থেকে ৪২৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ৩৭৩ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। সেগুলোতে পাশের শতকরা হার ৮৭.৩৫ জন। তাদের উত্তরপত্র মূল্যায়ন করার ক্ষেত্রেও কিন্তু সহানুভূতি নম্বর প্রদান করা হয়নি, অপ্রাসঙ্গিক উত্তরে নম্বর প্রদান করা হয়নি। সুতরাং ফলাফল বিপর্যয়ের এ দুটি কারণের সাথে অবশ্যই আরও অনেক কারণ বিদ্যমান। যেগুলো গুরুত্ব সহকারে বিবেচনায় আনা প্রয়োজন। যেমন: করোনা কালে শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া থেকে দূরে সরে যাওয়া, শিখন ঘাটতি নিয়ে বারবার উপরের ক্লাসে উঠে যাওয়া, ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে সর্বাধিক পিছিয়ে পড়া, ক্লাসে উপস্থিতি কমে যাওয়া, ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক দুর্বল হওয়া, অনেক শিক্ষার্থী অবাধ্য হওয়া, শিখন ঘাটতি পূরণে শিক্ষকগণ ব্যর্থ হওয়া, নির্বাচনী পরীক্ষায় শিথিলতা দেখিয়ে প্রায় সবাইকেই এসএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণের সুযোগ দেওয়া ইত্যাদি। এ সকল কারণ খতিয়ে দেখে পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া আবশ্যক। 


আরেকটি বিষয় লক্ষণীয় যে, এবার মোট ১৯ লাখ ২৮ হাজার ৯৭০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মোট ৯ লাখ ৬৭ হাজার ৭৩৯ জন মেয়ে এবং ৯ লাখ ৬১ হাজার ২৩১ জন ছেলে। মেয়েদের পাশের হার ৭১.০৩ শতাংশ এবং ছেলেদের পাশের হার ৬৫.৮৮ শতাংশ। ছেলেদের চেয়ে ৮ হাজার ২০০ জন বেশি মেয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে। বিগত বৎসরগুলোতেও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ, পাশের হার, জিপিএ-৫ ইত্যাদি ক্ষেত্রে মেয়েদের তুলনায় ছেলেরা অনেক পিছিয়ে। মেয়েদের এগিয়ে আসা অবশ্যই সুসংবাদ। এ জন্য আমরা দীর্ঘদিন ধরেই চেষ্টা করে আসছি। উৎসাহ উদ্দীপনা দেয়া, উপবৃত্তি দেয়া, অভিভাবকদের সচেতন করা, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ করা, শিশুশ্রম রোধ করা ইত্যাদি কার্যক্রম চলমান রেখেছি। আমাদের কন্যা শিশুরা এই কার্যক্রম গুলোর অধিক সুফল অর্জন করেছে তাই তাদেরকে ধন্যবাদ। অবশ্যই অব্যাহত রাখতে হবে মেয়েদের এই অগ্রযাত্রা। সেইসাথে বৃদ্ধি করতে হবে ছেলেদের সঠিক পথে এগিয়ে চলার গতি। মেয়েদের তুলনায় ছেলেরা অধিক হারে শিশুশ্রমে জড়াতে বাধ্য হওয়া এবং শিক্ষক ও অভিভাবকদের অবাধ্য হওয়াসহ আরো অনেক কারণ বিদ্যমান পিছিয়ে পড়ার পিছনে। মেয়েরা যখন লেখাপড়া করে, ছেলেরা তখন বাইরে আড্ডা মারে। মেয়েরা যখন স্কুলে ও কোচিংয়ে যায়, ছেলেরা তখন বিকট শব্দে মোটরসাইকেল চালায়। মেয়েরা যখন ঘুম যায়, ছেলেরা তখন নেশা খায়। সব ছেলেরা এসব করে না। যারা এসব করে তারা বেশিরভাগই ড্রপ আউট হয়, পরীক্ষায় ফেল করে।  বাস্তব অবস্থা পর্যালোচনা করে চিহ্নিত করতে হবে সব রকম সমস্যা। এখনই নিতে হবে সমাধানের কার্যকর পদক্ষেপ। তা না হলে কিছুকাল পরেই উল্টোভাবে ভারসাম্যহীন হয়ে পড়বে আমাদের সমাজ। তৈরি হবে আরো অনেক রকম ভয়াবহ সমস্যা! 


গতবারে তুলনায় এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা প্রায় ১ লাখ কম। শুধু তাই নয়, গত পাঁচ বৎসরে সবচেয়ে কম পরীক্ষার্থী ছিল এবার। ২০২৪ সালে ছিল ২০ লাখ ২৪ হাজার ১৯২ জন। ২০২৩ সালে ছিল ২০ লাখ ৭২ হাজার ১৬৩ জন, ২০২২ সালে ছিল ১৯ লাখ ৯৪ হাজার ১৩৭ জন এবং ২০২১ সালে ছিল ২২ লাখ ৪০ হাজার ৩৯৫ জন। যে সকল সমস্যার কারণে প্রায় এক লাখ শিক্ষার্থী এবার ড্রপ আউট হয়েছে অর্থাৎ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেনি সে সকল সমস্যার প্রভাব যে অংশগ্রহণকারীদের উপর কম/বেশি ছিল না তা কিন্তু নয়! এখানেও বিদ্যমান অনেক শিক্ষার্থীর ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ। এমন আরো অনেক কারণ চিহ্নিত করতে হবে আমাদের। আমরা যদি ফলাফল বিপর্যয়ের দু’একটি কারণ ভেবে বসে থাকি, অন্যান্য কারণ চিহ্নিত না করি, সকল সমস্যার সমাধান না করি তাহলে কিন্তু ভেস্তে যাবে সকল আলোচনা, সমালোচনা।


মোটকথা সুবিধাবঞ্চিত ও পাঠবিমুখ শিক্ষার্থীদের শিক্ষায় ফিরিয়ে আনা এবং শিক্ষকদের শিক্ষাদানে নিবেদিত করা ব্যতীত শিক্ষাক্ষেত্রে প্রকৃত সফলতা অর্জন অসম্ভব। শিক্ষায় সফলতা ব্যতীত দেশ ও জাতির টেকসই অগ্রগতি অন্য কোনভাবেই সম্ভব নয়। শিক্ষাক্ষেত্রে প্রকৃত সফলতা অর্জনের জন্য শিক্ষার সার্বিক পরিবেশ উন্নত করা এবং শিক্ষকদের সচ্ছলতা বৃদ্ধি করে অধিক যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ করা জরুরি। এসব কিছুর জন্যই প্রয়োজন সম্মিলিত প্রচেষ্টা। অভিভাবক, শিক্ষক, প্রশাসক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ মিলে প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে কার্যকর পরিকল্পনা। 


লেখক: অধ্যক্ষ, সাহিত্যিক ও কলামিস্ট 

Email: rahamot21@gmail.com


পত্রিকার লিংক: 

https://epaper.dainikbangla.com.bd/home/displaypage/news_2025-07-16_5_14_b