বেসরকারি শিক্ষকদের বদলি প্রসঙ্গ। দৈনিক ইত্তেফাক, ০৮ নভেম্বর ২০১৯


বেসরকারি শিক্ষকদের বদলি প্রসঙ্গ

মো. রহমত উল্লাহ্

প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০১৯

দৈনিক ইত্তেফাক

পত্রিকার লিংক

বেসরকারি শিক্ষকদের বদলি প্রসঙ্গ

নিয়োজিত কর্মীদের সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনা করে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানেই বদলি ব্যবস্থা বিদ্যমান। এই বিধানের আওতায় একই প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা এক স্থান বা অফিস থেকে অন্যস্থানে বা অফিসে ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় বদলি হয়ে থাকেন। এই বদলি নিয়ে প্রতিষ্ঠানের থাকে অনেক কাজ, কর্মীদের থাকে অনেক সন্তোষ-অসন্তোষ, থাকে অনেক তদ্বির এবং আরো অনেক অনেক না-বলা কথা। তথাপি বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ও প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে বিদ্যমান বদলি ব্যবস্থা। কেননা, নিজের সুবিধাজনক স্থানে বদলির সুযোগ পাওয়া কর্মীর অধিকার এবং প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনে বা সুবিধার্থে কর্মীকে বদলি করা প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতা। অথচ বেসরকারি শিক্ষকদের এমন বদলির কোনো সুযোগ নেই। তাই বদলির সুযোগ চেয়ে আন্দোলন করছেন বেশ কিছু এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষক। ভুক্তভোগী শিক্ষক-কর্মচারীদের কষ্ট লাঘব ও প্রতিষ্ঠানভিত্তিক শিক্ষার মানোন্নয়ন—এ দুটি বিষয় বিবেচনায় রেখে যথাশিগিগর সম্ভব সুষ্ঠু বদলি বিধি প্রণয়ন করে তা বাস্তবায়ন করা উচিত।  


বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন, আমাদের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহের বিদ্যমান অবস্থায় এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-কর্মচারী বদলির বিধানটি কেমন হলে ভালো হবে? যেখানে একটি প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য একটি প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ আলাদা, পরিচালনা কমিটি আলাদা, কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রতিষ্ঠান অংশের আর্থিক-অনার্থিক সুবিধাদি আলাদা, নিয়োগের শর্ত কম-বেশি আলাদা এবং নিয়োগকর্তাও আলাদা। সরকারি কিছু বিধিবিধান মেনে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালিত হলেও শিক্ষক-কর্মচারীদের নিয়োগ, পদোন্নতি, পদাবনতি, শাস্তি, বরখাস্ত, অবসর ইত্যাদি কার্যকর করার ক্ষমতা কিন্তু সংশ্লিষ্ট পরিচালনা কমিটির হাতেই। অপরদিকে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের নিয়োগকর্তা সরকার। সব প্রতিষ্ঠানের বেতন, ভাতা, সিপিএফ ও অন্যান্য সুবিধা সমান। পদোন্নতি ব্যবস্থা কেন্দ্রীয়। তাই সেখানে এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বদলি কার্যকর করা সম্ভব। তবুও বাস্তবায়ন হচ্ছে না তিন বছর পরপর বদলির সেই বিধান।  


বেসরকারি একেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তহবিল ও সুযোগ সুবিধা একেক রকম বিধায় এখানে শিক্ষক-কর্মচারীদের বদলির সুযোগ দেওয়া হলে কেউ কেউ যেমন নিজের এলাকায় অবস্থিত ভালো প্রতিষ্ঠানে যেতে চাইবেন তেমনি অধিকাংশই অধিক সুযোগ সুবিধা বিদ্যমান ও শহরে/অনুকূলে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার জন্য তদ্বির করবেন। একটা পদের বিপরীতে আবেদন আসবে হাজারটা। কোন বিবেচনায় গ্রহণ করা হবে কার একটি আবেদন, আর বাদ দেওয়া হবে বাকি সব? তখন হয়তো সেখানে হবে হাজারো অনিয়ম। শুরু হবে ধাক্কাধাক্কি ও ক্ষমতার অপব্যবহার। আবার কাউকে ফোর্স ট্রান্সফার দেওয়া হলে সে দায়ের করবে রিট। বলবে, আমি যে প্রতিষ্ঠানে চাকরি নিয়েছি সেই প্রতিষ্ঠানেই থাকব। নিয়োগের সময় আমাকে বদলি করা হবে এমন কোনো শর্ত ছিল না।


এসব বাস্তব অবস্থার ওপর দাঁড়িয়ে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের বদলির জন্য সর্বজন গৃহীত একটি সুষ্ঠু বিধিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা বর্তমানে প্রায় অসম্ভব। অবশ্য যখন সব বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের শতভাগ বেতন, ভাতা, বোনাস ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা সরকার প্রদান করবে এবং পরিচালনা কমিটির ক্ষমতা আরো হ্রাস করবে তখন বিষয়টি এত বেশি জটিল থাকবে না।


বর্তমানে বাধ্যতামূলক বদলির (ফোর্স ট্রান্সফারের) সুযোগ দেওয়া হলে অধিক সচ্ছল ও সুবিধাজনক প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার জন্য অধিকাংশ শিক্ষকের মধ্যে শুরু হবে অসুস্থ প্রতিযোগিতা। ফলে বেড়ে যেতে পারে অসত্ শিক্ষা কর্মকর্তাদের অবৈধ আয়। শুরু হতে পারে ক্ষমতার অপব্যবহার। অধিক যোগ্য, দক্ষ ও নিরীহদের হটিয়ে ভালো প্রতিষ্ঠানে চলে আসতে পারে তুলনামূলক কম যোগ্যরা বা সরকার দলীয়রা। তখন হয়তো বার বার বদলি হওয়ার জন্য বা বদলি ঠেকাবার জন্য আমলা, মন্ত্রী, নেতাদের কাছে ছুটতে থাকবেন শিক্ষকগণ। আর সারা বছর যদি চলমান থাকে এইরূপ অশান্তি, তো নিশ্চয়ই অনুমান করা যায় কেমন হবে প্রতিষ্ঠানিক শিক্ষার মান। এমতাবস্থায় এমপিওভুক্ত সব বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ন্যূনতম মান, শিক্ষক-কর্মচারীদের শতভাগ বেতন, ভাতা, বোনাস ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত না করে ফোর্স ট্রান্সফারের সুযোগ দেওয়া যুক্তিযুক্ত নয়।      


তবে বর্তমান বা বিদ্যমান অবস্থায়ও নিম্নরূপ নীতিমালা প্রণয়ন করে অতি সহজেই বেসরকারি শিক্ষকদের দেওয়া যেতে পারে দুই ধরনের বদলির সুযোগ।

(ক) পারস্পরিক বদলি, (মিউচুয়াল ট্রান্সফার): সমজাতীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সমপদে ও একই বিষয়ে কর্মরত ইনডেক্সধারী শিক্ষকগণ যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে এনটিআরসিএ-এর বরাবরে যে কোনো সময় আবেদন করে পারস্পরিক বদলি (মিউচুয়াল ট্রান্সফার) নিতে পারবে।


খ) স্বেচ্ছায় বদলি (উইলিং ট্রান্সফার): বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিদ্যমান শূন্য আসনে নতুন নিয়োগের আগে স্বেচ্ছায় বদলির আবেদন চেয়ে এনটিআরসিএ প্রয়োজনমতো বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে। বিজ্ঞপ্তি অনুসারে সমজাতীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সম-পদে ও একই বিষয়ে কর্মরত ইনডেক্সধারী আগ্রহী শিক্ষকগণ যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অনলাইনে চয়েজ দিয়ে আবেদন করতে করবেন। তবে কোনো প্রতিষ্ঠানে কারো চাকরি নিরবিচ্ছিন্ন ও সন্তোষজনকভাবে পাঁচ বছর পূর্ণ না হলে তিনি বদলির বা পুনঃবদলির আবেদন করতে পারবেন না। একই প্রতিষ্ঠানের একই বিষয়ে ও পদে একাধিক আবেদনকারীর মধ্যে শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, প্রশিক্ষণ, সহশিক্ষা ইত্যাদি (জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচনের নীতি অনুসারে) বিবেচনা করে অধিক পয়েন্ট প্রাপ্ত শিক্ষক অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বদলির সুযোগ পাবেন। এভাবে বদলি কার্যকর হওয়ার পর যেসব প্রতিষ্ঠানে শূন্য আসন সৃষ্টি হবে সেগুলোতে বিধিমোতাবেক নতুন নিয়োগ প্রদান করা হবে।


আগ্রহী ভুক্তভোগী শিক্ষকদের সুবিধার্থে এই দুই ধরনের বদলির সুযোগ দেওয়া হলে যেহেতু অনিয়ম ও অশান্তির সম্ভাবনা তুলনামূলক কম থাকে এবং ভালো শিক্ষকগণের ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়ার সুযোগ বা সম্ভাবনা বেশি থাকে, সেহেতু এই বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিশেষভাবে বিবেচনা করবেন আশাকরি। 


n লেখক: অধ্যক্ষ, কিশলয় বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা।


শিক্ষক কীভাবে মর্যাদাবান হবেন? দৈনিক শিক্ষা, ৫ অক্টোবর ২০২২

পত্রিকার লিংক

শিক্ষক কীভাবে প্রকৃত মর্যাদাবান হবেন


মো. রহমত উল্লাহ্ | ০৫ অক্টোবর, ২০২২। দৈনিক শিক্ষা

শিক্ষকদের অবদানকে স্মরণ করার জন্য প্রতিবছর পালিত হয়ে থাকে 'বিশ্ব শিক্ষক দিবস'। শিক্ষা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে শিক্ষকদের অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ এই দিবস পালিত হয়ে থাকে। ইউনেস্কোস্বীকৃত 'বিশ্ব শিক্ষক দিবস' শিক্ষকগণের জন্য অবশ্যই একটি মর্যাদার দিন। শিক্ষায় ও উন্নয়নে শিক্ষকদের অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ একদিন নয়, কয়েকদিন নয়, প্রতিদিনই শিক্ষকগণ সর্বাধিক মর্যাদার দাবি রাখেন। অনেকেই বলে থাকেন, শিক্ষকগণের মর্যাদা এখন আগের তুলনায় অনেক কম! প্রশ্ন হচ্ছে, শিক্ষকতা কী? শিক্ষকের প্রকৃত মর্যাদা কী? কীভাবে শিক্ষক সত্যিকারের মর্যাদাবান হবেন? শিক্ষককে মর্যাদাবান করার দায়িত্ব কার? এ সকল বিষয় শুধু বিশ্ব শিক্ষক দিবসেই নয়, প্রতিদিনই গভীরভাবে ভেবে দেখা, আলোচনা করা ও পর্যালোচনা করা উচিত।


মানবসন্তানকে মানুষে পরিণত করার ঐকান্তিক তপস্যা হচ্ছে শিক্ষকতা। তাই পৃথিবীর সব দেশেই শিক্ষকের প্রকৃত মর্যাদা তুলনামূলক সর্বাধিক। সামষ্টিক বিবেচনায় যে কোনো পেশার তুলনায় শিক্ষকতা অধিক সম্মানজনক। কারণ শিক্ষকতা মূলত একটি ব্রত। তাই প্রতিটি সমাজেই পেশাদার শিক্ষকের পাশাপাশি অগণিত অপেশাদার শিক্ষক বিদ্যমান। শুধু পেশা হিসেবে শিক্ষকতায় পূর্ণ সফলতা নেই, পরিপূর্ণ পরিতৃপ্তি নেই। শিক্ষাদান হচ্ছে অতি উত্তম পূণ্য কর্ম। মহান সৃষ্টিকর্তা নিজেই প্রধান শিক্ষক। বিভিন্ন ধর্মের প্রবর্তকগণ ছিলেন উৎকৃষ্ট শিক্ষক। অর্থাৎ উৎকৃষ্ট মানবেরাই উৎকৃষ্ট শিক্ষক। উৎকৃষ্ট মানব তথা উৎকৃষ্ট শিক্ষকের মর্যাদাও উৎকৃষ্ট। শিক্ষক ছাড়া কোনো সমাজ নেই। সব মানুষেরই শিক্ষক আছেন। যে সমাজের শিক্ষক যত বেশি উৎকৃষ্ট, সে সমাজের মানুষ তত বেশি উৎকৃষ্ট। 


বর্তমান বাস্তবতায় উৎকৃষ্ট শিক্ষকের সংখ্যা অনেকটা রাষ্ট্রীয় মর্যাদার ওপর নির্ভরশীল। যে দেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে শিক্ষকের সম্মান ও সম্মানী বেশি, সে দেশে উৎকৃষ্ট শিক্ষকের সংখ্যা বেশি। যে দেশে উৎকৃষ্ট শিক্ষকের সংখ্যা বেশি, সে দেশে উৎকৃষ্ট নাগরিকের সংখ্যাও বেশি। উৎকৃষ্ট নাগরিক তৈরির লক্ষ্যে শিক্ষকের সম্মান ও সম্মানী সর্বাধিক নির্ধারণ করা কল্যাণ রাষ্ট্রের দায়িত্ব। শিক্ষকের সার্বিক মর্যাদা তথা সম্মান ও সম্মানী সর্বাধিক হলেই সর্বাধিক যোগ্য লোক শিক্ষক হন। এটিই বর্তমান বাস্তবতায় স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। রাষ্ট্রের সর্বত্র ন্যায়-নীতিপরায়ণ যোগ্য লোক নিশ্চিত করার পূর্বশর্ত হচ্ছে শিক্ষক হিসেবে সর্বাধিক ন্যায়-নীতিপরায়ণ যোগ্য লোক নিশ্চিত করা। কোনো রাষ্ট্র যদি তা করতে ব্যর্থ হয় বা অনীহা দেখায় তো সেই রাষ্ট্রের নাগরিকদের সততা, সভ্যতা, যোগ্যতা ও দক্ষতা অনিশ্চিত। তাই শিক্ষকের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধির দায়িত্ব রাষ্ট্রকেই নিতে হয়।


সামাজিক বা রাষ্ট্রীয়ভাবে শিক্ষকের মর্যাদা যতই ওপরে নির্ধারণ করা হোক না কেন, শিক্ষক নিজে উৎকৃষ্ট না হলে তা বজায় রাখা অসম্ভব। শিক্ষক নিজে নিকৃষ্ট হলে মর্যাদা ভূলুণ্ঠিত হয়। মর্যাদা বা ঘৃণা মানুষের অন্তর্নিহিত বিষয়। সদা সর্বদা এটির বহিঃপ্রকাশ নাও ঘটতে পারে। শিক্ষক উৎকৃষ্ট হলেই মানুষের কাছে বৃদ্ধি পায় তাঁর প্রকৃত মর্যাদা। যে শিক্ষক যত বেশি উৎকৃষ্ট সে শিক্ষকের প্রকৃত মর্যাদা তত বেশি। 


দাপট প্রদর্শন ও শ্রদ্ধা অর্জন এক নয়। দাপটে প্রকৃত মর্যাদা নেই, শ্রদ্ধায় প্রকৃত মর্যাদা আছে। যে শিক্ষক তার শিক্ষার্থীকে যত বেশি সুশিক্ষা প্রদান করতে সক্ষম, সে শিক্ষক তত বেশি শ্রদ্ধা অর্জন করতে সক্ষম। শিক্ষকের জ্ঞানের গভীরতায় ও দক্ষতার উচ্চতায় বিস্তৃত থাকে শিক্ষার্থীর শ্রদ্ধাবোধ। শিক্ষার্থীর মনে শিক্ষকের একটা চিত্র অঙ্কিত হয়। সেই চিত্রটি যত উত্তম হয় শিক্ষার্থী তত শ্রদ্ধাশীল হয়। 


শিক্ষকের চিন্তা-চেতনা, চলা-বলা ও কাজ-কর্মের প্রতিফলন ঘটে শিক্ষার্থীর মনে। শিক্ষক উত্তম চিন্তা ও কর্ম করতে ব্যর্থ হলে উত্তম মানুষ তৈরি করতে ব্যর্থ হন। সমাজ ও রাষ্ট্রে উত্তম মানুষের অভাব হলেই শিক্ষকের মর্যাদার অভাব হয়। উত্তম মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেই শিক্ষকের মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। এই উত্তম মানুষ তৈরির দায়িত্ব শিক্ষকের। যিনি শিক্ষক তিনি কোনোভাবেই অবহেলা করতে পারেন না এই দায়িত্বে। কেননা শিক্ষকতা একটি ব্রত। নিয়োগপত্র পেলেই শিক্ষক হওয়া যায় না, শিক্ষক হয়ে উঠতে হয়। 


উল্লিখিত আলোচনা গভীরভাবে উপলব্ধি করে, পর্যালোচনা করে, প্রত্যেকেই নিজেকে মূল্যায়ন করে দেখা উচিত শিক্ষকের মর্যাদা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে আমার ভূমিকা কতটুকু? নিজে একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আমি যদি আমার শিক্ষককে সদা সর্বদা যথাযথ শ্রদ্ধা করি, যে সকল শুভ কারণে আমি আমার প্রিয় শিক্ষককে অধিক শ্রদ্ধা করি, নিজে শিক্ষক হয়ে তেমন হবার জন্য যদি আন্তরিক চেষ্টা করি; সাধারণ নাগরিক হিসেবে সমাজের শিক্ষকগণের প্রতি যদি আমি পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল থাকি। সমাজের নেতা হয়ে, জনগণের প্রতিনিধি হয়ে, রাষ্ট্রের আমলা হয়ে, রাষ্ট্রপতি হয়ে, সরকারের মন্ত্রী হয়ে আমি যদি নিজের তুলনায় শিক্ষককে অধিক মর্যাদাবান ভাবি এবং শিক্ষকগণের আর্থিক ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য যদি আন্তরিক থাকি; তবেই প্রতিষ্ঠিত হবে শিক্ষকগণের প্রকৃত মর্যাদা, সফল হবে শিক্ষক দিবস উদযাপন। 


লেখক : মো. রহমত উল্লাহ্, সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক ও শিক্ষাবিদ, অধ্যক্ষ -কিশলয় বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা।